kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

অনলাইনে পণ্য বিক্রিতে গুরুত্ব দিচ্ছে মীনা বাজার

শাহীন খান
সিইও, মীনা বাজার

সজীব হোম রায়   

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অনলাইনে পণ্য বিক্রিতে গুরুত্ব দিচ্ছে মীনা বাজার

‘আমরা মুনাফায় আছি। তাই আমরা মীনা বাজারকে আরো বড় করব। করোনা-পরবর্তী সুপারশপিংয়ে বদল আসবে। মানুষ অনলাইনে বাজার করতে পছন্দ করছে। তাই আমরা মীনা ক্লিক ডটকমকে আরো গুরুত্ব দিচ্ছি। এটাকে আমরা আরো বড় করব। হোম ডেলিভারি এরই মধ্যে জোরদার করা হয়েছে। এটাকে আরো কিভাবে বাড়ানো যায়, তা আমরা দেখছি।’ কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মীনা বাজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহীন খান এসব কথা বলেন।

করোনাকালীন সময়ে সুপারশপে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সুপারশপে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। মার্চ মাসের শুরু থেকেই আমরা করোনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়েছি। আমাদের কর্মীরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করছেন। গ্রাহকদের জন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব ঠিক করে দেওয়া আছে। তাই শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে। প্রতিটি স্টোরের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী আমরা ক্রেতাদের প্রবেশ করতে দিই। বেশি লোক হলে বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। তা ছাড়া একজন কাস্টমার ট্রলি ব্যবহারের পর সেটার হাতলটাকে আমরা ভাইরাসমুক্ত করি সব সময়। একটি পাবলিক প্লেসে যতটুকু সতর্কতা নেওয়া সম্ভব হয়, এর সর্বোচ্চটুকু আমরা নিই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে বাজারে যাওয়ার অবস্থা নেই। সে ক্ষেত্রে সুপারশপগুলোই ভরসা। তার পরও করোনাভাইরাসের কারণে সুপারশপগুলোর ব্যবসা কমে গেছে। মার্চ-এপ্রিলে ব্যবসা ভালো ছিল। কারণ তখন মানুষের মধ্যে একটা ভয় ছিল। অনেকে ভয়ে কেনাকাটা করেছে। তবে সাধারণ ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ার পর সে ভয়টা আর নেই। তাই ক্রেতা এখন অনেক কমে গেছে। মানুষ এখন আর বেশি খরচ করতে চায় না। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।’

কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান সে জন্য মীনা বাজার চেষ্টা করে উল্লেখ করে শাহীন খান বলেন, ‘সুপারশপগুলো সব সময়ই চেষ্টা করে যাতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান। তবে সব সময় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কেনা সম্ভব হয় না। আমরা চাল কিনি সরাসরি কুষ্টিয়ার কৃষক থেকে, আম কিনি রাজশাহীর বাগান থেকে। সুপারমার্কেট যদি বাংলাদেশে আরো বড় হয় তাহলে কৃষকদের কাছ থেকে আরো পণ্য কেনা সম্ভব হবে। তার পরও আমরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কিনতে চেষ্টা করি।’

বাংলাদেশে সুপারশপের বাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সুপারশপের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল। মানুষ এখন ব্যস্ত। তাই ঘুরে ঘুরে খুঁজে খুঁজে বাজার থেকে পণ্য কেনার মতো সময় নেই। সুপারশপ সে ব্যবস্থাটা মানুষকে করে দিয়েছে। সব পণ্য এক ছাদের নিচে এনে দিয়েছে। মীনা বাজারসহ সুপারশপগুলো কোয়ালিটি ধরে রাখে। যেটা হয়তো বাজারে সম্ভব হয় না। তবে দীর্ঘ ১৮ বছর পর সুপারশপের বাজার যে জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল, তা যেতে পারেনি। এর কারণ হলো, সরকারের কিছু নীতি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, সুপারমার্কেটের প্যাকেটজাত পণ্যে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। কিন্তু অন্য বড় বড় জেনারেল স্টোরে এ ভ্যাট নেই। এটা খুবই বড় সমস্যা। এটা বৈষম্যমূলক আচরণ। এ ধরনের ব্যবস্থা থাকলে সুপারমার্কেট বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন হলো, এই ভ্যাট তুলে দেওয়া হোক। অথবা সব জায়গায় একই ভ্যাট আরোপ করা হোক। আর এটি করতে হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ইসিএফ মেশিন সবাইকে দিতে হবে।’

মীনা বাজারের বিশেষত্ব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশেষত্ব হলো, আমরা অর্গানিক পণ্যের ওপর জোর দিই বেশি। পঞ্চগড়ে আমাদের নিজেদের অর্গানিক চা বাগান আছে। খুলনায় ফার্ম আছে। এটা আমাদের একটা বড় শক্তি। দ্বিতীয়ত, আমরা কোয়ালিটি এবং পণ্যের দামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আমাদের নিজেদের ট্রেনিং সেন্টার আছে। আমরা কর্মীদের দক্ষতার ওপর জোর দিয়ে থাকি।’

 

মন্তব্য