kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

১৪ কোটি টাকা মুনাফা কেরুর

হাবিবুর রহমান, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৪ কোটি টাকা মুনাফা কেরুর

চিনি উৎপাদন বিভাগে ৭০ কোটি ৭৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা লোকসান হলেও তা পুষিয়ে দিচ্ছে অন্য বিভাগগুলো। ফলে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা কেরু চিনিকল সরকারকে রাজস্ব দিয়েও মুনাফা করছে।

বরাবরের মতো গত অর্থবছরেও এই চিনিকলে মুনাফা হয়েছে ১৫৩ কোটি টাকা। সরকারের রাজস্ব খাতায় ৬৫ কোটি জমা দিয়েও মিলের তিনটি বিভাগের ৭৫ কোটি টাকা লোকসান পুষিয়ে মূল মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। কলটি আরো লাভজনক করতে নেওয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য করপোরেশন থেকে প্রতিবছরের আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়ে থাকে। ২০১৮-১৯ রোপণ মৌসুমে যেমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি তেমনি মাড়াইয়ের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ৯০ মাড়াই দিবসে সাত হাজার ৩৭৫ একর জমির আখ মাড়াই করে ৮০২৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। ফলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে কেরুজ চিনি কারখানায় লোকসান গুনতে হয়েছে ৭০ কোটি ৭৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন মজুদের সঙ্গে ২০১৯-২০ অর্থবছরের উৎপাদিত পাঁচ হাজার ১৪৩ মেট্রিক টন যোগ হয়। বর্তমানে চলতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত মিলটিতে চিনি মজুদ আছে চার হাজার ৫৪৮ মেট্রিক টন। যার মূল্য ২৭ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে চিনি কারখানায় লোকসান হয়েছে ৭০ কোটি ৭৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

চিনিকলের ৯টি খামার থাকলেও প্রতিবছরই লোকসান গুনতে হয় ওই সব খামার থেকে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯টি খামারে লোকসান গুনতে হয়েছে চার কোটি ২২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোং-এর পাঁচটি বিভাগের মধ্যে চিনি, সার ও খামারে লোকসান হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এদিকে মুনাফা অর্জিত হয়েছে ডিস্টিলারি ও বায়োফার্টিলাইজার বিভাগ থেকে। ৪৮ লাখ ৬৬ হাজার প্রুপলিটার দেশি ও বিদেশি মদ উৎপাদন করে। ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে মুনাফা অর্জন হয়েছে ১৫৩ কোটি টাকা। বায়োফার্টিলাইজারে ভিনেগার উৎপাদনে মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৩২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনে এক কোটি দুই লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে।

সর্বমোট মুনাফা অর্জন থেকে ওই অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব খাতে ভ্যাট ও শুল্ক খাতে জমা দিতে হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট মুনাফার ৮৮ কোটি ৩৯ লাখ ২৯ হাজার টাকার মধ্যে চিনি, খামার ও সার কারখানার লোকসান পোষানো হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সরকারের রাজস্ব দিয়ে, তিনটি বিভাগের লোকসান পুষিয়েও ২০১৯-২০ অর্থবছরে মূল মুনাফা করেছে ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

কেরু চিনিকলের মহাব্যবস্থাপনা পরিচালক (কৃষি) গিয়াস উদ্দীন বলেন, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কেরু অ্যান্ড কোং। সব ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে কেরুজ চিনিকলের। কেরু অ্যান্ড কোং-এর কোনো সময় লোকসান গুনতে হয় না। চিনি, সার ও খামারে লোকসান হলেও ডিস্টিলারি ও বায়োফার্টিলাইজার বিভাগ থেকে তা পুষিয়ে ও সরকারের রাজস্ব দেওয়ার পরও এবার প্রায় ১৪ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন হয়েছে। চিনিকলটি দীর্ঘদিনের ঝরাজীর্ণ হওয়ায় উৎপাদনের চেয়ে খরচ বেশি হয়ে থাকে। ফলে আখ থেকে পুরো রস বের হয় না সে কারণে চিনি উৎপাদন কমে যায়। এ ছাড়া আখ চাষের সঙ্গে ভুট্টা চাষ করার কারণে আখের রস কম হয়ে থাকে। খামারের লোকসানের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, খামারগুলোতে অতিরিক্ত লোকবল থাকায় সেখানে বাড়তি ব্যয় হচ্ছিল। সেখান থেকে ৭০ থেকে ৮০ জন পাহারাদার ছাঁটাই করা হয়েছে। খামারগুলোতে নিজেদের তত্ত্বাবধানে চাষাবাদ করা হচ্ছে। আগামীতে এখান থেকে আর লোকসান হবে না। আশা করা হচ্ছে, আগামী অর্থবছরে এখান থেকেও মুনাফা আসবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা