kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

বাজার বিশৃঙ্খলা : সাক্ষাৎকার

উৎপাদন ও চাহিদার সঠিক তথ্য থাকলে নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সভাপতি, বিএফভিএপিইএ

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উৎপাদন ও চাহিদার সঠিক তথ্য থাকলে নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে

দেশে খুচরা বাজারে শাক-সবজির আকাশছোঁয়া দাম বাড়লেও কৃষকপর্যায়ে এতটা বাড়েনি। মাঝখানে কয়েক হাত বদলেই শাক-সবজির দাম বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সবজি সংগ্রহ ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড এলায়েড প্রডাক্ট এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তবে তাঁর মতে শুধু মধ্যস্বত্বভোগীর কারণে নয়, উৎপাদন ঘাটতির কারণেও দাম বাড়ে।

তিনি বলেন, এবার বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে কম। এর ফলে পণ্যের ঘাটতিতে সরবরাহ কমেছে। এই সুযোগ নিয়েছেন মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা। তাঁরা কৃষক বা বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি বাজার থেকে কেনা দামের দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে ঢাকার বাজারে। ঢাকার বাড়তি দাম দেখে কৃষক ও মোকামগুলোতেও দাম বেড়েছে। এই সমস্যাটা শুধু এ বছর তা নয়, বর্ষার মৌসুমে বছরের পর বছর এমনটা হয়ে আসছে আমাদের দেশে।

বাজারের এই বিশৃঙ্খলার পেছনে অনেক কারণ। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে বিভিন্ন মৌসুমের উৎপাদন ও চাহিদার সঠিক তথ্য নেই। এ ছাড়া সঠিক মনিটরিংয়ের অভাব, বর্ষা মৌসুমে বিকল্প উপায়ে উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ না থাকা এবং সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীদের অতিমুনাফার মানসিকতা ইত্যাদি কারণগুলো রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে অনেক অঞ্চলের সবজি চাষের জমিতে পানি থাকায় ও অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন কম হয়। এতে দামও বেশি থাকে। অধিকাংশ শাক-সবজির দাম বেশি থাকায় যে পণ্যগুলোর দাম কম থাকার কথা সেগুলোর ওপর চাপ পড়ে। এতে ওইগুলোর দামও বেড়ে যায়। যেমন এবার আলুর ক্ষেত্রে হয়েছে। আমরা যদি আগে থেকেই এই বর্ষা মৌসুমের চাহিদা ও উৎপাদনের সঠিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নিতাম তবে এই বিশৃঙ্খলা হতো না। এই উদ্যোগের একটি হলো উঁচু জমিগুলোতে শাক-সবজি বেশি করে উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া। আরেকটি হতে পারে পলিশ্যাডের মাধ্যমে অতিবৃষ্টিতেও উৎপাদন অব্যাহত রাখা। এ জন্য কৃষককে উৎসাহিত করতে হবে, প্রণোদানা দিতে হবে।

কিন্তু বর্ষা মৌসুমে উৎপাদন কত এবং আমাদের চাহিদা কত, বাকিটা কিভাবে পূরণ হবে এর সঠিক কোনো সঠিক হিসাব নেই সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কাছে। ফলে কাগজে-কলমে ঘাটতি না হলেও, বাস্তাবে বাজারে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উৎপাদন ঘাটতির এই সুযোগ নিচ্ছেন এক শ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী। তাঁরা কৃষকের কাছ থেকে যে দামে পণ্য কেনেন তার দ্বিগুণ দামে ঢাকায় বিক্রি করেন। যে পণ্যটি ৪০ টাকায় কেনা তার সঙ্গে ক্যারিং খরচ পাঁচ টাকা ও মার্জিন পাঁচ টাকা ধরে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু হাত বদলে দাম হয়ে যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পেঁয়াজের কথা ধরেন, ভারত বন্ধ করে দিয়েছে শুনেই রাতারাতি দাম বাড়িয়ে দিলেন ব্যবসায়ীরা। এটা তাঁরা করেছেন ভবিষ্যতে ঘাটতি হবে—এই চিন্তা থেকে।

এসব বন্ধ করতে হলে সরকারের যথাযথ মনিটরিং থাকতে হবে। সেটা আমাদের দেশে নেই। অনেক দেশেই এ জন্য কৃষি চেম্বার রয়েছে। তাঁরা উৎপাদন খরচ, উৎপাদন বৃদ্ধির উপায়, বাজারজাতকরণ ও ব্যবসায়ীদের মার্জিন—এসব বিষয়ে মনিটরিং করে। আমরাও করতে পারি।

তিনি বলেন, ‘দেশের বাজারে চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত হলে আমরা রপ্তানিতে আরো এগিয়ে যেত পারব। সবজি রপ্তানি করলে সবচেয়ে উপকৃত হবেন কৃষক। রপ্তানি হয় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে  কিনে। এ ছাড়া দেশেও বৈদেশিক মুদ্রা আসবে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রোকন মাহমুদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা