kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

এখনো সহজলভ্য নয় গাড়ির ঋণ

জিয়াদুল ইসলাম   

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গণপরিবহন সংকটের কারণে ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। সামর্থ্য থাকলেও এত দিন উচ্চ সুদের কারণে অনেকে গাড়ি কিনতে আগ্রহ দেখাতেন কম। এখন ঋণের সুদ কমার ফলে আগ্রহ বাড়লেও ব্যাংকগুলো আগের মতো ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের।

তাঁরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে গাড়ি কেনায় ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে মুখিয়ে থাকলেও উল্টো চিত্র বাংলাদেশে। এখানে সুদের হার যেমন বেশি, তেমনি গাড়ি কেনার ব্যাংক-গ্রাহক ঋণের অনুপাতও বেশি। আবার ঋণের মেয়াদও তুলনামূলক কম, যা বিশ্বের কোনো দেশেই নেই। এতে সামর্থ্য থাকার পরও গাড়ি কিনতে উৎসাহ হারাচ্ছে মানুষ। তবে ব্যাংকাররা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ ঠিক নয়। ক্রেতার সামর্থ্য থাকলে গাড়ি কেনায় ঋণ দিতে কোনো সমস্যা নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছরে দেশে যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ সময়ে মানুষের মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। ফলে গাড়ি কেনার সক্ষম মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। তাই সহজ ও সহনীয় শর্তে গাড়ি কেনার ঋণসুবিধা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকল ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন কালের কণ্ঠকে বলেন, সুদহার ৯ শতাংশ বেঁধে দেওয়ার পর থেকে অনেক ব্যাংকই গাড়ি কেনায় আগের মতো ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করছে না। ঋণ দিতে এখন গড়িমসি করছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর বক্তব্য হলো—ভোক্তা খাতে যেসব ঋণ আছে, সেগুলোতে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হলে তাদের কোনো মুনাফা হয় না।

এ বিষয়ে বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার কালের কণ্ঠকে বলেন, গাড়ি কেনায় ঋণ দিতে ব্যাংকগুলো অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, এ রকম তথ্য আমার কাছে নেই। গাড়ি কেনায় ঋণের কোনো আবেদন এলে গ্রাহকের সক্ষমতার দিকটি যাচাই করে ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করার কোনো কারণ নেই। তা ছাড়া এখন ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য যেকোনো ঋণে ৯ শতাংশের বেশি সুদ চার্জ করার সুযোগ নেই। আমরা ৯ শতাংশ সুদেই ঋণ দিচ্ছি। তাই ব্যবসায়ীদের এ ধরনের অভিযোগ ঠিক নয়।

জানা যায়, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশেই গাড়ি কেনা বেশ সহজ। এসব দেশে ব্যাংকই গাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ করে দেয়। গ্রাহকদের খুঁজে খুঁজে বের করে ঋণ দিয়ে থাকে। কম সুদের পাশাপাশি ঋণের মেয়াদও অনেক দীর্ঘ হয়। কিন্তু আমাদের দেশের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এখানে অনুৎপাদনশীল খাতের ঋণের বরাবরই নিরুৎসাহিত করা হয়।

খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকই এই ঋণ নিরুৎসাহিত করার অংশ হিসেবে ক্রেতার এককালীন জমা দেওয়ার টাকার পরিমাণ বেশি নির্ধারণ করে রেখেছে। বর্তমানে গাড়ি কেনায় ব্যাংক-গ্রাহকের এই ঋণ অনুপাত ৫০:৫০ শতাংশ। অর্থাৎ গাড়ির মোট মূল্যের অর্ধেক জামানত হিসেবে কেনার সময়ই ক্রেতাকে পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া একজন গ্রাহক বীমাসহ গাড়ি কেনায় সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকার ঋণ নিতে পারেন। ২০১৪ সালের আগস্টে এই নিয়ম করা হয়। এরপর আরো ছয় বছর কেটে গেছে। এ সময়ে মানুষের মাথাপিছু আয়ও অনেক বেড়েছে। জীবনমানেও ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু তার পরও ওই সার্কুলারের নিয়মেই চলছে গাড়ি কেনার ঋণ। এ ছাড়া যানজটের দোহাই দিয়েই ব্যক্তিগত গাড়ি নিরুৎসাহিত করা হয়। এটা নিয়ে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা