kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

চিনিকল আধুনিকায়নে জোর দিতে হবে

ফারজানা লাবনী   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিনিকল আধুনিকায়নে জোর দিতে হবে

মির্জ্জা আজিজুুল ইসলাম

সরকারের ১৫টি চিনিকল বছরের পর বছর লোকসানে আছে। সারা বছরের উৎপাদনে থেকে লাভজনকভাবে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব হলে দেশের চিনি চাহিদার পুরোটা সরবরাহ করা সম্ভব হবে। দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানিও করা যাবে। যদিও সরকার চিনিকলগুলো মুনাফায় আনতে কাজ করে যাচ্ছে। লোকসান কাটিয়ে তোলা সম্ভব না হলে চিনিকলগুলো সরকারের জন্য বোঝা হয়ে যাবে। এ বিষয়ে শুধু সরকারকে একা দায়িত্ব নিলে হবে না। চিনিকলে কর্মরতদেরও বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে তবেই চিনিকলগুলো লাভজনক হবে। শুধু কাঁচামাল জোগাড় করলে হবে না, কারখানায় আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি চিনিকলগুলো নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুুল ইসলামের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, সরকারি প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান অদক্ষতা অথবা দুর্নীতির কারণে লোকসানে আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ব্যয় মেটানোর জন্য সরকারকে নিজস্ব তহবিল থেকে ভর্তুকি এবং তথাকথিত ঋণ দিতে হয়। এই ঋণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করেছে এমন নজির খুব একটা দেখা যায় না। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারীকরণ অথবা অন্য কোনো পন্থায় লাভজনক প্রতিষ্ঠানে কিভাবে রূপান্তর করা যায় তার একটি রূপরেখা করতে হবে। এই রূপরেখায় মাসিক, বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা থাকবে। এসব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে কঠোর হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সরকারকে আরো গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠান কিভাবে লাভজনক করা যায় তা নিয়ে বেসরকারি ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা নিতে হবে।

চিনিকলের আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কল বছরের সাত-আট মাস বন্ধ থাকে আখের স্বল্পতায়। আখ হলো কারখানার কাঁচামাল। আখ যদি না পাওয়া যায় তবে কিভাবে চিনিকলগুলো উৎপাদনমুখী রাখা সম্ভব হবে? এ জন্য কাঁচামালের অভাব দূূর করতে কৌশল নিতে হবে। আখের বিকল্প জোগাড় করতে হবে। শুধু কাঁচামাল জোগাড় করলে হবে না, কারখানায় আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করতে হবে। এতে চিনিকলের খরচ কমে যাবে। একদিকে মুনাফায় আনতে কৌশল নিতে হবে, অন্যদিকে খরচ কমাতে হবে। এই দুই পদক্ষেপ একই সঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে চিনিকলগুলো দ্রুত লাভজনক করা সম্ভব হবে। তা না হলে বছরের পর বছর লোকসানে থাকতে থাকতে একসময়ে সরকার নিরুপায় হয়ে সরকারি পাটকলের মতো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। এতে অনেক লোক কর্মহীন হয়ে পড়বে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা