kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

আশা জাগাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসের প্রভাবে বেশ কয়েকটি ‘মেগাপ্রকল্পের’ অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হলেও রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ পুরোদমেই চলছে। কাজের ৩০ শতাংশ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী ২০২৩ সালে প্রকল্পটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার আশা করছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হবে। পরের বছর চালু হবে সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট। প্রকল্প থেকে সময়মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে আট হাজারের মতো জনবল এখন এ প্রকল্পে কাজ করছে, যার মধ্যে বিদেশি জনবল রয়েছে প্রায় দুই হাজার।

সম্প্রতি প্রকল্পের পরিচালক ড. শৌকত আকবর গণমাধ্যমকে জানান, ‘এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে বিদেশি জনবলও বৃদ্ধি করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা কাজের গতি আগের থেকে বাড়িয়েছি। রিঅ্যাক্টর ভবনের নির্মাণ কাজ এগিয়ে আছে। সব কাজ শিডিউল মতোই চলছে। নির্মাণকাজের ৩০ শতাংশের পাশাপাশি প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ২৭ শতাংশ।’

মহামারি করোনার মধ্যেও রূপপুরের কাজ কিভাবে এগিয়ে চলছে, এ বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক শৌকত আকবর বলেন, ‘তিন রকম পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কাজে যোগ দেওয়ার আগে প্রতিদিন তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। কারো তাপমাত্রা বেশি থাকলে সাত দিনের জন্য বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে। এরপর আবার পরীক্ষা করে সুস্থ মনে হলে তাকে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এরপর কাজ করার সময়ও তাদের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। রাশিয়ানদের ও আমাদের আলাদা মেডিক্যাল টিম আছে। কাজ করার সময় কারো তাপমাত্রা যদি বেশি থাকে, বাধ্যতামূলকভাবে তাকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানতে ২৪ ঘণ্টার জন্য সূচি করে কর্মীদের আলাদা গ্রুপ করে দেওয়া হয়েছে এবং ক্যান্টিনে বসে খাওয়ার ক্ষেত্রেও দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। কোয়ারেন্টিনের জন্য আলাদা আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে।

বিদেশ থেকে যারা আসছে, তাদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট সঙ্গে আনতে হচ্ছে। আসার পর ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। কোয়ারেন্টিন শেষে পরীক্ষা করে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। নতুন কর্মী, সে দেশি বা বিদেশি যেই হোক, করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করেই কাজে যোগ দিতে হয়। এসব ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে নির্মাণকাজে এখনো কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়নি বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।

পাবনার রূপপুরে এই প্রকল্পের পারমাণবিক চুল্লির জন্য ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরের বছর জুলাইয়ে দ্বিতীয় চুল্লির নির্মাণকাজ শুরু হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা