kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

বাজার বিশৃঙ্খলা : সাক্ষাৎকার

সমন্বয়হীনতার সুযোগে ফায়দা লুটছে মধ্যস্বত্বভোগীরা

এস এম নাজের হোসাইন, কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট, ক্যাব

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সমন্বয়হীনতার সুযোগে ফায়দা লুটছে মধ্যস্বত্বভোগীরা

দেশব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে লাগাম টানা যাচ্ছে না। সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার সুযোগে এ বাজার মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে মনে করেন ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ জন্য তিনি রাজনীতি ও ক্ষমতায় ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণকেই দায়ী করেন।

ক্যাবের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘দেশের ভোগ্য পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্যপণ্য স্থিতিশীল রাখতে তৎপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের নানা সংস্থা-দপ্তর। এই পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত সেসব কোনো কাজেই আসছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে সবাই নানা ফর্মুলার কথা বললেও অধিকাংশই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণেরই আভাস দিচ্ছে। তবে যেটাই বলা হোক না কেন, সব কিছুর পেছনে আমাদের নীতি-আদর্শহীন মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের কারসাজি নিয়ে কেউ তেমন একটা বলতে চান না, তাহলে হয়তো নিজেদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে।’

দেশের রাজনীতি ও ক্ষমতায় ব্যবসায়ীদের প্রভাব বেড়েছে সে হিসেবে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর ক্ষমতা কমেছে বলে মনে করেন এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, ‘ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ভারসাম্য প্রচণ্ডভাবে নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে আমাদের যে ভূমিকা রাখার কথা সেটা পারছি না। সরকারও প্রভাবশালীদের কথা শুনছে। আর এটার দায় ভোগ করছে সাধারণ জনগণ।’

তিনি বলেন, ‘কৃষি, খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একসময় এক ধরনের কথা বলে। প্রশাসনের প্রতিটি অঙ্গ ঠিকভাবে কাজ না করায় সুবিধাভোগীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আলুর দাম সরকারিভাবে নির্ধারণের এক দিনের মধ্যে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে পরদিন আবার বাড়ানো হয়। এভাবে আত্মসমর্পণের কারণে সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও মন্ত্রীদের হুমকি-ধমকিকে আর পাত্তা দিতে চান না।’

এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার পেছনে বৈধ আমদানির ছাড়পত্র, এলসি খোলার কাগজপত্র ছাড়া আমদানিকারকের কমিশন এজেন্ট ও আড়তদার পরিচয়ে পেঁয়াজসহ ভোগ্য পণ্য ব্যবসায়ীরা জনগণকে জিম্মি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে অনেকের। দেশের চাহিদার বেশির ভাগ দেশীয় উৎপাদন দিয়ে মেটানো সম্ভব হলেও ব্যবসায়ীরা আমদানীকৃত পেঁয়াজ বিক্রিতে স্বাচ্ছন্দ্য পান, কারণ পেপারলেস ব্যবসা হওয়ায় আমদানীকৃত পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের সহজেই বোকা বানানো যায়। এ কারণে বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ উধাও। বেশ কিছুদিন ধরে অস্থিরতা চলমান হলে জেলা প্রশাসন পাইকারি অভিযান চালালে ব্যবসায়ীরা উল্টো বিক্রি বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করেন। প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেই ধর্মঘটসহ নানা হুমকি প্রদান করছে। অপকর্মের হোতাদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির পরিবর্তে জামাই আদরের কারণে তারা বারবার এ ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছে।’

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চট্টগ্রাম থেকে রাশেদুল তুষার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা