kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় সুযোগ নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা

মোহাম্মদ ইউসুফ, মহাপরিচালক, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় সুযোগ নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা

আমাদের দেশে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রত্যেক ব্যবসায়ী যে যেখানে ব্যবসা করছেন, সেখানে তিনি তাঁর ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছেন। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এখন দেখা যায়, মাঠপর্যায়ে সবজির দাম অনেক কম থাকে। কিন্তু এটা ঢাকায় আসতে আসতে দাম অনেক বেশি হয়ে যায়। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ।

তিনি বলেন, “আমাদের কৃষি বিপণন আইনে প্রতিটি কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণ করার ব্যবস্থা আছে। এখন কৃষিপণ্যের দাম যদি মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে নির্ধারণ করে দেওয়া যায়, তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া যেত। যদি এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হয়, তাহলে করোনাকালীন আমরা অনলাইন মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফুড ফর ন্যাশন’ করেছিলাম সেটা ব্যবহার করা যেতে পারে। এখানে কৃষক সংগঠনগুলোকে গ্রুপ করে তাঁদের বলতে হবে, আমার এলাকায় এত পরিমাণ সবজি আছে, আমি এই দামে বিক্রি করব। এটাতে তাঁর একটি বিজ্ঞাপন হয়ে গেল। ক্রেতা এখান থেকে এটা দেখে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনতে পারবেন। তাতে কৃষকও ন্যায্যমূল্য পাবেন, পাইকাররাও কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন। এটা হলে সহজেই বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ট্রান্সপোর্টের মালিকরা সুযোগ বুঝে তিন হাজার টাকার ভাড়ার জায়গায় পাঁচ হাজার টাকা নিচ্ছেন। পরিবহনের ক্ষেত্রেও ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগাতে জেলা কৃষি বিপণন অফিসগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। তাদের উপজেলাপর্যায়ে সম্প্রসারণ করতে হবে। এখন উপজেলাপর্যায়ে কৃষি বিপণন কোনো অফিস নেই। বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিটি পণ্যের উৎপাদন খরচ আমরা বের করেছি। পণ্য সংগ্রহ করে রাখার জন্য আমরা বিভিন্ন জেলায় হিমাগার তৈরি করছি। কৃষকপর্যায়ে আমরা পেঁয়াজ, আলু রাখার জন্য হিমাগার করে দিচ্ছি। যাতে সারা বছর কৃষকরা পেঁয়াজ ও আলু রাখতে পারেন। উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আমরা এ কাজগুলো করছি। পেঁয়াজের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে কিভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায় এই বিষয়গুলো নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছি। কিভাবে রপ্তানি বাড়ানো যায় সে বিষয়েও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সজীব আহমেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা