kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

প্রস্তুতকারক বেশি হলে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ কারখানা গড়ে উঠবে

আকতার পারভেজ চৌধুরী ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পিএইচপি অটোমোবাইলস লিমিটেড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রস্তুতকারক বেশি হলে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ কারখানা গড়ে উঠবে

পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফী মিজানুর রহমান ও মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পিএইচপি অটোমোবাইলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকতার পারভেজ চৌধুরী

বিশ্বের বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও সব পার্টস নিজেরা তৈরি করে না। বেশির ভাগ বিভিন্ন ভেন্ডরের কাছ থেকে নিয়ে থাকে। দেখা যায়, একই ভেন্ডরের কাছ থেকে একাধিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পার্টস নেয়। তাই যত বেশি প্রস্তুতকারক থাকবে তত বেশি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ কারখানা গড়ে উঠবে, যা অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পিএইচপি অটোমোবাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকতার পারভেজ চৌধুরী।

কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপকালে আকতার পারভেজ বলেন, ‘২০১৭ সালে আমরা যখন গাড়ি সংযোজন শুরু করি তখন খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করতাম না, কিন্তু এখন আমাদের কারখানায় তৈরি ২৫টি যন্ত্রাংশ আমাদের সংযোজিত গাড়িতে ব্যবহার করা হচ্ছে। কভিড-১৯ না হলে হয়তো এই বছরের মধ্যেই খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরির সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে যেত। আমরা গাড়িতে ব্যবহৃত ৩০০ খুচরা যন্ত্রাংশ নিজেরাই তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের রাস্তায় পিএইচপি অটোমোবাইলসের নিজস্ব ব্র্যান্ডের গাড়ি চলবে, সেই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে পিএইচপি অটোমোবাইলস। তবে এই মুহূর্তে গাড়ি নির্মাণের কোন ধাপে আছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংযোজন থেকে উৎপাদন পর্যন্ত যেতে পাঁচটি ধাপ রয়েছে। এর মধ্যে আমরা এখন কিছু পার্টস তৈরির মাধ্যমে গাড়ি সংযোজনের দ্বিতীয় পর্যায় পার করে তৃতীয় পর্যায়ের পথে রয়েছি। গাড়ির যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামের বেশির ভাগ এখানে তৈরি করতে পারলে তৃতীয় পর্যায়ে উন্নীত হতে পারব। গাড়ির পুরো বডি ও চেসিস (কাঠামো) তৈরি হলে চতুর্থ এবং ইঞ্জিন তৈরি করা সম্ভব হলে পঞ্চম ধাপ পেরিয়ে উৎপাদক হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করতে পারব। তবে এ জন্য অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।’

তার আগেই দেশের বাইরে গাড়ি রপ্তানি নিয়ে কাজ করছে পিএইচপি অটোমোবাইলস। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে নেপালে প্রোটন সাগা রপ্তানির ব্যাপারে মালয়েশিয়ার প্রোটন হোল্ডিং থেকে অনুমতি পেয়েছি। নেপালের প্রোটন ডিলারের সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে সড়কপথে ভারত হয়ে নেপালে গাড়ি পাঠানো। এটা নিয়ে এখন এনবিআরের সঙ্গে কাজ করছি। কোন প্রক্রিয়ায় কিভাবে গাড়ি পাঠানো যাবে, সে উপায় খুঁজছি। তবে নেপালে যে গাড়ি যাবে, সেখানে প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে থাকবে বাংলাদেশের নাম। মেড বাই পিএইচপি অটোমোবাইলস, গাড়ি রপ্তানিকারক হিসেবে উড়বে বাংলাদেশের পতাকা, সেই স্বপ্নই দেখছি।’

পিএইচপি অটোমোবাইলস সংযোজিত গাড়ির যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার বলেন, ‘আমাদের গাড়ির পার্টস পাওয়া যাবে হাতের মুঠোয়। আমাদের কোনো গাড়ি নষ্ট হলে বা কোনো পার্টসের প্রয়োজন হলে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পার্টস সংশ্লিষ্ট গ্যারেজে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই পার্টস পৌঁছে দেওয়া হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের এক মিনিটও সময় বেশি লাগে, তবে গ্রাহককে সেই পার্টসের জন্য কোনো টাকা দিতে হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা