kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ক্রেতাদের বাজারমুখী করতে ছাড়ের হিড়িক

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রেতাদের বাজারমুখী করতে ছাড়ের হিড়িক

চট্টগ্রাম শহরের ছোট-বড় সব শপিং মলে এখন ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রির উৎসব চলছে। ব্র্যান্ড থেকে নন-ব্র্যান্ড সব দোকানেই চোখে পড়ছে ছাড়ের ব্যানার। এসব দোকানে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে; আবার কেউ ‘দুটি কিনলে একটি ফ্রি’ অফারও দিচ্ছে। কেউ কেউ ছয় মাস ধরে বিক্রি করতে না পারা পণ্যও বিভিন্ন ছাড়ে বিক্রি করছে। কাপড়ের দোকান থেকে শুরু করে জুতার দোকান, এমনকি কসমেটিকস বিক্রিতে চোখে পড়ছে এই অফার।

শুধু কি শপিং মল, চট্টগ্রামে কাপড় বিক্রির সবচেয়ে বড় পাইকারি মার্কেট টেরিবাজারেও চলছে অলিখিত ছাড়। বিক্রেতারা ছাড় তো দিচ্ছেন, এর সঙ্গে নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে, অনেক ক্ষেত্রে কেনা দামেও এই কাপড় বিক্রি করছেন।

কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, কভিড-১৯-পরবর্তী অর্থনৈতিক অবস্থা পুনরুদ্ধার করতে ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। মূলত ব্যবসা সচল রাখতে ব্যবসায়ীদের হাতে এখন নগদ টাকার ব্যাপক সংকট। নগদ টাকার সংস্থান করতেই এই উদ্যোগ তাঁদের।

ব্যবসা সচল রাখতে টেরিবাজারের জনপ্রিয় শপিং মল মেগামার্টে চলছে ব্যতিক্রমী আয়োজন। সেই মলে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আগামী চার মাস সেবা সপ্তাহ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের কোনো শপিং মলে এ ধরনের আয়োজন এই প্রথম। এই চার মাসে ক্রেতাদের একেবারে ন্যূনতম লাভে এবং অনেকটা কেনা দামেই পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে।

মেগামার্টের মালিক আবদুল হান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বেচাকেনা প্রায় বন্ধ ছিল। রমজানের ঈদে আমরা দোকান খুলিনি। কোরবানির ঈদে ২৫ শতাংশ পণ্য বিক্রি করেছি। আমি তো প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করতে পারব না। কারণ প্রতি মাসে ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে হবে। পাওনাদারকে টাকা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার খরচ এবং কর্মীদের বেতন-ভাতা দিতে হবে। কিন্তু ২৫ শতাংশ বিক্রি দিয়ে তো এই ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। তাই নতুন এই উদ্যোগ।’

তিনি বলছেন, ‘ক্রেতারা তো খুব প্রয়োজন ছাড়া এখন কাপড় কিনছেন না। বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠান শুরু হওয়ায় তাঁদের লক্ষ্য করে আমরা অনেকটা কেনা দামেই পণ্য বিক্রি করছি। তাঁদের উৎসাহিত করতেই অর্থাৎ বাজারমুখী করতেই এই উদ্যোগ। কারণ লোকজন যেন প্রয়োজনের সময় আমাদের সেবা পায়। পরবর্তীতে তাঁরা হয়তো আমাদের ক্রেতা হবেন। ডিসেম্বরে আমি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ৫০ শতাংশ নিতে চাই।’

টেরিবাজারে মেগামার্টের উদ্যোগ দেখে ক্রেতারাও খুশি। সেখান থেকে বেরিয়ে সুরাইয়া জান্নাত বলেন, এখন একেবারে জরুরি প্রয়োজনের কেনাকাটা চলছে; বিলাসিতার সময় এখন নয়। সে সময়ে এমন উদ্যোগ মনে রাখার মতো।

শুধু টেরিবাজার নয়, চট্টগ্রামের অভিজাত শপিং মল স্যানমার ওশান সিটির প্রবেশমুখেই ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ব্যানার ঝুলিয়েছে দেশীয় ব্র্যান্ড শৈল্পিক। প্রায় সব ধরনের পণ্যে এবং চট্টগ্রামজুড়ে সব শোরুমেই প্রতিষ্ঠানটি ছাড় দিচ্ছে। শৈল্পিক ছাড়াও বাটা, এপেক্স, ওরিয়ন জুতার শোরুমে চলছে বিভিন্ন প্রকার ছাড়। দোকানে প্রবেশের সময় সেই বিজ্ঞাপন চোখে পড়বে।

দেশীয় ব্র্যান্ড নিয়ে গড়ে ওঠা চট্টগ্রামের আফমি প্লাজার ‘দেশীদশ’ শোরুমেও চলছে বিভিন্ন ধরনের ছাড়। ‘সাদাকালো’র বিক্রয়কর্মী রবিউল হোসেন বলেন, ‘বৈশাখের পর দুই ঈদের পণ্য বিক্রির টাকা দিয়ে পরের বছরের প্রস্তুতি নিই। তবে চলতি বছর করোনায় তিনটি বড় উৎসবে প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হয়নি। সে কারণে আমরা ব্যবসায়ীরা নগদ টাকার সংকটে রয়েছি। প্রায় প্রত্যেকেই টিকে থাকার জন্য লড়াই করছেন।’ পণ্যের স্টক খালি করা ও টাকা সংগ্রহের জন্য বড় মূল্য ছাড় দিতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূল্য ছাড় দেওয়ায় ব্যবসায় কিছুটা গতি এসেছে। টাকার প্রবাহও বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরে তিনটি উৎসব ঘিরে মূলত বেচাকেনা হয়—বৈশাখ, রমজানের ঈদ, কোরবানি ঈদ। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তিনটি উৎসবেই বেচাকেনা হয়নি। এতে প্রচুর পণ্য কারখানায় জমে গেছে। বিক্রি না হওয়ায় কারখানা থেকে বাকিতে কেনা পণ্য দোকানে মজুদ গড়েছে। কিন্তু ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমেনি। ব্যাংকঋণের সুদও কমেনি। এ অবস্থায় ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করে সেখান থেকে পাওয়া নগদ টাকা দিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চান ব্যবসায়ীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা