kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

ফরিদপুর সুগার মিল

দাম না পেয়ে আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

নির্মলেন্দু চক্রবর্তী, ফরিদপুর   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দাম না পেয়ে আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

বিপুল পরিমাণ চিনি গুদামে মজুদ থাকলেও তা বিক্রি করতে না পারায় চাষিদের পাওনার এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা পরিশোধ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে পাওনা আদায়ে আন্দোলনে নেমেছেন চাষিরা। তাঁদের দাবি, ২০২০-২১ আবাদ মৌসুম এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেলেও ২০১৯-২০ মাড়াই মৌসুমের পাওনা পরিশোধ করতে পারেনি মিল কর্তৃপক্ষ। তাই ভবিষ্যতে আখ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে অবিলম্বে পাওনা পরিশোধ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আখ চাষি সংগঠনের নেতারা।

গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ২০২০-২১ আবাদ মৌসুমে ফরিদপুর সুগারমিলের আওতায় আট হাজার একর জমিতে আখ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু চাষিদের দাবি, অদ্যাবধি তাঁরা ২০১৯-২০ মৌসুমে মিলে সরবরাহকৃত আখের মূল্য শতভাগ বুঝে পাননি। তাই চলতি মৌসুমে আখ আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন তাঁরা।

মিল জোনের আখ চাষিদের দাবি, একদিকে বিগত মৌসুমের আখের মূল্য শতভাগ পাননি অন্যদিকে রোপন মৌসুম শুরু হলেও এখনো দেখা মিলছে না মিল থেকে ঋণ হিসেবে সরবরাহকৃত সারের। এতে হতাশায় ভুগছেন আখ চাষিরা।

এরই মধ্যে চাষিদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে আন্দোলনে নেমেছে চাষিদের সংগঠন ফরিদপুর চিনিকল আখ চাষি কল্যাণ সংস্থা। গত রবিবার মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে তারা। সংগঠনের চাষি নেতারা মনে করেন, চাষিদের আখের মূল্য যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ভবিষ্যতে আখের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন চাষিরা। অবিলম্বে চাষিদের পাওনা পরিশোধ না করা হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন তাঁরা।

চিনিকল কর্তৃপক্ষের দাবি, এখনো গুদামে দুই হাজার ৩৩৭ মেট্রিক টন চিনি এবং দুই হাজার ২০০ মেট্রিক টন চিটাগুড় মজুদ রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। কিন্তু চিনিকলের পণ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতার বাজারে তা সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষকের পাওনা ছাড়াও ৮১২ জন শ্রমিকের চার মাসের বকেয়া পাওনার চার কোটি টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা