kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

মোবারকগঞ্জ সুগার মিল

২১ কোটি টাকার চিনি অবিক্রীত

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে চলছে চরম দৈন্যদশা। মিলের গুদামঘরে ২১ কোটি টাকার চিনি অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। এ ছাড়া মিলের ট্যাংকে ও পুকুরে পড়ে আছে সাত কোটি টাকার চিটাগুড়।

এদিকে চিনি বিক্রি না হওয়ায় মিলের ৮৫০ জন শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। আখ চাষিদের পাওনা রয়েছে সাড়ে চার কোটি টাকা। সুগার মিলে আখ দিয়ে সময়মতো টাকা না পাওয়ায় অনেক চাষি আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তবে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার কবীর জানিয়েছেন, ধীরগতিতে চিনি বিক্রির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তার পরও পর্যায়ক্রয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও চাষিদের আখের বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। চিনি বিক্রি হলে সব সমস্যা কেটে যাবে।

সুগার মিল সূত্রে জানা গেছে, মিলের গুদামঘরে তিন হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনি পড়ে আছে। মিলের ট্যাংকে ও পুকুরে পড়ে আছে ৩২০০ মেট্রিক টন চিটাগুড়। এসব চিনি ও চিটাগুড় ঠিকমতো বিক্রি না হওয়ায় ৮৫০ জন শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর তিন মাসের বেতন-ভাতা বাবদ পাঁচ কোটি ১০ লাখ টাকা বকেয়া পড়েছে।

সুগার মিলের প্রশাসন বিভাগের অফিস সহকারী আব্দার রহমানসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, সর্বশেষ তাঁরা মে মাসের বেতন পেয়েছেন। তিন মাস ধরে এখন বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। বেতন-ভাতা না পেয়ে তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

তা ছাড়া গত মৌসুমে সুগার মিলে আখ বিক্রি করে কৃষকরা তাঁদের আখের মূল্য এখনো পাননি। বকেয়া টাকার জন্য তাঁরা প্রায়ই মিলে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু চিনি বিক্রি না হওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ তাঁদের বকেয়া টাকা দিতে পারছেন না। এ কারণে অনেক চাষি আখ রোপণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। দিন দিন কমে যাচ্ছে আখ চাষ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১১ হাজার একর জমি। সেখানে অর্জিত হয় আট হাজার ৪০০ একর। গত ১০টি মৌসুমের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোনো মৌসুমেই আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের ডিজিএম আনোয়ার হোসেন জানান, যথাসময়ে চাষিদের আখের টাকা দিতে না পারায় আখ চাষ কমে যাচ্ছে। চাষিদের গত মৌসুমের প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। যথাসময়ে আখের টাকা দিতে পারলে আখ রোপণ বেড়ে যেত। এ ছাড়া পরিবহন, শ্রমিক সমস্যাসহ বর্তমানে কৃষকরা স্বল্প মেয়াদি ফসল করতে আগ্রহী হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি ফসল চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি আরো জানান, আখ রোপণ কমে যাওয়ায় মিলের আটটি সাবজোন থেকে কমিয়ে এখন ছয়টি সাবজোন করা হয়েছে।

মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার কবীর জানান, মিলে ২১ কোটি টাকার চিনি ও সাত কোটি টাকার চিটাগুড় অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে। ৮৫০ জন শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা বাবদ পাবেন পাঁচ কোটি ১০ লাখ টাকা। আর চাষিরা আখ বিক্রির বকেয়া পাবেন সাড়ে চার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, ‘চিটাগুড় বিক্রির জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টনপ্রতি ১৮ হাজার টাকা দর পাওয়া গেছে। কিন্তু  চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের নির্দেশ রয়েছে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার নিচে বিক্রি করা যাবে না। তাই চিটাগুড়ও বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ধীরগতিতে চিনি বিক্রির কারণে সময়মতো চাষিদের আখের বকেয়া টাকা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে দেরি হচ্ছে। চিনি বিক্রি হলে সব সমস্যা কেটে যাবে।’

মন্তব্য