kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

৯ মাসে পুঁজিবাজারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

৪১ শতাংশ কম্পানির আয় বেড়েছে

রফিকুল ইসলাম   

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৪১ শতাংশ কম্পানির আয় বেড়েছে

করোনাভাইরাসের ধাক্কায় এখন প্রায় সব খাত ধুঁকছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পারায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। তবে এই সংকটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যবসা প্রায় তুঙ্গে। মানুষ ঘরে থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। আর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর আয়ও বাড়ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুযায়ী, করোনা সংকটে অন্যান্য খাতের কম্পানির আয়ে প্রভাব পড়লেও ওষুধ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কম্পানির ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব পড়েনি। বরং এসব কম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীর আগ্রহ বেড়েছে, যাতে ক্রমাগতভাবেই বাড়ছে শেয়ারের দাম।

গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৯ মাসের সময় মার্চে করোনা আঘাত হানে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এই সময়ের পর দেশের সব খাত ভুগছে। আমদানি-রপ্তানিও তলানিতে নামে।

সেই পরিস্থিতিতে ওই অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিক বা ৯ মাসের হিসাব প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কম্পানিগুলো। এতে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ১৯টি কম্পানির মধ্যে ১৭টি ৯ মাসের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছে, যাতে সাতটির মুনাফা বেড়েছে আর ৯টির মুনাফা কমেছে। একটি কম্পানি লোকসানে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনা ধাক্কায় মার্চ থেকে দেশের সব খাত প্রভাবিত হওয়ায় তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর শেয়ারের দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে করোনা সংকটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং ওষুধশিল্প খাতের কম্পানির পোয়াবারো।

তাঁরা বলছেন, ৯ মাসের হিসাবে কিছু কম্পানির আয় ভালো হলেও কিছু কম্পানির আয় কমেছে। তবে চতুর্থ প্রান্তিক বা বছর শেষে এসব কম্পানির আয়ে আরো উল্লম্ফন হবে। আর বিনিয়োগকারীরাও এসব কম্পানির শেয়ার কিনছে। কারণ করোনা লকডাউনে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। তবে যানবাহন চলাচল সীমিত থাকায় জ্বালানি কম্পানির আয় কিছুটা কম।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, পুঁজিবাজারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৯টি কম্পানি তালিকাভুক্ত। এসব কম্পানির কেউ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আবার কেউ জ্বালানি তেল সরবরাহ করে। আবার কোনো কম্পানি লুব্রিকেন্ট উৎপাদন ও বাজারজাত করে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসব কম্পানির ১৭টি ৯ মাসের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছে।

এ হিসাবে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কম্পানিগুলোর মধ্যে সাতটির বা ৪১ শতাংশের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) বৃদ্ধি পেয়েছে। ৯টি কম্পানি বা ৫৩ শতাংশের ইপিএস কমেছে। আর একটি কম্পানির বা ৬ শতাংশের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে।

জানা যায়, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট, বারাকা পাওয়ার, সামিট পাওয়ার, এমজেএলবিডি, পাওয়ার গ্রিড, জিবিবি পাওয়ার ও পদ্মা অয়েল কম্পানির মুনাফা বেড়েছে। আর ডেসকো, তিতাস গ্যাস, ইউনাইটেড পাওয়ার, ইন্ট্রাকো, যমুনা অয়েল, খুলনা পাওয়ার, ডরিন পাওয়ার, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও শাহজীবাজারের মুনাফা কমেছে। আর লোকসানে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পদ্মা অয়েল কম্পানি ইপিএস সবচেয়ে বেশি। ৯ মাসে কম্পানির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২০.৬৩ টাকা। আগের বছরের চেয়ে ৯ মাসের হিসাবে কম্পানিটির আয় বেড়েছে ৫ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯.৭২ টাকা ইপিএস মেঘনা পেট্রোলিয়ামের। তবে আগের বছরের হিসাবে আয় কমেছে ৮ শতাংশ। তবে ইপিএস বাড়ার শীর্ষে রয়েছে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট।

এই কম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ১৯৩ শতাংশ। ২০১৯ সালের ৯ মাসে কম্পানিটির ইপিএস ছিল ২.০৮ টাকা, এবার এই আয় দাঁড়িয়েছে ৬.০৯ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫১ শতাংশ বারাকা পাওয়ারের আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ইপিএস বেড়েছে সামিট পাওয়ারের। আর ইপিএস সবচেয়ে কম অর্থাৎ ৫ শতাংশ করে বেড়েছে জিবিবি পাওয়ার ও পদ্মা অয়েলের। এমজেএলবিডির আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ ও পাওয়ার গ্রিডের বেড়েছে ১১ শতাংশ।

আর সবচেয়ে বেশি মুনাফা কমেছে ডেসকোর। ৯ মাসে কম্পানিটির ৩১ শতাংশ মুনাফা কমেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ তিতাস গ্যাসের আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৪ শতাংশ ইপিএস কমেছে ইউনাইটেড পাওয়ারের।

ইন্ট্রাকোর আয় কমেছে ২২ শতাংশ, যমুনা অয়েলের ১৭ শতাংশ, খুলনা পাওয়ারের ১৫ শতাংশ, ডরিন পাওয়ারের ১২ শতাংশ, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৮ শতাংশ ও শাহজীবাজারের আয় কমেছে ৩ শতাংশ। একমাত্র সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল লোকসানে রয়েছে। আগের মুনাফায় থাকলেও এবার লোকসানে পড়েছে কম্পানিটি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনায় অন্যান্য খাতের কম্পানির শেয়ারের দাম প্রভাবিত হলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং ওষুধ খাতের কম্পানির শেয়ার ভালো করছে। আর এসব কম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীর আগ্রহও বেশি। করোনার সময় ব্যবসাও ভালো করছে, যা আর্থিক হিসাবে প্রতিফলিত হবে বলে মনে করছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা