kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শপিং মলে ক্রেতাসমাগম বাড়ছে

সজীব আহমেদ   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শপিং মলে ক্রেতাসমাগম বাড়ছে

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে ভিড় বাড়ছে ক্রেতা-দর্শনার্থীর। ছবি : শেখ হাসান

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ সাধারণ ছুটি শেষে ঈদুল আজহার আগেই সারা দেশে খুলেছিল শপিং মল ও মার্কেটগুলো। কিন্তু ক্রেতা কম থাকায় ঈদের মতো উৎসবেও ব্যবসা করতে পারেননি দোকানিরা। মূলত করোনা আতঙ্ক এবং আয় কমে যাওয়ায় মার্কেটমুখী হননি অনেকেই। তবে দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব কিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। রাজধানীর শপিং মল ও ছোটবড় মার্কেটগুলোতেও মানুষের সমাগম বেড়েছে। বেড়েছে পণ্য বিক্রিও। তবে সবচেয়ে বেশি জমে উঠেছে ফুটপাতের বাজার।

রাজধানীর খোলা চত্বরে হকারদের কাপড়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতার আনাগোনা। তবে শপিং মলের ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখে শতভাগ মাস্ক দেখা গেলেও ফুটপাতের ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখে তেমন মাস্ক দেখা যায়নি। আবার কাউকে কাউকে মাস্ক না পরে গলায় বা হাতে ঝুলিয়ে রাখতেও দেখা যায়। কিছুদিন আগেও শপিং মলগুলোর প্রবেশপথে জ্বর পরিমাপের মেশিন হাতে নিরাপত্তাকর্মীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও এখন আর দেখা যায় না। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, যমুনা ফিচার পার্ক ও নিউ মার্কেট, আজিজ সুপারমার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাত ঘুরে এ চিত্রই দেখা গেছে।

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের লুবনানের ম্যানেজার মীর মহসিন আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বেচাকেনা কিছু আছে, তবে খুব যে বাড়ছে তা কিন্তু নয়। শুক্রবারে লোকসমাগম বেশি হয়, বিক্রিও ভালো হয়। কিন্তু অন্যান্য দিনে লোকজনের বেশি আনাগোনা নেই। আগের পর্যায়ে ফিরে যেতে আরো সময় লাগবে মনে হয়।’

এই শপিং মলের আইরো পোশাকের দোকানের ম্যানেজার মামুন আহমেদ তুষার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন বেচাকেনা বাড়ছে আলহামদু লিল্লাহ। রাজধানীর অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় আমরা ভালোই বিক্রি করতে পারছি।’

যমুনা ফিচার পার্কের আড়ং, ইনফিনিটিসহ কয়েকটি শোরুমে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে মানুষের সমাগম ছিল, বিক্রিও মোটামুটি হয়েছিল। এখনো দিন দিন বিক্রি বাড়ছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় যেতে আরো অনেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিক্রয়কর্মীরা।

ফুটপাতের দোকানিরা বলছেন, ‘এখন আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় মানুষজন বড় মার্কেট বা শপিং মলে না গিয়ে ছোট মার্কেট ও ফুটপাত থেকে কম দামের জামা-কাপড় কিনছে। জামা-কাপড় ছাড়া তো চলা যাবে না।’

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আলতাফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজধানীর ফুটপাতে এখন সস্তায় প্যান্ট, গেঞ্জি, শার্ট মেলে। একটু খুঁজলে অনেক দামি ব্র্যান্ডের কাপড়ও বেশ কম দামেই পাওয়া যায়। তাই বড় মার্কেট বা শপিং মলে এবং ব্র্যান্ডের জুতার দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি না থাকলেও কম দামের পণ্যের মার্কেট বা ফুটপাতে কেনাকাটা করতে মানুষ আসছে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এপ্রিল-মে মাসে সারা দেশের দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় দোকান মালিক সমিতি। তাতে হোঁচট খায় গোটা দেশের অর্থনীতি। এই ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছেন মাঝারি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যবসায়ীরা। ঈদুল ফিতরের আগমুহূর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত হলেও বন্ধ ছিল বেশির ভাগ মার্কেট। সাধারণ ছুটি শেষে ৩১ মে থেকে সব ধরনের মার্কেট, শপিং মল ও দোকানপাট খোলা হলেও ক্রেতাশূন্য সময় কাটাতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শপিং মল ও মার্কেটগুলোতে বিক্রি স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে। বিক্রি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। তবে ক্রেতাসমাগম দিন দিন কিছু বাড়ছে। করোনার আগের তুলনায় এখন রাজধানীর শপিং মলগুলোতে ২০ শতাংশ মানুষ আসে। ব্যবসায়ীরাও নতুন মালপত্র তুলতে পারছেন না। কারণ ভারত, চীন যাওয়া এখনো বন্ধ। আমাদের স্টকে যে মালপত্র ছিল সেগুলো দিয়ে চলছে। আমরা এখন বাঁচার জন্য ডিসকাউন্ট দিয়ে বিক্রি করছি। আমাদের হাতে তো ক্যাশ নেই। লস দিয়ে বিক্রি করলেও ক্যাশ পাচ্ছি। এখন আমাদের ক্যাশ দরকার। তবে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এই মুহূর্তে আমাদের যে এজেন্সিগুলো আছে, তাদের সহায়তা কামনা করছি। এখন আর দোকান খোলা-বন্ধ নিয়ে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই, করোনা শুরুর আগের অবস্থায় আছে।’ সুরক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মার্কেটগুলোতে এখন আর আগের মতো সুরক্ষা নেই। শুধু মাস্কের ওপর সুরক্ষা নিশ্চিত করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা