kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

বিশ্ববাজারে চিনির দাম নিম্নমুখী

সেপ্টেম্বরে দাম কমেছে ২.৬ শতাংশ
উৎপাদন বাড়ছে দুই শীর্ষ দেশ ব্রাজিল ও ভারতে

বাণিজ্য ডেস্ক   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা সংকটে বিশ্ববাজারে সব পণ্যের চাহিদাই ছিল কম। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকায় পণ্যের চাহিদা আবার বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে ঊর্ধ্বমুখী এখন খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানায়, সেপ্টেম্বরসহ টানা চার মাস বাড়ল খাদ্যপণ্যের দাম। সেপ্টেম্বরে খাদ্যপণ্যের দাম আগের মাসের চেয়ে বেড়েছে ২.১ শতাংশ।

তবে টানা তিন মাস বাড়ার পর গত মাসে কিছুটা কমেছে চিনির দাম। সেপ্টেম্বরে বিশ্ববাজারে চিনির দাম আগের মাসের চেয়ে কমেছে ২.৬ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও থাইল্যান্ডে প্রতিকূল আবহাওয়ায় চলতি মৌসুমে চিনি উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দিচ্ছে কৃষি গবেষণা সংস্থাগুলো। এর বিপরীতে শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ ব্রাজিল, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশে উৎপাদন বাড়ছে। ফলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে চিনির বাজারে।

চিনি উৎপাদনে সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিল। ২০২০-২১ মৌসুমে ব্রাজিলে চিনি উৎপাদন ৩২ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩৯.৩৩ মিলিয়ন টন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশটিতে ইথানল উৎপাদন কমিয়ে বিপুল পরিমাণ আখ কারখানায় দেওয়ায় চিনি উৎপাদন বাড়ছে। ফলে চিনি রপ্তানিতে এ বছর শীর্ষে থাকবে ব্রাজিল আর দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত। দুই দেশে উৎপাদন বাড়ায় আশা করা হচ্ছে ২০২০-২১ মৌসুমে বিশ্বে চিনি উদ্বৃত্ত থাকবে। এমন সম্ভাবনাতেই বিশ্ববাজারে কমছে দাম। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে ব্রাজিলের মুদ্রা রিয়াল ক্রমাগত মান হারানোয় চিনির দাম কমছে। তবে সাম্প্রতিক কমলেও ট্রেডিং ইকোনমিকসের হিসাব অনুযায়ী গত এক বছরে বিশ্ববাজারে চিনির দাম বেড়েছে ১১.২৭ শতাংশ।

এফএও জানায়, সেপ্টেম্বরে ভোজ্য তেল, ডাল, ভুট্টা, চালসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে ভোজ্য তেলের দাম আগের মাসের চেয়ে বেড়েছে ৬.০ শতাংশ। করোনা-পরবর্তী পাম তেলের চাহিদা বাড়লেও বড় রপ্তানিকারক দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদন কিছুটা কমেছে। এর পাশাপাশি সয়াবিন, সূর্যমুখী ও রেপসিড তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গত মাসে দুগ্ধপণ্যের দাম বেড়েছে ২.৫ শতাংশ। তবে মাংসের দাম কমেছে ০.৯ শতাংশ।

এফএও জানায়, ২০২০ সালে বিশ্বে চাল উৎপাদন হবে রেকর্ড ৫০৯ মিলিয়ন টন। এতে খাদ্যশস্যের মজুদ ১.৭ শতাংশ বেড়ে হবে ৮৯৫.৫ মিলিয়ন টন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিদিন মানুষ যে পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করে চিনি থাকতে হবে ১০% এর কম। স্বাস্থ্যগত বাড়তি উপকার পেতে তা ৫% এর কম রাখা প্রয়োজন

 

একনজরে

► আমাদের প্রতিদিনের খাবারেই চিনি বা শর্করা পাওয়া যায়

► বিভিন্ন ধরনের ফল ও শাক-সবজিতে এমনিতেই চিনি থাকে

► দুধ ও দুগ্ধজাতীয় পণ্যে প্রকৃতিগতভাবে চিনি থাকে

► বাজারের বিভিন্ন খাবার ও পানীয় তৈরিকালীন তাতে চিনি মিশ্রণ করা হয়

► ওষুধে চিনি ব্যবহার করা হয়

► এ ছাড়া মধু, আখ ও খেজুরের রস এবং ফ্রুটজুসে প্রকৃতিগতভাবে চিনি থাকে

► বিশ্বের ৮৬ শতাংশ চিনি উৎপাদন হয় আখ থেকে, বাকিটুকু সুগার বিট থেকে।

সূত্র : রয়টার্স, রিলিফওয়েব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা