kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার
বিশ্ববাজারে ১০ লাখ টিভি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা

ওয়ালটন টিভির চাহিদা বেড়েছে ১০ গুণ

প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন, সিইও, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (টেলিভিশন)

মাসুদ রুমী   

২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ওয়ালটন টিভির চাহিদা বেড়েছে ১০ গুণ

বিশ্ববাজারে ১০ লাখ টেলিভিশন (টিভি) রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে ওয়ালটন। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ২৫টি দেশে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত টেলিভিশন রপ্তানি করেছে দেশীয় এই ব্র্যান্ড। সম্প্রতি গ্রিস, পোল্যান্ড, ডেনমার্ক, ক্রোয়েশিয়া, আয়ারল্যান্ড, জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের কাজ করছে ওয়ালটন। শিগগিরই স্পেন ও ইতালিতে টেলিভিশন রপ্তানি করা হবে বলে জানালেন ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (টেলিভিশন) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, করোনা মহামারির মধ্যেও বৈদেশিক বাজারে ওয়ালটন টিভির চাহিদা বেড়েছে ১০ গুণ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টেলিভিশন উৎপাদনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে।

ওয়ালটন ১৯৯৭ সালে সিআরটি টিভি আমদানির মাধ্যমে প্রথম টেলিভিশন বাজারে প্রবেশ করে। পরে দেশের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে ২০০৭ সালে নিজস্ব কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে দেশেই বাণিজ্যিকভাবে টেলিভিশন উৎপাদন শুরু করে, যা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। গাজীপুরের চন্দ্রায় স্থাপিত ওয়ালটনের টিভি কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা আছে ১২ লাখ টেলিভিশন। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির মোট উৎপাদন ছিল সাত লাখ ইউনিট।

প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন বলেন, ‘টেলিভিশন রপ্তানির মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের পরিচয় সমুজ্জ্বল করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে ওয়ালটন। বর্তমানে এক মিলিয়ন ইউনিট টেলিভিশন রপ্তানির টার্গেট নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এতে দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আসবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি ঘরে স্বল্পমূল্যে বিশ্বমানের টেলিভিশন পৌঁছে দিয়ে ওয়ালটনকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি ব্র্যান্ডের একটি হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি আমরা।’

টিভির বাজারে নিজেদের মার্কেট শেয়ার সম্পর্কে জানতে চাইলে ওয়ালটন টিভির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশে টেলিভিশনের প্রায় ৩৬ শতাংশ মার্কেট শেয়ার ওয়ালটনের। গত বছর ওয়ালটন টিভির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৮৫ শতাংশ। বৈদেশিক বাজারেও ওয়ালটন টেলিভিশনের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের টিভির চাহিদা বেড়েছে ১০ গুণ।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারিকালেও টিভি বিক্রিতে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। তাই আশা করি, আমাদের প্রবৃদ্ধির হারও গত বছরের মতোই থাকবে। আগামী বছর ৬৫ ও ৭৫ ইঞ্চি টিভি আনার পরিকল্পনা আমাদের আছে।’

বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটনের বিভিন্ন সাইজের প্রায় ৩৭টি মডেলের টেলিভিশন আছে। এই টেলিভিশনগুলো বেসিক, স্মার্ট, স্মার্ট ভয়েস কন্ট্রোল এবং সর্বনিম্ন আট হাজার ৯০০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৯ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত দাম। সম্প্রতি ওয়ালটন বেশ কিছু নতুন মডেলের টিভি বাজারে নিয়ে এসেছে, যেমন—স্মার্ট ভয়েস কন্ট্রোল, অ্যানড্রয়েড, গ্লাস টিভি, ফোরকে ইএলইডি টিভি।

ওয়ালটন টেলিভিশনের বিশেষত্ব জানতে চাইলে প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন, ‘ওয়ালটন টেলিভিশনে সংযুক্ত হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী টেলিভিশনটি বাংলা ও ইংরেজি ভাষার কমান্ডে সম্পূর্ণভাবে কন্ট্রোল করতে পারবেন। টিভির ব্যাকলাইট ইউনিটে যুক্ত করা হয়েছে কেএসএফ কোটেড এলইডি বার, যা ডিসপ্লে কালারকে সাত গুণ বাড়িয়ে দেয় জীবন্ত ছবি। ওয়ালটন টিভিতে ব্যবহার করা হচ্ছে এন৪৫/এন৪৮ গ্রেডেড ম্যাগনেট স্পিকার, যা আইডেনটিক্যাল, মিডরেঞ্জ ও হাইরেঞ্জ বেইস সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। ডাইনামিক রেঞ্জ কম্প্রেশন (ডিআরসি) সুইফটনেস ও সুইফটফ্লো নিশ্চিত করে এবং ক্রস টক সাউন্ড টেকনোলজির সঙ্গে ইলেকট্রোঅ্যাকুস্টিক স্পিকার ডিজাইনের ফলে শব্দের প্রকৃত বিট ও ছন্দ উপভোগ করা যায়। ওয়ালটন টেলিভিশনে আছে হাইভোল্টেজ প্রটেকশন এবং এটি ৩৫ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী।

তিনি বলেন, ‘ওয়ালটন বাংলাদেশের একমাত্র গুগল অ্যানড্রয়েট টিভির লিস্টেড পার্টনার এবং প্রথম ডলবি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ম্যানুফ্যাকচারিং টেলিভিশন। আগামী বছর থেকে আমরা ডলবির সাউন্ড বারসহ বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির সাউন্ড সিস্টেম বাজারে আনব।’

মোস্তফা নাহিদ হোসেন বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় আরঅ্যান্ডডি (গবেষণা ও উন্নয়ন) ইউনিট ওয়ালটনের। তাই আমরা এখানে দেশীয় প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে আসছি। আমরা নিজস্ব কারখানায় দেশীয় চাহিদা উপযোগী টিভি উৎপাদন করছি, যা জনপ্রিয়তা সক্ষম।’

তিনি বলেন, অন্যান্য ব্র্যান্ড পুরো মহাদেশের কথা মাথায় রেখে টিভি তৈরি করলেও ওয়ালটন বাংলাদেশের পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই টিভিগুলো তৈরি করে থাকে। কোন এলাকায় ভোল্টেজ সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তার ওপর কাজ করে ওয়ালটনের আরঅ্যান্ডডি টিম। ম্যানুফ্যাকচারিং করার সময় এই ডাটাগুলোর ওপর গবেষণা করে টিভি তৈরি করে ওয়ালটন।

ওয়ালটন হাইটেকের (টেলিভিশন) সিইও বলেন, টেলিভিশন এখন আর শুধু বিনোদন নয়, তথ্য ও শিক্ষারও বড় মাধ্যম। করোনা মহামারিতে ক্লাস থেকে শুরু করে জুম মিটিংও টিভিতে হচ্ছে। তাই দেশে টেলিভিশন উৎপাদনে আরো নীতি সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে রপ্তানিতে অন্তত ৩০ শতাংশ নগদ সহায়তা দিলে টেলিভিশন রপ্তানি অনেক বাড়বে।

ওয়ালটনের যেকোনো মডেলের টেলিভিশন কিস্তি ও ক্রেডিট কার্ডে কেনার সুবিধা রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডে টিভি কিনলে ১২ মাস পর্যন্ত শূন্য শতাংশ ইন্টারেস্টে ইএমআই সুবিধা। কিস্তিতে ছয় মাস পর্যন্ত ইন্টারেস্ট ফ্রি। বিক্রয়োত্তর সেবার ক্ষেত্রে ওয়ালটন টেলিভিশনে রয়েছে চার বছর পর্যন্ত প্যানেল গ্যারান্টি। মাদারবোর্ড ও হার্ডওয়্যারে দুই বছর ওয়ারেন্টি। এ ছাড়া রয়েছে পাঁচ বছর পর্যন্ত বিক্রয়োত্তর সেবা। সারা দেশে চলছে ওয়ালটনের টিভি এক্সচেঞ্জ মেলা। এর আওতায় সারা দেশে অসংখ্য গ্রাহক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পুরনো সচল ও অচল টিভি বদলে ওয়ালটনের নতুন এলইডি টিভি কিনেছেন বলে জানালেন মোস্তফা নাহিদ হোসেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা