kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

ক্রেতা বেড়েছে মেহেদী মার্ট ও বাজার সারাবেলায়

সজীব আহমেদ   

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রেতা বেড়েছে মেহেদী মার্ট ও বাজার সারাবেলায়

করোনাভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যেও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সুপারশপ মেহেদী মার্ট ও বাজার সারাবেলা মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করছে এবং শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করছেন। যতটা সম্ভব ঝুঁকি প্রশমন করে সুপারশপকর্মীরা ক্রেতাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। শতভাগ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতসহ সুপারশপের নানা পদক্ষেপের কারণে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। দেশের কাঁচাবাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব না হওয়া, জিনিসপত্রের তুলনামূলক চড়া দাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার সক্ষমতা না থাকায় অনেক ক্রেতাই সুপারশপমুখী হচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেহেদী মার্ট ও বাজার সারাবেলা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। সাততলা মেহেদী মার্ট হাইপার মার্কেটে রয়েছে ৪০ হাজারেরও বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্যের সমাহার। এক ছাদের নিচে যেমন আছে মাছ-মাংস, কাঁচাবাজার, পোশাক-পরিচ্ছদ, প্রসাধনসামগ্রী, চাল-ডাল, রেস্টুরেন্ট, ফাস্ট ফুড, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, ইলেকট্রনিক পণ্য, তেমনি আছে শাড়ি-গয়নাও। বাদ নেই শরীর গঠনের জিম কিংবা রূপ-সৌন্দর্যবর্ধনের বিউটি পার্লার ও সেলুন। ২০১৩ সালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এই বিশ্বমানের আধুনিক মার্কেট চালু হয়।

এ বছরের ২০ জানুয়ারি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যাত্রা শুরু করে সুবিশাল পরিসরে আধুনিক সুপারশপ বাজার সারাবেলা। বাজার সারাবেলায় ২৫ হাজারেরও বেশি পণ্য রয়েছে। রংধনু গ্রুপের এ দুটি সুপারশপে বড় পরিসরে পণ্যগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে সোজা তাকালে প্রতিটি লাইনে হাজার হাজার পণ্য চোখে পড়বে। দেশের বৃহত্তম এ দুটি সুপারশপের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ২৫৫ জন তরুণ-তরুণী, যাঁরা শপিংয়ের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ‘মেহেদী মার্ট ও বাজার সারাবেলা সুপারশপে সরকারের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা অনুসারে ক্রেতাদের সেবা দিতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং স্প্রে দেওয়া হচ্ছে। সুপার শপগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, সেখানে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত দামেই পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।’

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাজার সারাবেলায় এসেছেন গাম্বিয়ার অধ্যাপক ড. ওমর ঝা। তিনি বর্তমানে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমি বাজার সারাবেলার নিয়মিত ক্রেতা। এখানে একই ভবনে সব কিছু পাওয়া যায়। তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট।’

মেহেদী মার্টে বাজার করতে আসা সুলতানা কামরুন নেছা জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে তিনি বাজারে যেতে আগ্রহী নন। কারণ ধাক্কাধাক্কি করে, একে অপরের সঙ্গে শরীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করতে হয়। সেখানে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া কষ্টকর। মানসম্মত পণ্য, এক জায়গায় সব পণ্য পাওয়ার কারণে তিনি এই সুপারশপেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

মেহেদী মার্টের ইনচার্জ আনিছুর রহমান ও বাজার সারাবেলার ম্যানেজার মামুন মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ আমাদের কর্মী ও গ্রাহকদের সুরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। যাঁরা বাজার সারাবেলায় ঢুকছেন তাঁদের প্রত্যেককেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশক স্প্রে করার পর ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয় এবং মাস্কের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। যাঁদের মাস্ক নেই তাঁদের আমরা ফ্রি মাস্ক দিয়েছি। ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ইস্যুতে পদক্ষেপ নেওয়ার ফলেই গ্রাহকসংখ্যা বেড়েছে। গ্রাহক বেড়ে গেলেও আমরা কোনো জিনিসের দাম বাড়াইনি। পণ্যের গায়ে যা দাম লেখা ছিল সে দামেই বিক্রি করছি। আমরা সব সময় চেষ্টা করি কাস্টমারদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে।

জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বাজার সারাবেলা ও মেহেদী মার্টের শাখা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। কিছুদিন আগেও হোম ডেলিভারি সিস্টেম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। করোনা সংক্রমণের ভয়ে যাঁরা বাসা থেকে বের হতে পারছিলেন না তাঁদের জন্য হোম সিস্টেমটি চালু করা হয়েছে। হোম ডেলিভারি দেওয়ার জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে সেটির মাধ্যমে শুধু হোম ডেলিভারি দেওয়া হবে।

তাঁরা আরো বলেন, শুধু করোনার জন্য নয়, এ দুটি সুপারশপ শুরু থেকেই ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় ছিল। এখনো আগের মতোই আছে। রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিচক্ষণতায় মেহেদী মার্ট ও বাজার সারাবেলা মানুষের আস্থা তৈরি করেছে। করোনাকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুরক্ষার বিষয়টি সব সময় নজরদারি করার পাশাপাশি কাজে উৎসাহিত করার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের বেতনের বাইরে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা ও কর্মচারীদের ৯ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

 

মন্তব্য