kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রযুক্তিসমৃদ্ধ হচ্ছে কাস্টমস

ফারজানা লাবনী   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রযুক্তিসমৃদ্ধ হচ্ছে কাস্টমস

বাণিজ্য প্রসারে শুল্ক খাতে আধুনিকতায় জোর দেওয়া হয়েছে। লোকবলের অভাবে অনেক সময় পণ্য যাচাই না করেই ছাড় করাতে বাধ্য হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে দেশের সৎ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতায় পড়েন। মিথ্য ঘোষণায় হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যায়। সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হয়। দুর্নীতি বন্ধে ও বাণিজ্য প্রসারে আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এরই মধ্যে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যার অধিকাংশই বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

এনবিআর সদস্য (আধুনিকায়ন) খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কাস্টমস ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে এনবিআর কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি অচিরেই সব প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।’ তিনি বলেন, আধুনিক শুল্ক খাত গড়ে তোলা সম্ভব হলে সব বন্দরে পণ্য ছাড়করণে গতিশীলতা আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্য দ্রুত বাড়বে। ফলে শুল্ক আদায় কয়েক গুণ বাড়বে, অর্থপাচারও কমবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আধুনিক শুল্ক খাত গড়ে তোলা সম্ভব হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা আসবে। শুধু শুল্ক না, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব খাতেই দুর্নীতি কমে যাবে। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, আধুনিক শুল্ক খাত ছাড়া বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রসার সম্ভব নয়। কারণ এরই মধ্যে অনেক দেশ বন্দর থেকে আমদানি-রপ্তানীকৃত পণ্য যাচাই করে ছাড় করণের শর্ত দিয়েছে।

একসময় রাজস্ব আদায়ের তিন খাতের মধ্যে শুল্ক আদায়ের পরিমাণ সর্বোচ্চ থাকলেও সহজ বাণিজ্য প্রসারের স্বার্থে এখন তা কমিয়ে সর্বনিম্ন করা হয়েছে। শুল্ক আদায়ের পরিমাণ কমালেও শুল্ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে বাণিজ্য প্রসারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বন্দরে বন্দরে স্ক্যানিং যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গ্রিন চ্যানেল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সৎ ও ভালো ব্যবসায়ীদের পণ্য দ্রুত ছাড় করাতে পারছে। তবে এসব পরিকল্পনা সব এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

নিরাপদ বাণিজ্য প্রসারের অংশ হিসেবে অর্থপাচার বন্ধে বাংলাদেশ ২০১২ সালে আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রিভাইজড কিয়োটো কনভেনশনে স্বাক্ষর করে। এরই ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। শুল্ক ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ব্যবহারে আধুনিকতা আনতে বাংলাদেশ ২০১৬ সালে ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটিজ অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে। এসব চুক্তি সামনে রেখে কাস্টমস মর্ডানাইজেশন স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৯-এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০২২ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এসব চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি-রপ্তানি বন্ধে প্রত্যেক বন্দরে স্ক্যানিং ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এনবিআর এরই মধ্যে বাংলাদেশের কাস্টমসের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রকল্প ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইনডো (এনএসডাব্লিউ) প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এরই মধ্যে ৩৯টি সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল বাড়িয়ে ২০২১ সাল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কাস্টমসের আধুনিকায়নে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারকারী, উন্নত অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা এবং অতীত রেকর্ডে প্রমাণিত বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ফাস্টট্র্যাক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন করে প্রাথমিকভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করে এই কার্যক্রম শুরু করেছে। গ্রিন চ্যানেল সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অ্যাসাইকুডা (অটোমেটেড সিস্টেম ফর কাস্টমস ডাটা) ওয়ার্ল্ড নব্বই দশকের শুরুতে অ্যাসাইকুডা সিস্টেম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাস্টমসে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা