kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনায় গাড়ি বিক্রি কমেছে ৭৫ শতাংশ

সজীব আহমেদ   

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় গাড়ি বিক্রি কমেছে ৭৫ শতাংশ

করোনাভাইরাসের কারণে ব্যক্তিগত গাড়ির বাজার এখনো কঠিন পরিস্থিতি পার করছে। দেশে এপ্রিল-জুলাই গত চার মাসে প্রায় শূন্যে নেমেছে রিকন্ডিশন্ড ও নতুন গাড়ি বিক্রি। তার মধ্যে দুই মাস সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল দেশের সব গাড়ির শোরুমগুলো। এ সময়ে শোরুমগুলোয় থাকা প্রায় চার হাজার রিকন্ডিশন্ড গাড়ির একটিও বিক্রি হয়নি। এ ছাড়া দেশের দুই বন্দরে এখনো পড়ে আছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার গাড়ি। গাড়ি বিক্রি না হওয়ায় টাকার অভাবেই এগুলো ডিউটি দিয়ে বন্দর থেকে নিয়ে আসতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) নেতারা বলছেন, করোনার কারণে তাঁরা দুই মাস শোরুম খুলতে পারেননি। পরে শোরুম খোলার পর যে পরিমাণ বিক্রি হওয়ার কথা সে হিসেবে বিক্রি নেই। করোনার আগের তুলনায় বিক্রি ৭৫-৮০ শতাংশ কমে গেছে। আমদানিকারকরা যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন সে জন্য সরকার সব আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার রাখার ভাড়া দুই মাসের ছাড় দেয়। দুর্ভাগ্যবশত সব ধরনের ব্যবসায়ী এ সুবিধা পেলেও গাড়ি আমদানিকারকরা এ সুবিধা পাননি। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে মোংলা বন্দর দিয়ে বেশি গাড়ি আমদানি হয়।

রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার আগে যে শোরুমগুলোতে প্রতি মাসে ৩০-৩৫টি গাড়ি বিক্রি হতো, সেখানে এখন মাসে বিক্রি হচ্ছে তিন-চারটি গাড়ি। ব্যাংক লোন জটিলতা এবং হাতে টাকা না থাকায় গ্রাহকরা গাড়ি কিনতে পারছেন না। বন্দরে আটকে থাকা গাড়ির জন্য প্রতিদিন ভাড়া দিতে হচ্ছে। বিক্রি নেই তাই ডিউটি দিয়ে বন্দর থেকে গাড়ি নিয়ে আসতে পারছি না। বন্দর ভাড়া মওকুফ করে দিলে কিছুটা ক্ষতি থেকে রেহাই পাওয়া যেত। বিক্রি না করতে পেরে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এখন প্রতিটি রিকন্ডিশন্ড গাড়িই এক থেকে দেড় লাখ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং ব্যাংক লোনগুলো সহজলভ্য না হলে বিক্রি বাড়বে না। সুযোগ ও সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রণোদনা না পেলে এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এসবি ট্রেডিংয়ের (রিকন্ডিশন গাড়ি ইম্পোর্টার এবং সাপ্লাইয়ার) মালিক মো. শামিম হাওলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার কারণে পাঁচ মাস আমাদের কোনো বেচাকেনা ছিল না। আমার শোরুম ভাড়া মাসে তিন লাখ টাকা। এই পাঁচ মাসে ১৫ লাখ টাকা বসে বসে দিতে হয়েছে। তার মধ্যে কর্মচারীদের বেতন তো আছেই। গত মাস থেকে মাসে সর্বোচ্চ চার-পাঁচটি গাড়ি বিক্রি হচ্ছে। বন্দরে আমার এখনো ৫৮টি গাড়ি আটকা। দৈনিক ভাড়া দিতে হচ্ছে। বিক্রি কম, হাতে টাকা নেই, তাই বন্দরে ডিউটি দিয়ে গাড়ি ছাড় করিয়ে আনতে পারছি না। গত বছর আমরা ব্যাংকের ভালো সাপোর্ট পেয়েছি। ইদানীং আমরা ব্যাংকের তেমন সাপোর্ট পাচ্ছি না। এখন ব্যাংক যদি আমাদের কম ইন্টারেস্টে লোন সুবিধা করে সহযোগিতা করে তাহলে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’

রোহান ট্রেডিংয়ের ম্যানেজার আবুল খায়ের কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমানে গাড়ির ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এখনো ব্যবসার পরিবেশ ফিরে আসেনি। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে আরো অনেক সময় লাগবে। গাড়ি বিক্রি না হওয়ায় মালিকপক্ষ শোরুম ভাড়া, ব্যাংক লোন ও কর্মীদের বেতন ঠিকমতো দিতে পারছে না। এরই মধ্যে শোরুমের অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে মাসে ৮-১০টি গাড়ি বিক্রি হতো। কিন্তু এখন মাসে সর্বোচ্চ এক-দুইটি গাড়িও বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

বারভিডার সাবেক সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গাড়ি ব্যবসায়ীরা কেউ ভালো নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক এপ্রিল থেকে যখন ৯ শতাংশ করে দিল সুদ হার। এ সুদ হারে অনেক ব্যাংক কনজ্যুমার লোন দিচ্ছে না। দেশের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ নগদ টাকা নিয়ে গাড়ি কেনেন এবং বাকি ৯০ শতাংশ মানুষ ব্যাংক লোনের মাধ্যমে গাড়ি কিনে থাকেন। এর কারণেই মূলত বিক্রি আটকে গেছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা