kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

যন্ত্রপাতি মেরামত ও অতিরিক্ত জনবল কমালে কারখানার উৎপাদন ব্যয় কমবে

চিনিকলের দুর্দশা কাটাতে গুচ্ছ উদ্যোগ

উন্নতমানের আখ ব্যবহারের তাগিদ

ফারজানা লাবনী   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চিনিকলের দুর্দশা কাটাতে গুচ্ছ উদ্যোগ

চিনি উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে আখের পাশাপাশি সুগার বিট ও র সুগার ব্যবহার করা হলে সারা বছর উৎপাদনে থাকবে সরকারি ১৫ চিনিকল। বহু পুরনো যন্ত্রপাতি মেরামত ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলে এসব কারখানার উৎপাদন ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে আখে চিনি আহরণের মাত্রাও ৮ শতাংশের ওপরে আসবে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য-বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বছরের পর বছর লোকসানে থাকা সরকারি চিনিকল লাভে ফিরবে। চিনিকলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অর্থনীতিবিদরা একই মত জানিয়েছেন।  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদের আগের মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পরই এসব উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি চিনিকলের বয়লার ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মোলাসেস থেকে ইথানল, বায়োগ্যাস এবং সার উৎপাদনের উদ্যোগ নিতেও বলেন।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নর্থ বেঙ্গল ও ঠাকুরগাঁও চিনিকলের পুরনো যন্ত্রপাতি মেরামত এবং নতুন যন্ত্রপাতি কেনার পাশাপাশি এসব কলে বিদ্যুৎ কো-জেনারেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নিজস্ব কারখানায় ব্যবহারের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। এই দুই কারখানায় মোলাসেস থেকে ইথানল বানানো হবে, বায়োগ্যাস উৎপাদন হবে। এর সঙ্গে সার বানানো হবে। এসব সার আখ ও সুগার বিট উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে। সুগার বিট ‘চিলার স্টোরেজ’ নির্মাণ করে সংরক্ষণ করা হবে, যা বিভিন্ন চিনিকলে চাহিদামতো সারা বছর সরবরাহ করা হবে। ওজনে কারচুপি রোধে ডিজিটাল মেশিন ব্যবহার করা হবে। পাওনা পরিশাধে ব্যাপকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে চিনিকলের আধুনিকায়ন সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ২০ জুলাই সুগার বিট ব্যবহারে চিনি উৎপানের জন্য সব চিনিকলে ডুয়েল সিস্টেম মেশিনারি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন চিনিকলে এসব আধুনিক পদ্ধতি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও চিনিকলের আধুনিকায়নে ৪৮৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এ জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। প্রকল্পে গত জুলাই পর্যন্ত ব্যয় হয় এক কোটি সাত লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান সনৎ কুমার সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিনিকলের আধুনিকায়নে থাইল্যান্ডের একটি বিশেষজ্ঞ দল সরকারি চিনিকলগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছে। এখন মূল্যায়ন করে রিপোর্ট জমা দেবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন চিনিকল আধুনিকায়ন করা হবে। আমি আশা করছি, আগামী অর্থবছরে এসব পরিকল্পনার বড় অংশ বাস্তবায়িত হবে। এতে চিনি উৎপাদন কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলেও মনে করি।’    

আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে লোকসানি সরকারি চিনিকল বন্ধে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জোরালো সুপারিশ করা হয়। তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এসব কারখানা লাভজনক করতে আরেক দফা সময় দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আছে আবেদন জানান। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কারখানাগুলো সচল রাখা হয়।

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে সরকারি ১৫ চিনিকল লাভজনক করা সম্ভব বলে উলেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সমীক্ষায় প্রকাশিত ‘সরকারি চিনিকলের আর্থিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সরকারি চিনিকলে প্রয়োজনের তুলনায় শ্রমিক ও জনবল বেশি। এতে ব্যয় বাড়ছে, পুরনো যন্ত্রপাতিতে উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। তাই যন্ত্রপাতি মেরামত ও অতিরিক্ত জনবল কমাতে হবে। একই সঙ্গে উন্নতমানের আখ ব্যবহারের পাশাপাশি দক্ষ ব্যবস্থাপনায় নজর দিতে হবে। আর্থিক অব্যবস্থাপনা দূর করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এসব ব্যয় কমানো হলে সরকারি লোকসানি চিনিকলগুলো লাভজনক হবে।’

গবেষণায় আরো বলা হয়, ‘চিনিকলগুলো পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতায় সারা বছর চালু রাখতে আগাম ও নাবি—উভয় জাতের আখ চাষ করতে হবে। আখে চিনির মাত্রা ৮ শতাংশের বেশি আহরণে মাঠ থেকে দ্রুত আখ সংগ্রহ করে নির্ধারিত জায়গায় নিতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা