kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

জনগণের ‘ডিজিটাল ব্যাংক’ হবে নগদ

তানভীর আহমেদ মিশুক
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নগদ

মাসুদ রুমী   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জনগণের ‘ডিজিটাল ব্যাংক’ হবে নগদ

বিশ্বের দ্রুতবর্ধনশীল ডিজিটাল ফিন্যানশিয়াল সেবা হিসেবে বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে নগদ। এশিয়া প্যাসিফিক পোস্টাল ইউনিয়নের (এপিপিইউ) কাছ থেকে সম্প্রতি এসেছে এই স্বীকৃতি। নগদের আদলে সেবা চালু করার আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বের ৯টি দেশ। মাত্র ১৫ মাসের যাত্রায় মোবাইল ফোনের লেনদেনের ক্ষেত্রে একচেটিয়াত্ব ভেঙে দিয়েছে ‘নগদ’। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সহজ, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ী এই উদ্যোগটি এখন দেশের দ্বিতীয় সেরা ডিএফএস (ডিজিটাল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস)। মোবাইল ফোনের লেনদেনকে এমএফএস থেকে ডিএফএসে রূপান্তরের পথিকৃৎও নগদ। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আর আকর্ষণীয় সেবার সমাহার নিয়ে নগদকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তানভীর আহমেদ মিশুক। তিনি নগদকে শুধু টাকা দেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। তাঁর স্বপ্ন, নগদকে ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে দাঁড় করানো। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, নগদকে মানুষ ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে চিনবে। ব্যাংকে গ্রাহকরা যে সেবা পান এর সবই তাঁরা নগদের মাধ্যমে পাবেন—এই নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর স্বাধীনতা দিবসে (২৬ শে মার্চ) নগদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। যাত্রা শুরুর পর দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সেবাটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান তানভীর আহমেদ মিশুক। তিনি বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমরা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ম্লান ও ম্রিয়মাণ চেহারাকে বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আমরা দেশের গণমানুষের জন্য ডিজিটাল আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-বিধানের মধ্যে থেকে অভিনব সেবা এবং অফার দিয়েই নতুন নতুন নগদ ব্যবহারকারী তৈরি করতে চাই আমরা। ডিএফএস সেবার ক্ষেত্রে আমরা একটা বিপ্লব করেছি। চাইলেই যেকোনো গ্রাহক যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে নগদের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। যাত্রা শুরুর প্রথম ১৫ মাসের মধ্যে আমরা দুই কোটি গ্রাহক অর্জন করেছি, দিনে ১০০ কোটি টাকা লেনদেনের মাইলফলক অতিক্রম করেছি। দেশজুড়ে নগদের দেড় লক্ষাধিক রিটেইল পয়েন্ট আছে।’

সরকারি অর্থ লেনদেনের ডিজিটাইজেশনে নগদ কতটা ভূমিকা রাখছে—জানতে চাইলে নগদের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “সরকারঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগান আমরা পুরোপুরি আমাদের মধ্যে ধারণ করেছি। আমাদের নিরন্তর লড়াই আর্থিক লেনদেনকে ডিজিটাইজ করা। প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে সব সরকারি সংস্থার ভাতা নগদের মাধ্যমে বিতরণের জন্য একটি অনুশাসন দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা এখন অনেক মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সঙ্গে কাজ করছি। সরকারের আস্থার প্রতিফলন তো প্রধানমন্ত্রীর ‘ঈদ উপহার’ বিতরণের সময় দেখাই গেছে। নগদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ১৭ লাখ পরিবারকে তাদের মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ৪২৫ কোটি টাকা পৌঁছে দেওয়া। মোট বিতরণ হওয়া ঈদ উপহারের এক-তৃতীয়াংশই নগদ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। নগদের ওপর সরকারের রাখা আস্থার প্রতিদান হিসেবে আমরা সরকারের সব ভাতা বিতরণকে ডিজিটাল করে দিতে চাই।”

নগদ কিভাবে ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তার কাজে লাগতে পারে—জানতে চাইলে তানভীর আহমেদ মিশুক বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনার বিশাল দূয়ার খুলে দেবে। এটি শুধু তাদের লেনদেনকেই ডিজিটাইজ করবে না, তাদের লেনদেনের রেকর্ডও থাকবে, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্রেডিট স্কোরিংয়ে ভূমিকা রাখবে। ক্রেডিট স্কোরিং একবার চালু হলে তাদের লেনদেনের ধরন, অঙ্ক, সংখ্যা জানা যাবে, তখন ছোট উদ্যোক্তা বা মাইক্রো মার্চেন্টদের অর্থায়ন করার চ্যালেঞ্জ দূর হবে।

করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা মোকাবেলায় ব্যবসায়ীদেরও বিকল্প সমাধান নিয়ে ভাবতে হবে বলে মনে করেন নগদের এমডি। তিনি বলেন, ‘নিত্যনতুন সেবা এবং প্রযুক্তির উদ্ভাবনই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজে লাগবে। সাধারণ হিসাব হলো, ব্যবসার আয় কমে গেলে খরচ কমানোর বিকল্প নেই। কিন্তু এটি আবার এই নয় যে কর্মী ছাঁটাই বা বেতন কমিয়ে দিয়ে খরচ কমাতে হবে। বরং কাজটি করার অনেক স্মার্ট উপায় আছে। যেমন—আমরা খেয়াল করছি, বেশির ভাগ কর্মীই এখন বাসা থেকে বেশ ভালোভাবে কাজ করছেন। সুতরাং অফিস স্পেশ কমিয়ে আনা চমৎকার বিকল্প হতে পারে। স্পেশ ভাড়া, ইউটিলিটিস, রক্ষণাবেক্ষণ অনেক খরচের। এগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভাবা যেতে পারে। আরো অত্যাধুনিক ও উদ্ভাবনী উপায়ের সন্ধান করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনা বা নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।’

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজকে সাহসী এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ উল্লেখ করে তানভীর আহমেদ মিশুক বলেন, ‘আমরা অবশ্যই এর সমর্থন করছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হলো, গ্রাহকের ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন দূর করতে হবে, যেটি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও কমাবে। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল ফিন্যানশিয়াল সেবা একটি চমৎকার উপায় হতে পারে। সরকারঘোষিত প্যাকেজগুলোর তহবিল সরবরাহ ডিএফএসের মাধ্যমে করলে চমৎকার ফল আসবে। বিষয়টিতে ব্যাংক এবং নগদ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।’ তিনি বলেন, নগদ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের লেনদেন খরচ কমিয়ে ৬ টাকায় নিয়ে এসেছে। এসএমই ব্যবসায়িদের লেনদেন খরচ কমলে পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে দেশের সকল মানুষ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা