kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

লোড শেডিং কমায় আইপিএস ব্যবসায় ধস

রোকন মাহমুদ   

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোড শেডিং কমায় আইপিএস ব্যবসায় ধস

শহর কিংবা গ্রামে লোড শেডিংয়ে বিরক্ত হয়ে মানুষ বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা করে। বিকল্প ব্যবস্থা মানেই আইপিএস স্থাপন। এখন সময় বদলেছে। শহরে লোড শেডিং হয় খুব কম। কিছু কিছু গ্রামেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভালো। ফলে আইপিএস ব্যবস্থার খুব একটা প্রয়োজন হয় না। এতে এ খাতের ব্যবসাও অনেকটা কমে এসেছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও বিক্রেতারা জানান, কয়েক বছর আগের তুলনায় আইপিএসের বিক্রি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তবে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিই আইপিএস বিক্রি কমার মূল কারণ নয়। সঙ্গে সোলার প্যানেলের প্রসারও আরো একটি কারণ। গ্রাম পর্যায়ে এমনকি শহরেও এখন সোলার প্যানেল বসানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যাকুমুলেটর অ্যান্ড বেটারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও জেনারেল ব্যাটারি কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে আইপিএসের ব্যবহার আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। আমার হিসাব বলছে, দেশে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আইপিএস মার্কেট কমেছে।

আমরা আইপিএসের ব্যাটারি উৎপাদন ও সরবরাহ করি। সেখানকার হিসাবও তাই বলে। এর পেছনে মূলত দুটি কারণ। একটি তো বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে, ফলে লোড শেডিং কমেছে। আরেকটি হলো সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি। আগে যারা আইপিএস কিনত তাদের অনেকেই এখন সোলার প্যানেল ব্যবহার করছে।

তবে দেশে ব্যাটারির বাজার আগের তুলনায় বেড়েছে বলে মনে করছেন তিনি। এই ব্যবসায়ী জানান, আইপিএসের ব্যবহার কমলেও ব্যাটারি ব্যবহারের নতুন অনেক খাত তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইজি বাইক। দেশে রিকশার পরিবর্তে ইজি বাইকের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সেখানে ব্যাটারির বিক্রিও বেড়েছে।

একই রকম কথা বললেন রাজধানীর বসুন্ধরা গেট এলাকার রাজিয়া অটোমোবাইলসের ম্যানেজার মো. মইনুদ্দীন। তিনি বলেন, করোনার কারণে এখন আমাদের সব পণ্যের বিক্রিই কম। আইপিএস জরুরি কোনো পণ্য না হওয়ায় এখন মানুষ এসব কিনছে না। তবে আইপিএসের বিক্রি আগে থেকেই কমছিল। গত কয়েক বছরে শহরে লোড শেডিং কমে আসায় আইপিএসের চাহিদাও কমেছে। আগের বছরের তুলনায় গত বছর আমাদের ৪০ শতাংশ আইপিএস বিক্রি কম হয়েছিল। এ বছর আরো কমবে। তিনি বলেন, অনেক কম্পানি আইপিএস সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক কম্পানির আইপিএস এলেও সরবরাহ খুবই কম এবং সময়ও লাগে বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আইপিএস সাধারণত দুই ধরনের হয়। এর একটি হাতে তৈরি, অন্যটি হয় ব্র্যান্ডেড। তবে নির্ভরশীলতা ও বিক্রয়োত্তর সেবার কারণে ব্র্যান্ডের তৈরি আইপিএসই বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হয় বেশি। বিভিন্ন মডেল ও মানের আইপিএস পাওয়া যায় বাজারে। এগুলোর দাম নির্ভর করে এর ওয়াট বা কার্যক্ষমতা ও ব্র্যান্ডের ওপর। বাজারে সিঙ্গার, বাটারফ্লাই, রহিমআফরোজ, নাভানা, হ্যামকো, সনি, সু-কাম, ফিলিপস, স্যামসাংসহ বিভিন্ন কম্পানির আইপিএস রয়েছে। এসব আইপিএসে চলবে ফ্যান, লাইট, টিভি, ফ্রিজসহ যাবতীয় ইলেকট্রিকসামগ্রী। মতিঝিল, নিউ মার্কেট, গুলশান, কলাবাগান, পান্থপথ ও মিরপুর, বসুন্ধরা গেট রোডসংলগ্ন ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইল পার্টস ও অ্যাকসেসরিজ দোকান এবং ব্যাটারি বিক্রির শোরুমগুলোতে পাওয়া যাবে এসব আইপিএস।

সাধারণত তিনটি এনার্জি বাল্ব ও দুটি সিলিং ফ্যান চালানোর জন্য ৫০০ থেকে ৬০০ ওয়াটের আইপিএস হলেই চলে। এগুলোর খরচ পড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে। যে দোকান থেকে কিনবেন সেখানেই পাওয়া যায় ফিটিংয়ের টেকনিশিয়ান। তাঁরাই আপনার বাসায় আইপিএসটি বসিয়ে দিয়ে যাবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা