kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

ম. তামিম
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

দেশে জ্বালানি নিরাপত্তার মূল সমস্যা হলো প্রাথমিক জ্বালানি। এ ক্ষেত্রে তো আমরা এখনো আমদানিনির্ভর হয়ে আছি। দুটি এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে যে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে তাতে আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। তবে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরো উদ্যোগ নেওয়া দরকার আছে। এলএনজি আমদানিতে প্রাথমিক জ্বালানির যে সমস্যা আছে তাতে আমার মনে হয় ল্যান্ড স্টেশনের দরকার হবে। মূলত গ্যাস অনুসন্ধান, দেশি কয়লা এ ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার আছে। আর যদি সেগুলো না হয় তাহলে আমাদের আমদানীকৃত গ্যাস ও কয়লা দিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের প্রাথমিক জ্বালানির যে অভাব সেটা এখনো খুব বেশি পূরণ হয়নি। সে অভাবটা এখনো রয়ে গেছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সূত্র থাকতে হবে, আমাদের দেশে যেহেতু বায়ু নেই, একমাত্র সূর্যের আলোর সোলার দিয়ে আমাদের একমাত্র নবায়নযোগ্য জ্বালানির কিছু সম্ভাবনা আছে। তবে সেটা দিয়ে দেশে বাণিজ্যিক আকারে আমার মনে হয় না সুযোগ আছে বর্তমান টেকনোলজি দিয়ে। বাড়িতে বাড়িতে ও সোলার ইরিগেশন পাম্পসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউট সিস্টেমে আমরা ছোট ছোট সোলার হোম থেকে শুরু করে রুফটপ সোলার (ছাদের উপরিভাগ) দিয়ে হয়তো সর্বোচ্চ তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সোলারের মাধ্যমে করতে পারি।

সরকারের আগের পরিকল্পনাগুলো খুব উচ্চাভিলাষী ছিল। তবে আমি অতীতে দেখেছি সব সরকারের পরিকল্পনাগুলো উচ্চাভিলাষীই হয়। কারণ পরিকল্পনাগুলো সব সময় উচ্চাভিলাষী হওয়াই উচিত। কারণ বাস্তবায়ন কখনো শতভাগ হয় না। সেই অর্থে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা উচ্চাভিলাষী হলেও আমি মনে করি তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন অনেক ভালো হয়েছে। সরকারকে আমরা শুরু থেকে বলে আসছি আস্তে আস্তে তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রগুলো ব্যয়বহুল।

মেগাপ্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তাভাবনা করে এগোতে হবে। এ মুহূর্তে আমাদের যে মেগাপ্রকল্পগুলো আছে সেগুলো দিয়ে আমি মনে করি আগামী তিন, চার বছরের যে চাহিদা আছে সেটা পূরণ হয়ে যাবে। এর পরবর্তীতে কী পরিমাণ প্রয়োজন হবে, সেটা খুব ভালোভাবে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা অর্থাৎ ৫ থেকে ১০ বছর করে আমাদের এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের পরিকল্পনাগুলো ৫ থেকে ১০ বছরের প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে করতে হবে। সাধারণত সব দেশেই জ্বালানি নিরাপত্তা বা জ্বালানি পরিকল্পনাগুলো ১০ বছরের বেশি খুব কম করা হয়। এখন টেকনোলজি বদলে যাচ্ছে, নানা রকম পরিবর্তন আসছে। দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে জ্বালানি ও বিদ্যুতের কার্যক্রম।

এনার্জি মিক্সে সরকার যে পরিকল্পনা করেছে আমি মনে করি সঠিক করেছে। নিউক্লিয়ার, এলএনজি, কয়লা ও তেল এবং কিছু নবায়নযোগ্য এনার্জি মিক্সে এ কয়টাই আছে আমাদের। এনার্জি মিক্স কয়েকটা ইস্যুর ওপর নির্ভর করে করা হয়েছে, সব মিলিয়ে ঠিকই আছে। তবে সে অনুযায়ী আমরা এগোতে পারছি না, এখনো এনার্জি মিক্সে পৌঁছাতে পারিনি। ২০৪০ সালের এনার্জি মিক্সের যে পরিকল্পনা আছে সেটা ঠিক আছে কিন্তু বর্তমানে এনার্জি মিক্স ৪০ শতাংশই তেলনির্ভর। এটা থেকে সরে এসে এগোতে হবে আমাদের। আরেকটি হলো এনার্জি ডাইভারসিফিকেশন, অর্থাৎ নানা জায়গা থেকে এনার্জি আনতে হবে। সেটা যেন এক দেশ বা এক জায়গার ওপর নির্ভরশীল না করে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সজীব আহমেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা