kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সবার জন্য তৈরি হচ্ছে গাড়ি

ফারজানা লাবনী   

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহণের পর সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দেশেই গাড়ি উৎপাদনে নির্দেশ দেন। সরকারের গত দুই মেয়াদে এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। সম্প্রতি দেশে গাড়ি উৎপাদনে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে জোর উদ্যোগ নিতে দেখা গিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে কারখানা নির্মাণ করে গাড়ি উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে। 

সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী গাড়ি বানাতে জাপানের মিত্সুবিশি করপোরেশনের সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিদেশি এই প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে যৌথভাবে দেশে গাড়ি উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতোর সঙ্গে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন।

এ বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী গাড়ি উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে নিজস্ব ব্র্যান্ডের মোটর গাড়ি তৈরি করা সম্ভব হলে দেশের মানুষ কম দামে গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ পাবে। গাড়ি উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ করতে অটোমোবাইল নীতিমালা করা হচ্ছে। এই নীতিমালায় বেসরকারি খাতও বিভিন্ন সুবিধা পাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে উৎপাদিত গাড়ি আমদানীকৃত বা সংযোজিত গাড়ির চেয়ে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। কোন গাড়ির কত দাম ধরা হবে তা উৎপাদনের ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে নির্ধারণ করা হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গাড়ির মূল্য নির্ধারণে নির্দেশ দিয়েছেন। 

গত ৯ সেপ্টেম্বর দেশে গাড়ি উৎপাদন সম্পর্কিত কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি জানিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে গাড়ির চাহিদা বিবেচনায় রেখে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (পিআইএল) কারখানায় মানসম্মত এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক গাড়ি সংযোজনের জন্য একটি নতুন অটোমেটিক সংযোজনের কারখানা স্থাপনের কাজ চলছে। সর্বাধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থায় জিপ বা পিকআপ, সেডান কার, মিনিবাস বা বাস এবং ট্রাক বা মিনি ট্রাক উৎপাদন করা হবে। এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করতে দক্ষিণ আফ্রিকার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অটোমেটিভ ইনভেস্টমেন্ট হোল্ডিংস (এআইএইচ) লিমিটেডকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে কারখানা নির্মাণের জন্য পরিদর্শন শেষে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন সম্পর্কিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

গত মে মাসের মধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের আধুনিক পেইন্ট শপ, প্রেস শপ, বডি শপ, মেশিন শপ, অ্যাসেম্বলি ও সাব অ্যাসেম্বলি লাইন, চেসিস লাইন, ট্রিম লাইন, ফাইনাল লাইন, কিউসিসহ প্যান্টের লে-আউট, বিস্তারিত ড্রয়িং, ডিজাইন, প্রাক্কলন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির তালিকাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে তা সম্ভব হয় না। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে এ সময়সীমা বাড়ানো হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রকল্পের লে-আউট পরিকল্পনাসহ মোট ব্যয় জানার পর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির তালিকা পাওয়ার ডিপিপি তৈরি করে সরকারের সংশ্লিষ্ট শাখায় অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশেই আধুূনিক মানের কারখানা নির্মাণ করে সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী আন্তর্জাতিক মানের গাড়ি উৎপাদন সম্ভব হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা