kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে বিনিয়োগ বাড়ছে

চীন থেকে যে শিক্ষা নিতে পারে বিশ্ব

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চীন থেকে যে শিক্ষা নিতে পারে বিশ্ব

ইউরোপে যে হারে ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রি বাড়ছে তাতে ধারণা করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার চীনকে অতিক্রম করে যাবে এই মহাদেশ। এ বছর ইউরোপে বিক্রি হওয়া প্রতি ১০টি নতুন গাড়ির একটি ইলেকট্রিক বা প্লাগ-ইন হাইব্রিড। বিক্রি বেড়েছে তিন গুণ। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছর ইউরোপে এই গাড়ির মার্কেট শেয়ার বেড়ে হবে ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে নরওয়েতে সেপ্টেম্বরে বিক্রি হওয়া গাড়ির ৬০ শতাংশই ইলেকট্রিক।

তবে লন্ডনভিত্তিক গাড়ির বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান জাটো ডাইনামিকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে এগোতে হলে চীনের কাছ থেকে এখনো অনেক কিছু শেখার আছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইলেকট্রিক গাড়ির বাজার চীন থেকে শিখতে হবে কিভাবে ইলেকট্রিক গাড়ির দাম কমিয়ে আনতে হয়, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হয়, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভোক্তা চাহিদা বুঝতে ডাটার ব্যবহার।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কার্বন গ্যাস নির্গমন রোধে কঠোর আইন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সচেতনতার কারণে ইউরোপে ইলেকট্রিক গাড়ির বাজার বাড়ছে। ২০১৫ সালের পর এই প্রথম বছরের প্রথম ভাগে ইউরোপে ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রি চীনকে অতিক্রম করে গেছে।

ব্লুমবার্গ এনইএফের রিপোর্ট অনুযায়ী, এ বছর বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে প্রবৃদ্ধি আসবে ৭ শতাংশ। আর এতে নেতৃত্ব দেবে ইউরোপ। জাটো ডাইনামিকসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যে বাজারগুলো এখনো বিকশিত হয়নি, ওই বাজারে এখন দায়িত্ব হচ্ছে ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে প্রবৃদ্ধি অর্জন ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে গাড়ি যত সাধারণ করা যায়; যা ভোক্তার আস্থা বাড়াবে।

ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রি বাড়াতে এই খাতে বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দিয়েছে চীন সরকার। এর পাশাপাশি ভোক্তারা যাতে এই গাড়ি সহজে ব্যবহার করতে পারে, এ জন্য সরকার একটি অবকাঠামোগত কৌশল বাস্তবায়ন করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানায়, বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রিক গাড়ির ফার্স্ট চার্জিং স্পটের সংখ্যা আট লাখ ৬২ হাজার ১১৮টি। এর ৬০ শতাংশই চীনে।

ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক টেসলা। কম্পানিটি চীনে তৈরি তাদের মডেল-৩ সেডানের দাম সম্প্রতি কমিয়ে করেছে দুই লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ ইউয়ান (৩৬ হাজার ৮০০ ডলার), যা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে সস্তা। আর তা সম্ভব হয়েছে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ব্যাটারির কারণে। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে একটি ইলেকট্রিক গাড়ির গড়ে খুচরা মূল্য পড়ে ৫৫ হাজার ২৩৩ ডলার, সেখানে ইউরোপে দাম পড়ে ৪৮ হাজার ৮০ ডলার। চীনের একই মানের গাড়ির দাম পড়ে মাত্র ২৯ হাজার ৮৯৫ ডলার। বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে চীনে সবচেয়ে সস্তায় বিক্রি হয় ইলেকট্রিক গাড়ি। জাটো জানায়, সংহাইয়ে একটি গাড়ির লাইসেন্স নাম্বার নিতে খরচ পড়ে ১৩ হাজার ডলার। অথচ ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ ফ্রি। সেখানে ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে বিপুল আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই খাতে শুধু ভর্তুকিই দেওয়া হচ্ছে না, স্থানীয় উৎপাদকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে দেশে উৎপাদন করতে। এ জন্য এসব গাড়ি আমদানিতে শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জাটো জানায়, ইলেকট্রিক গাড়ি দিয়ে বৈশ্বিক সুপারপাওয়ার হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও এগোচ্ছে চীন। এ জন্য নিজেদের তৈরি গাড়ি অন্যান্য দেশে ব্যাপকভাবে সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে চীনে ১৩৮ মডেলের ইলেকট্রিক গাড়ি আছে। ইউরোপে আছে ৬০ মডেলের আর যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১৭ মডেলের। এর পাশাপাশি ভোক্তাদের চাহিদা ও মনমানসিকতা বুঝতে চীনা উৎপাদকরা ডাটা ব্যবহার করছে।

আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ জ্বালানিসাশ্রয়ী এই গাড়ি ২৫ শতাংশ করতে চায় বেইজিং। জার্মান গাড়ি কম্পানি ফোকসভাগেন দেশটিতে ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনে নতুন করে ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, ফোর্বস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা