kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

ঘরে ঘরে টিভি পৌঁছে দেবে মিনিস্টার হাইটেক পার্ক

এম এ রাজ্জাক খান রাজ, চেয়ারম্যান, মিনিস্টার মাইওয়ান গ্রুপ, পরিচালক, এফবিসিসিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘরে ঘরে টিভি পৌঁছে দেবে মিনিস্টার হাইটেক পার্ক

দেশি ব্র্যান্ড মাইওয়ান গ্রুপ ২০০২ সালে সর্বপ্রথম সাদাকালো টেলিভিশন দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু করে। সেই সময়েই প্রতিষ্ঠানটি প্রথম সাত বছরের গ্যারান্টি দিয়ে টেলিভিশন বাজারে নিয়ে আসে। এরপর ২০১৩ সালে মিনিস্টার হাইটেক পার্ক তাদের যাত্রা শুরু করে। সেখানেই নিত্যনতুন সব প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সব পণ্য বাজারে নিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানটি। টেলিভিশন জগতে বড় পরিবর্তন আসে যখন এলসিডি টেলিভিশন বাজারে আসে। মিনিস্টার হাইটেক পার্ক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারে এলসিডি টেলিভিশনের প্রচলন করে। এর পরপরই বাজারের নতুন চাহিদা হয়ে ওঠে এলইডি টেলিভিশন, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে বিভিন্নরূপে। যেমন—ফোরকে, অ্যানড্রয়েড এবং বর্তমানে স্মার্ট টেলিভিশন। দেশি টেলিভিশন বাজার নিয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা বলেছেন মিনিস্টার মাইওয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক এম এ রাজ্জাক খান রাজ। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দেশের ঘরে ঘরে টিভি পৌঁছে দেওয়া।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী টেলিভিশন তৈরির চেষ্টা করেছি, যা থাকবে ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। আমাদের টেলিভিশন পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়েছে। আমরা ব্যবহারকারীর চোখের সুরক্ষার জন্য বাজারে নিয়ে এসেছি আই প্রটেক্টিভ টেলিভিশন। এই প্রযুক্তি টেলিভিশন থেকে বের হওয়া ক্ষতিকর রশ্মি রোধ করে চোখের সুরক্ষা দেবে। এ ছাড়া বজ পাত থেকে টেলিভিশনকে রক্ষা করার জন্য রয়েছে থান্ডার প্রটেক্টিভ টেলিভিশন।’

মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপ টিভির বাজারের ৩০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে বলে জানালেন এম এ রাজ্জাক খান রাজ। তিনি বলেন, ‘মিনিস্টারের পণ্যের চাহিদা ক্রেতাদের কাছে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। তবে মহামারি করোনার কারণে বাজারে কিছুটা কমে যায় এ বছর। তাই বিক্রির হার কিছুটা কমেছে এ বছর। এর পরও আশা করছি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হবে এ বছর। কারণ করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিনিস্টারের পণ্যের চাহিদা প্রচুর বেড়েছে।’

বাজারে মিনিস্টার হাইটেক পার্কের বর্তমানে ৩৫টি মডেলের টেলিভিশন আছে। এলইডি ও স্মার্ট এলইডি দুই ক্যাটাগরির টেলিভিশন আছে মিনিস্টারের। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ টেলিভিশন হচ্ছে স্মার্ট এলইডি, অন্যগুলো সাধারণ এলইডি। সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম মিনিস্টারের টেলিভিশনের। টেলিভিশন ব্যবহারকারীর চোখের সুরক্ষা দিতে মিনিস্টার হাইটেক পার্ক বাজারে এনেছে ‘আই প্রটেক্টিভ টেলিভিশন’।

বছরে উৎপাদন সক্ষমতা জানতে চাইলে মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট ৮০ হাজার টেলিভিশন উৎপাদন করতে সক্ষম। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির ও কাঁচামালের স্বল্পতার কারণে এই উৎপাদনক্ষমতা ৬০ হাজারে নেমে এসেছে। আশা করছি আমরা কিছুদিনের ভেতরেই আগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেতে সক্ষম হব।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে এম এ রাজ্জাক খান রাজ বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য দেশের বাজারের টেলিভিশনের চাহিদা পূরণ করা এবং এটি করার পর আমাদের লক্ষ্য বিদেশের মাটিতে পা রাখা। আমরা দেশের বাজারের এক নম্বর স্থান দখলের পাশাপাশি বিদেশেও সুনাম অর্জন করতে চাই। আমার স্বপ্ন মিনিস্টার গ্রুপ একটি দেশীয় মাল্টিন্যাশনাল হিসেবে একদিন আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা