kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

সংকটে নাটোরের দুই চিনিকল

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগছে নাটোরের দুটি চিনিকল। অর্থের অভাবে আখ চাষিদের পাওনা পরিশোধ করতে না পারা এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের চার মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। এ অবস্থায় আগামী ২০ নভেম্বর থেকে চিনিকল দুটি উৎপাদনে যাওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। মিল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, চিনিকল দুটির চিনি বিক্রি না হওয়ায় তারা অর্থ সংকটে রয়েছেন। তবে মিল উৎপাদনে যাওয়ার আগেই আখ চাষিদের পাওনা পরিশোধ করে দেওয়া হবে। এ অবস্থায় আখ চাষিদের আখের মূল্য পরিশোধ এবং বিরাষ্ট্রীয়করণের প্রতিবাদে দফায় দফায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন আখ চাষিরা। অন্যদিকে শুধু গত আখ মাড়াই মৌসুমে চিনিকল দুটি লোকসান করেছে ১২৮ কোটি টাকা। কারণ হিসেবে চিনিকল কর্তৃপক্ষ উন্নত আখ না পাওয়া এবং আখের অভাবকেই দায়ী করেছে।

চিনিকল সূত্রে জানা যায়, নাটোর সুগারমিল ও নর্থবেঙ্গল সুগারমিল জোন এলাকায় এই অঞ্চলের আখ চাষিদের কাছ থেকে চিনিকল দুটি আখ ক্রয় করে থাকে। নাটোর সুগারমিলের আটটি সাবজোনের মোট ৪৭টি কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার আখ চাষি তাঁদের আখ বিক্রি করেন। অন্যদিকে নর্থবেঙ্গল সুগারমিলে সাতটি সাবজোনের মাধ্যমে ৩৭টি কেন্দ্রে এবং মিলগেটে আখ কেনা হয়। এসব কেন্দ্রে প্রায় ১৮ হাজার আখ চাষি তাঁদের আখ বিক্রি করেন। চাষিরা মোবাইল ফোনে মেসেজের মাধ্যমে পুর্জি পান। এই পুর্জি মোতাবেক চাষিরা আখ সরবরাহ করেন। তাঁদের আখ বিক্রির অর্থ বর্তমানে শিওরক্যাশের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। কিন্তু গত আখ মাড়াই মৌসুমের টাকা এখনো পাননি অনেক চাষি।

আখের পাওনা পরিশোধের জন্য তাঁরা দাফায় দফায় মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এ অবস্থায় চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখের মূল্য পরিশোধের উদ্যোগ নেয়। এরই মধ্যে বেশির ভাগ চাষির পাওনা পরিশোধ করলেও নাটোর চিনিকলে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং নর্থ বেঙ্গল সুগারমিলে ৯৮ লাখ টাকা আখের মূল্য পরিশোধ করতে পারেনি চিনিকল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে গত জুন মাস পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারীরা বেতন পেলেও তার পর থেকে চার মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া পড়েছে। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীদের সময়মতো বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নাটোর চিনিকলের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম জানান, চার মাসের বেতন বকেয়া পড়ায় অনেককে ধার-দেনা করে চলতে হচ্ছে।

বাগাতিপাড়ার পেড়াবাড়িয়ার আখ চাষি আশরাফুজ্জামান মাসুম বলেন, তিনি নাটোর সুগারমিলের অধীনে মালঞ্চি আখ ক্রয়কেন্দ্রে চলতি মৌসুমে এক লাখ ৬৬ হাজার টাকার আখ বিক্রি করেছেন। তিনি মাস দেড়েক আগে মাত্র ১২ হাজার টাকা পেয়েছেন। এরপর দফায় দফায় কিছু কিছু করে টাকা দিয়েছে। এখনো তাঁর পাওনা রয়েছে অনেক টাকা।

নর্থ বেঙ্গল সুগারমিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ন কবির বলেন, তাঁদের সাড়ে ছয় হাজার মেট্রিক টন চিনি অবিক্রীত রয়েছে। এই চিনি বিক্রি হলে তাঁদের অর্থনৈতিক সংকট কেটে যাবে। তা ছাড়া বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন চিনি উৎপাদনে যাওয়ার আগেই চাষিদের আখের মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, নর্থ বেঙ্গল সুগারমিলে দুই লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ২০ হাজার ১০০ মেট্রিক টন চিনি আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্রাশার মেশিনে মাড়াই বন্ধ এবং উন্নত জাতের আখ মিলে সরবরাহ করা গেলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা