kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

৩০০ কোটি টাকা আমানত এসেছে উপশাখা থেকে

কাজী ওসমান আলী, এমডি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৩০০ কোটি টাকা আমানত এসেছে উপশাখা থেকে

উপশাখা ব্যাংকিং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতিকে আরো একধাপ এগিয়ে নেবে বলে জানিয়েছেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী ওসমান আলী। তিনি বলেন, উপশাখার মাধ্যমে কম খরচে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাংকের সেবা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব জায়গায় নতুন শাখা খোলা সম্ভব নয়, অথচ মানুষের ব্যাংকিং সেবা প্রয়োজন সেখানে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক উপশাখা খুলে সর্বস্তরের মানুষের কাছে এই সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। এতে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাহক, বাড়ছে আমানত। ফলে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার নতুন সম্ভাবনা হয়ে উঠছে উপশাখা। সম্প্রতি কালের কণ্ঠের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

কাজী ওসমান আলী বলেন, উপশাখা হলো ব্যাংকের শাখার আদলে ছোট পরিসরের ব্যবসাকেন্দ্র। ব্যাংকের কোনো পূর্ণাঙ্গ শাখার নিয়ন্ত্রণে এটি পরিচালিত হয়। উপশাখায় সর্বোচ্চ ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। তবে কোনো কোনো উপশাখা তিন-চারজন কর্মকর্তাও চালাচ্ছেন। কম লোকবল ও সাজসজ্জার কারণে খরচও কম। এর ফলে ব্যাংকগুলো উপশাখা স্থাপনে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে।

উপশাখা ব্যাংকিংয়ের ধারণাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অল্প ব্যয়ে ব্যাংকিং সেবা মানুষের নাগালে পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গত ডিসেম্বর ২০১৮ বুথভিত্তিক ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে। পরবর্তী সময়ে এই ব্যাংকিং বুথকে উপশাখায় নামকরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, উপশাখা থেকে বৈদেশিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম ছাড়া সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকরা যেমন আমানত রাখতে পারেন তেমনি বিনিয়োগও নিতে পারেন এসব উপশাখা থেকে। ব্যাংকের একটি শাখার মতো উপশাখাতেও গ্রাহকরা তাঁদের সুবিধামতো ডিপিএসসহ বিভিন্ন মেয়াদি আমানত রাখতে পারেন। পাশাপাশি শিল্প, কৃষি, বাণিজ্য, পরিবহন, স্থাবর সম্পত্তি, গৃহনির্মাণ ইত্যাদি খাতসহ এসএমই, ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্প খাতের জন্য বিনিয়োগ নিতে পারেন। তা ছাড়া চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, ভূমির মালিক এসআইবিএলের উপশাখা থেকে ইসলামিক কনজ্যুমার ফাইন্যান্স, অটো ফাইন্যান্স, হোম ফাইন্যান্স ইত্যাদি সেবা খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারেন। অর্থাৎ শাখার মতোই গ্রাহকরা উপশাখা থেকেও একই সুবিধা পাচ্ছেন।

গ্রাহকদের সাড়া পাচ্ছেন কেমন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসমান আলী বলেন, ‘উপশাখার মাধ্যমে খুব সহজে গ্রাহকরা ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছেন। আমরা গ্রাহকদের অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি। গত মে ২০১৯-এ আমরা প্রথম উপশাখা চালু করেছি। এ পর্যন্ত ৫৪টি উপশাখা খুলে গ্রাহক সেবা দিচ্ছি। এসব উপশাখার মাধ্যমে ৩৫ হাজার গ্রাহকের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আমানত সংরক্ষিত আছে।’

এজেন্ট ব্যাংকিং ও উপশাখার মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালিত হয় ব্যাংক থেকে নিয়োজিত এজেন্টের মাধ্যমে আর উপশাখা পরিচালিত হয় সরাসরি ব্যাংকের একটি শাখার মাধ্যমে। উভয়টিই ব্যাংকের নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করে। তবে উপশাখা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের চেয়েও সহজ। কারণ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে এজেন্টদের কমিশন দেওয়ার একটা ব্যাপার থাকে। কিন্তু উপশাখায় সেটা নেই।

উপশাখায় ব্যাংকিং শাখার মতো সম্পূর্ণ নিরাপদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাখার মতো উপশাখাগুলোরও ক্যাশ ইন ট্রানজিট, ক্যাশ অন কাউন্টার এবং ক্যাশ ইন সেফ সম্পূর্ণ বীমা আচ্ছাদনে আনা হয়। উপশাখা খোলার সময় থেকেই এগুলো বীমার আওতায় থাকে। এ ছাড়া উপশাখা শাখার মতোই কাজ করে বলে বিভিন্ন সেবার চার্জ, ফি, কমিশন ইত্যাদি শাখার মতোই হয়। আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে উপশাখা কতটা ভূমিকা রাখছে এমন প্রশ্নের জবাবে এমডি বলেন, ‘ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে এর আগে মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং ইত্যাদি সেবা চালু হয়, যা এরই মধ্যে বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। উপশাখাগুলো পরিচালিত হচ্ছে সরাসরি নিকটবর্তী ব্যাংক শাখার অধীনে। উপশাখায় বৈদেশিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম ছাড়া আমানত, বিনিয়োগসহ সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা মিলছে। কম খরচে ব্যাংকিং সেবা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাহক, বাড়ছে আমানত।’

উপশাখা সম্প্রসারণে চলতি বছর ব্যাংকের কী ধরনের পরিকল্পনা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ৫৪টি উপশাখা রয়েছে। এ বছর আমাদের উপশাখা খোলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০০টি, মহামারি কভিডের কারণে উপশাখা খোলা কিছুটা শ্লথ হয়েছে। এ বছর আমরা আরো ২০টি উপশাখা খুলতে পারব। সামনের সময়গুলোতেও এসআইবিএলের উপশাখা আরো বিস্তার লাভ করবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা