kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে দরকার জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ

মাহবুবুল আলম, সভাপতি, চট্টগ্রাম চেম্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে দরকার জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ

যেকোনো কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা রাখে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলছেন, কভিড-১৯-পরবর্তী মহামারিও তাঁরা মোকাবেলা করতে পারবেন। তবে প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য দরকার একটু সাহস ও আর্থিক সহযোগিতা।

তিনি বলেন, তৃণমূল অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করতেই তাঁদের লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছেন। কিন্তু সেটির সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমি খুব একটা আশাবাদী নই।

তাঁর মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কাছে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা বিনা জামানতে ব্যাংকঋণ প্রদান নিশ্চিত করতে না পারলে কভিড-১৯-পরবর্তী দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে। কারণ সেই ছোট ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেই নগদ লেনদেন বা ক্যাশ ফ্লো নিশ্চিত হয়। একজন ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীর লেনদেন হলেই মোবাইল কম্পানি টিকে থাকে। একজন মুদি দোকানির পণ্য বিক্রির ওপরই বড় শিল্প গ্রুপগুলোর টিকে থাকা নির্ভর করে। একজন চিনি-ছোলা খুচরা বিক্রেতার বিক্রির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল আমদানীকৃত ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা। অর্থনীতির গতি এভাবে সব কিছু সার্কেলের মধ্যেই হয়ে থাকে। কিন্তু প্রান্তিক লেভেলের সেই বিক্রেতা যদি টিকে না থাকে তাহলে তো আমি বা আমরা কেউ টিকে থাকব না।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে বিনা জামানতে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান সঠিক ব্যবসায়ীকে দিতে না পারলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো চ্যালেঞ্জিং হবে। আমি বলব, তাঁদের ঋণ দিলে খেলাপি হবে না। বড় শিল্পপতিরা ঋণখেলাপি হন কিন্তু ছোট দোকানিরা টাকা মেরে খান না। কিন্তু পাঁচ লাখ টাকা তাঁর ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অনেক বড় শক্তি।

তিনি বলেন, কভিড-১৯ মহামারির কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের কাছে নগদ টাকার এখন ব্যাপক সংকট। এ জন্য শুনেছি অনেকেই নগদ টাকা জোগাড় করতে ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করছেন। ধারকর্জ করে নগদ টাকা সংগ্রহ করছেন। কিন্তু তাঁদের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা সুবিধা।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের এসব ঋণ প্রদানে সহায়তা দিতে আমরা চট্টগ্রাম চেম্বার থেকে একটি হেল্পডেস্ক খুলে দিয়েছি। ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে, কতটা সহজে এই ঋণ দেওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেছি। আগামী বৈঠকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে বলেছি, এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজ সুবিধা কতজন পেয়েছেন। কতজন প্রক্রিয়াধীন আছেন। কতজন তালিকাভুক্ত বা আবেদন করেছেন। এর পরই আমরা টু দ্য পয়েন্টে আলোচনা করব। সফল হতে আর কী করতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা