kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

করোনায় অবারিত সেবায় সুপারশপ

মো. জাকির হোসেন
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সুপারমার্কেট, ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন

এম সায়েম টিপু   

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় অবারিত সেবায় সুপারশপ

করোনার সময় মানুষ যখন ঘরবন্দি তখন মানুষ শঙ্কিত হয়ে পড়ে তাঁদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাওয়া নিয়ে। যদিও এ সময় প্রচলিত বাজারগুলো ছিল প্রায় বন্ধ। আবার কিছু খোলা থাকলেও সময়ের সীমাবদ্ধতা ছিল। তখন অবারিত সুবিধা নিয়ে ভোক্তার দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছে দেয় দেশের সুপারশপের কর্মীরা।

করোনার সময় সুপারশপের সেবা আর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সুপারশপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন এক সাক্ষাৎকারে কালের কণ্ঠকে বলেন, দুর্যোগকালীন মানুষের নিত্যপণ্যের যেন কোনো ভোগান্তি না হয়; এ জন্য দেশের সুপারশপগুলো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখানে ব্যবসা থাকলেও মানবিক বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য অবশ্য আমাদের নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়তে হয়। উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত কর্মী জোগান, ভোক্তার চাহিদা ও সময় অনুসারে প্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান দেওয়া চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ে। এর পরও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফল হতে পেরেছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, বিশেষ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত লোকবলের অভাব হয়। লকডাউন এলাকাগুলোতে যাতায়াতে স্থানীয় এবং প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা এবং সামাজিক ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ এবং পণ্য সরবরাহে আমাদের প্রথম দিকে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। এ ছাড়া সংক্রমণের হার বাড়ায় অনেক কর্মী কাজে আসতে পারেননি। কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে কাজে আসতেও চাননি।

পণ্য সরবরাহ লাইনে কোনো সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, করোনার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান পরিবহনের অভাবে পণ্য সরবরাহ করতে পারেনি। তবে সে ক্ষেত্রে সুপারশপগুলো নিজেদের পরিবহনব্যবস্থা দিয়ে পণ্য সংগ্রহ করেছে। এ ছাড়া চাল, ডাল, আটা, তেল এমন নিত্যপ্রয়োজনীয় ১২টি ভোগ্য পণ্য রোজা উপলক্ষে ভোক্তাদের কম দামে সারা মাস দেওয়ার জন্য বেশি মজুদ করা হয়। করোনার এই সময় কোনো পণ্য ঘাটতির সংকটে পড়তে হয়নি উদ্যোক্তাদের এবং ন্যায্যমূল্যে পণ্য পেয়েছেন ভোক্তারা। এসব পণ্যে কোনো রকম বেশি দাম নেওয়া যাবে না; এমন নির্দেশনাও ছিল সংগঠনের পক্ষ থেকে সুপারশপগুলোকে।

সাধারণ সময়ের চেয়ে প্রথম দিকে আমাদের পণ্যের চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরে নেমে আসে ১৫ শতাংশ। তবে এখন আবারও বাড়ছে। নিয়মিত প্রতিদিনের লেনদেন গড়ে যেখানে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা বিক্রি হতো। সেখানে ৩০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০ থেকে ১৩ লাখে।

তিনি বলেন, গত ১৮ থেকে ২০ বছরে সুপারশপগুলো দেশের মানুষকে প্রচলিত বাজার থেকে বের করে এনে এক ছাদের নিচে সব ধরনের পণ্যের সুবিধা দিচ্ছে। স্বপ্ন, আগোরা মীনা বাজার, প্রিন্স বাজার ইউনিমার্ট এমন পাঁচ-ছয়টি ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান দেশে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় সব ধরনের পণ্য এক জায়গা থেকে কেনেন ভোক্তারা। তবে ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট সুপারশপ অগ্রযাত্রাকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি যেকোনো পণ্যের এমনিতেই মূল্য সংযোজন কর দিতে হয় ভোক্তাদের। এরপর শুধু সুপারশপে বাজার করায় অতিরিক্ত ৫ শতাংশ হারে ভ্যাটের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক। এর ফলে বিশ্বায়নের যুগে সময় প্রাধান্য দেওয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

 

মন্তব্য