kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পাইকারি বাজার

মাসুদ রানা   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পাইকারি বাজার

আমাদের নিজেদের পণ্যগুলো লোকসান হলেও বিক্রি করে দিচ্ছি। কারণ দীর্ঘদিন ব্যবসা বন্ধ ছিল। এখন আগের মতো ব্যবসা নেই। মফস্বলের তেমন চাহিদা না থাকায় ব্যবসায়ীরা পণ্য নিতে আসছেন না। তা ছাড়া প্রত্যেক পণ্যের দাম বেড়েছে। যে কারণে মানুষের চাহিদাও কম। ইসলামপুরের ওমর অ্যান্ড টেক্সটাইলের কর্মকর্তা আজাদ কালের কণ্ঠকে এভাবেই তুলে ধরেন তাঁদের পাইকারি ব্যবসার বর্তমান হালহকিকত। তবে তাঁর মুখে হতাশার ছাপ থাকলেও ব্যবসায় আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নটিও দেখা গেল।  

করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ ছিল। চলতি মাসের শুরুতে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালুর নির্দেশনা দিলেও মার্কেটগুলোতে আগের মতো ক্রেতা নেই।

তবে তাঁদের আশা আস্তে আস্তে এ সংকট কেটে যাবে। কেউ কেউ ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির ওপরও জোর দিচ্ছেন। যাঁরা দোকানে এসে পণ্য নিতে পারছেন না। তাঁদের চাহিদামতো পণ্য ঠিকানা অনুযায়ী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নবাবপুরে ন্যাশনাল ট্রেডার্সে ধান ভাঙানো মেশিন, শস্য ও ভুট্টা মাড়াই করা মেশিন, ঘাস ও ধানকাটা মেশিন, পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন কৃষি মেশিনারিজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বিক্রি হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে এ দোকানের বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। তবে বিক্রি বাড়ানোর লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

দোকানের মালিক রাফি আহমেদ বলেন, ‘করোনায় আমাদের প্রায় ৭৫ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে। ঘরভাড়া, কর্মচারীর বেতন দিয়ে যেতে হচ্ছে। আমরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্যাম্পেইন, অনলাইনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনলাইনের বিক্রির ওপর জোর দিচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কোনো মেশিনের দাম কমেনি। আমাদের যন্ত্রপাতি বেশির ভাগ চায়না থেকে আসে। করোনায় মেশিনের ওপর ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। সরকার যদি ট্যাক্স কম করত তাহলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারতাম।’

নবাবপুরের জাকির মিল স্টোরের ম্যানেজার ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমাদের মতো ছোট দোকানের ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি সমস্যায় আছি। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ক্রেতারা আসছে না। তাই বিক্রি আগের চেয়ে অর্ধেকের নিচে চলে গেছে।’

নিউ জননী ইলেকট্রনিক স্টোরে বিদ্যুতের যাবতীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্র যেমন : সকেট, হোল্ডার, ব্রেকার, ওভারলোড, রিলে, ফ্যান, বাল্ব, কেবল বিক্রি হয়। করোনার আগে দোকানে বিক্রি তুলনামূলক ভালো থাকলেও বর্তমানে তেমন বিক্রি নেই।

বর্তমানে দোকানে পণ্য বিক্রির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক জাবেদ হোসেন বলেন, লকডাউনে দুই মাসের বেশি সময় দোকান বন্ধ ছিল। এখন চালু হলেও বিক্রি নেই। কিন্তু আমরা কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। ব্যবসা একদম স্থবির হয়ে গেছে। তবে  আমাদের সব যন্ত্র চায়না থেকে আসে। এসব আমদানীকৃত যন্ত্রের ওপর ট্যাক্স কমলে ভালো হতো। আশা করি, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিগগিরই ব্যবসা আগের মতো হবে।

পাটুয়াটুলীর জুয়েল ওয়াচ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাইকারি ও খুরচা দামে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দেয়াল ঘড়ি ও হাত ঘড়ি বিক্রি করে। তবে বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আগের মতো ঘড়ির চাহিদা না থাকায় তেমন বিক্রি নেই। আর যা বিক্রি হয় তা দোকান ভাড়া দিতেই শেষ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে দোকানের মালিক জুয়েল বলেন, ‘কোনো ব্যবসা নেই। সারা দিনে কোনো ক্রেতা আসে না। অলস সময় পার করছি। আর টুকিটাকি যা বিক্রি হয় সেটা দিয়ে চলে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা