kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

মেগাপ্রকল্পে এক দশকে বিদ্যুৎ এখন উদ্বৃত্ত

আরিফুর রহমান   

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেগাপ্রকল্পে এক দশকে বিদ্যুৎ এখন উদ্বৃত্ত

১০ বছর আগেও দেশে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ছিল মানুষের জীবন। শুধু রাজধানীই নয়; দেশজুড়ে ছিল লোডশেডিংয়ের দুঃসহ যন্ত্রণা। তখন বিদ্যুতের লোডশেডিং এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মানুষ তখন বলত, বিদ্যুৎ মাঝেমধ্যে যায় না বরং মাঝেমধ্যে আসে। বিদ্যুতের জন্য একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে মানুষকে প্রাণও দিতে হয়েছিল। বিদ্যুতের অভাবে শিল্প-কারখানা ছিল স্থবির। বছর শেষে নেতিবাচক প্রভাব পড়ত জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে। ওই সময় ৬ শতাংশের বৃত্তেই ঘুরপাক খেয়েছে প্রবৃদ্ধি। তবে সে পরিস্থিতি এখন আর নেই। বাংলাদেশ এখন বলতে গেলে বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত দেশের ৯৪ শতাংশ এলাকা। সরকার আশা করছে, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের সুবিধা পৌঁছে দেবে। সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। বর্তমান সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতার সময়ে সফলতার একটি খাত ধরা হয় বিদ্যুৎ খাতকে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ঘাটতির দেশ থেকে এখন বিদ্যুৎ উদ্বৃত্তের দেশ।

বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল তিন হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় বিদ্যুৎ খাতে। হাতে নেওয়া হয় মেগাপ্রকল্প। ১১ বছরের ব্যবধানে দেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২১ হাজার মেগাওয়াট। এক দিনে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার মেগাওয়াটও বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে দেশে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, দেশে এখন বিদ্যুতের চাহিদা ৯ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা কম। দেশে বিনিয়োগ না হওয়ার পেছনে একসময় বিদ্যুৎ সংকটকে দায়ী করা হতো; সেখানে এখন শিল্পেও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। এখন এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে মানুষের জীবন।

সরকারি সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুেকন্দ্রের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭টি। ১০ বছরের ব্যবধানে দেশে এখন সরকারি ও বেসরকারি মিলে বিদ্যুেকন্দ্রের সংখ্যা ১৩৭টি। দেশে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ এসেছে জ্বালানি গ্যাস থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র থেকে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিও দেশে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র, রামপাল বিদ্যুেকন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ভারত থেকে এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে সরকার।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০০৯ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুতের উৎপাদনের ওপর জোর দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বছর থেকে নেওয়া হয় একের পর এক প্রকল্প। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুেকন্দ্র থেকে। বর্তমানে আশুগঞ্জ বিদ্যুেকন্দ্রের আটটি ইউনিট থেকে এক হাজার ৫৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে আশুগঞ্জ বিদ্যুেকন্দ্র, যা পাওয়ার হাব হিসেবে পরিচিত। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় সেখানে ৪০০ মেগাওয়াটের আরেকটি বিদ্যুেকন্দ্রের কাজ চলছে। যেটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে দেড় হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুেকন্দ্র থেকে দুই হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। দেশের আরেকটি বড় বিদ্যুৎ ঘোড়াশাল বিদ্যুেকন্দ্র যেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৯৫০ মেগাওয়াট। নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে প্রায় ৫০০ মেগাওয়াটের মতো। এ ছাড়া বিবিয়ানা থেকে বিদ্যুৎ মিলছে ৪০০ মেগাওয়াট। ভোলা থেকে ২০০ মেগাওয়াট, শাহজীবাজার থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, সিরাজগঞ্জ ও গাজীপুর থেকেও বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

পিডিবি সূত্র বলছে, ২০০৯ থেকে প্রতিবছরই নতুন বিদ্যুেকন্দ্র উৎপাদনে এসেছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করে সরকার। দেশটি থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছে।

এদিকে ২০২১ সাল নাগাদ দেশের বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সাল নাগাদ ৪০ হাজার এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পাবনার রূপপুরে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র, এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র ও এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের রামপাল বিদ্যুেকন্দ্রের কাজ জোরেশোরে এগিয়ে চলেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা