kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়াতে ১০ প্রকল্প

আশা জাগাচ্ছে মোংলা বন্দর

এম এ মোতালেব, মোংলা   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আশা জাগাচ্ছে মোংলা বন্দর

করোনায়ও মোংলা বন্দর লোকসানের মুখে পড়েনি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথাসময় তাঁদের বেতন-ভাতা পেয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পণ্য ওঠানো-নামানো হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলমান রেখে দুর্যোগকালীন দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে মোংলা সমুদ্রবন্দর। আর এটি সম্ভব হয়েছে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে।

জানা যায়, করোনা মহামারিতে বিশ্ব ও বাংলাদেশজুড়ে যখন লকডাউন, বন্ধ সব কলকারখানা ও শিল্প কার্যক্রম, তখনই বিশেষ তদারকির মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে নানা উদ্যোগ নেয় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও বেড়ে যায় বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন আর কর্মচাঞ্চল্য। করোনার মধ্যেও ২০১৯-২০ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৯০৩টি জাহাজ আসে বন্দরে। এতে ১১০ দশমিক ৩৬ লাখ মেট্রিক টন কার্গো, ৫৯ হাজার ৪৭৬ টিইউজ কনটেইনার হ্যান্ডল এবং ৩২০ দশমিক ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হয়েছে মোংলা বন্দর। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাজাহান বিএন বলেন, ‘মার্চ মাসে বাংলাদেশে যখন সড়কপথে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গাড়ি চলাচলের ওপর নানা বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়, তখন আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে মোংলা বন্দরে পণ্য আসা-যাওয়ার জন্য বিশেষ তদারকি শুরু করি। মাওয়া ঘাটে মোংলা বন্দরের পণ্য বহনের জন্য বিশেষ ফেরি চালু রাখার ব্যবস্থা করি।

একই সাথে সমুদ্রপথে আসা বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নাবিকরা করোনায় আক্রান্ত কি না পরীক্ষার ব্যবস্থা করি। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজস্ববিধি মেনে চলেন, কেউ আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সবাইকে বিশেষ ঝুঁকি ভাতাও প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে।’

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স নুরু অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচ এম দুলাল জানান, করোনাকালে পণ্য বোঝাই ও খালাসে কোনো বেগ পেতে হয়নি। এ জন্য তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

এদিকে বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়াতে মোংলা বন্দরে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন চলছে। পিপিপির (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি) আওতায় মোংলা বন্দরের দুটি অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। জেটি দুটি নির্মাণ করছে সাইফ পাওয়ারটেক।

বন্দর চেয়ারম্যান জানান, সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য মোংলা বন্দরের যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে তার সমাধানে ১০টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেগুলো হলো মোংলা বন্দর চ্যানেলের আউটার বারে চলমান ড্রেজিং কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (ভিটিএমআইএস) প্রবর্তন করা হচ্ছে, যা নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করবে। স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে, সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হচ্ছে, মোংলা বন্দরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বর  থেকে সেগুলো বন্দর ব্যবহারে যুক্ত হতে শুরু করবে। সহায়ক জলযান সংগ্রহ করা হচ্ছে, মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন আছে। ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’-এর কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পশুর চ্যানেলের ইনার বারে নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য ড্রেজিং কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে এবং পিপিপির আওতায় মোংলা বন্দরের দুটি অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডল করা সম্ভব হবে। ছয়টি নতুন জেটি হবে, ২০০টির অধিক বিভিন্ন ধরনের হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে, ১৪টি বিভিন্ন ধরনের সহায়ক জলযান সংগ্রহ করা হবে, ভিটিএমআইএস চালু হবে, কনটেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড, কনটেইনার ইয়ার্ড, ৮ থেকে ১০ হাজার গাড়ি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মাল্টিলেভেল কার ইয়ার্ড হবে, দৈনিক চার হাজার টন বিশুদ্ধ সুপেয় পানি সরবরাহ করা যাবে, পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হবে, ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ যাবতীয় কমিউনিটি সুবিধা সৃষ্টি হবে। এতে মোংলা বন্দরে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টিইউজ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা অর্জিত হবে। ফলে বন্দরের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি ও বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা