kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

মান সনদের অভাবে বাধাগ্রস্ত রপ্তানি

রোকন মাহমুদ   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মান সনদের অভাবে বাধাগ্রস্ত রপ্তানি

দেশের এই সবজির জন্য অপেক্ষায় থাকেন বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরা। ছবি : ফিরোজ গাজী

বিশ্বব্যাপী দেশের শাক-সবজির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সে অনুযায়ী রপ্তানি করা যাচ্ছে না। সময়মতো কোয়ারেন্টিন সার্টিফিকেট না পাওয়া, সব ধরনের শাক-সবজিতে মান সনদ না থাকা, ডেসটিনেশন অনুসারে ফ্লাইট না পাওয়া ও বিমানবন্দরে স্ক্যানার সমস্যাসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া দেশে সবজি উৎপাদন ঘাটতিও অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

জানা যায়, প্রবাসে লাখো বাংলাদেশি নিয়মিত দেশি এসব পণ্য চান। আবার বিদেশিরাও এখানকার নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় উৎপাদিত কৃষিপণ্যের প্রতি আগ্রহী। তাই এ খাতে প্রতিবছরই বড় প্রবৃদ্ধি সম্ভব।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১৩ কোটি ডলারের শাক-সবজি রপ্তানির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। বিপরীতে শাক-সবজি রপ্তানি হয়েছে ১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৬ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়েছে এই খাতে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের বছরের হিসাবেও। আগের বছর সবজি রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ১০ কোটি ডলারের। সে হিসাবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৬৪.৫৩ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি ২০১৯-২০ অর্থবছরে শুধু কৃষি খাতের মধ্যেই সর্বোচ্চ তা নয়, বরং পুরো রপ্তানি খাতের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ।

ইপিবির তথ্য মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১১২ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে দেশ থেকে ৮৬ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছে।

রপ্তানিকারক সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সংগ্রহ করে সেগুলো একসঙ্গে করা হয়। এগুলোর কোয়ারেন্টিন সার্টিফিকেটের (স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা সনদ) জন্য আবেদন করে রাজধানীর শ্যামপুর ওয়্যারহাউসে নিয়ে আসা হয়। স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগ নিরোধ বিভাগ সবজিতে রোগবালাই আছে কি না, এটি যাচাই করে। এর ভিত্তিতে কোয়ারেন্টিন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে যে মান পরীক্ষার সনদ চাওয়া হয়, তার ব্যবস্থা এখনো হয়নি দেশে।

কৃষি সম্প্রসারণে উদ্ভিদ সংগ নিরোধ বিভাগে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা শেষে প্যাকিং করে সরাসরি বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। অনেক সময় বিমানবন্দরের ওয়্যারহাউসেও পরীক্ষা করা হয়। এরপর আগে থেকে বুকিং দেওয়া যাত্রীবাহী বিমানের কার্গো হোলে তুলে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট গন্তব্যে।

করোনার কারণে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল সীমিত হওয়ায় শাক-সবজি রপ্তানি এখন কিছুটা কম। এ ছাড়া বন্যার কারণে কাঁচা মরিচ, আলুসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ঘাটতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশেই দাম বেশি। ফলে রপ্তানি প্রায় থমকে রয়েছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পটোল, বেগুন, বরবটি, চিচিঙ্গা, পান ইত্যাদি পণ্যই বেশি রপ্তানি হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল অ্যান্ড অ্যালাইড প্রডাক্টস এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সবজি রপ্তানির প্রধান বাধা হলো কোয়ারেন্টিন সার্টিফিকেট না পাওয়া। শুধু সার্টিফিকেট না পাওয়ায় যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে বেশ কিছু পণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না। পান, লেবুসহ বেশ কিছু পণ্য রপ্তানি এখন বন্ধ রয়েছে।’

রপ্তানিকারক রাজধানী এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার গোবিন্দ চন্দ্র সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে রপ্তানি আরো অনেক বেশি হতো। আমাদের মূলত জুলাই থেকে আগস্টে গৃষ্মকালীন সবজিগুলো বেশি রপ্তানি হয়। এবার এই সময়টাতেই করোনা ও বন্যায় রপ্তানি একেবারেই কমে গেছে। রপ্তানির বাজার আরো বাড়াতে চাইলে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার দরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যে কোয়ারেন্টিন সার্টিফিকেট দেয়, সেটির ওপর অনেক দেশেরই আস্থা নেই।’

উদ্ভিদ সংগ নিরোধ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (আমদানি রপ্তানি ও পরীক্ষাগার) মো. ফজলুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব ধরনের সবজিই দেশ থেকে রপ্তানি হয়। আমাদের আলুর চাহিদাই রয়েছে ৪০ থেকে ৪৩ হাজার টনের। আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে রপ্তানির বাজার বাড়াতে হলে উৎপাদনও বাড়াতে হবে। উৎপাদন কম হলে দেশের বাজারে দাম বেড়ে যায়। এতে রপ্তানিকারকরা লোকসানের ভয়ে পণ্য রপ্তানি বন্ধ রাখেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা