kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

করোনায় ডিজিটাল লেনদেনে আস্থা

গত তিন মাসে কার্ড ও অ্যাপসভিত্তিক লেনদেন বেড়েছে ৫০ শতাংশ

জিয়াদুল ইসলাম   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনায় ডিজিটাল লেনদেনে আস্থা

মহামারি করোনার সংক্রমণ এড়াতে ডিজিটাল লেনদেনে আস্থা রাখছে মানুষ। করোনাকালীন গত তিন মাসে ব্যাংকের কার্ড, অ্যাপস ও ইন্টারনেটভিত্তিক লেনদেন প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা গেছে। এ সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহারও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, টাকার নোটে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা আছে। এর পাশাপাশি সশরীরে ব্যাংকে গিয়ে লেনদেনে সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয় রয়েছে। এসব কারণে করোনার এই সময়ে ডিজিটাল লেনদেনে মানুষকে উৎসাহিত করে আসছে ব্যাংকগুলো। বেশির ভাগ ব্যাংকই গ্রাহকদের মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তথা স্মার্ট অ্যাপ, এটিএম এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করার পরামর্শ দিচ্ছে। এ সময়ে কার্ডভিত্তিক লেনদেনের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো এটিএম বুথ থেকে ফি ছাড়াই টাকা তোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রাহকরাও ডিজিটাল লেনদেনে আগ্রহী হচ্ছে।

ব্যাংক এশিয়ার এমডি মো. আরফান আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার এই সময়ে অনলাইন ও ডিজিটাল লেনদেন বাড়ছে। আর এটা সিগনিফিক্যান্টলি বেড়েছে। আমার মনে হয় এটা সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। গত তিন মাসে আমাদের ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপসে ৩০ হাজার কাস্টমার নতুনভাবে সংযুক্ত হয়েছে, যেটা সাধারণ সময়ে লাগত প্রায় এক বছর।’

তিনি বলেন, ‘কভিড-১৯-এর অনেক খারাপ দিকের মধ্যে একটা ভালো দিক হলো—এটা বাংলাদেশের ডিজিটাইজেশনকে দু-চার বছর এগিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আমাদের কমিউনিকেশন, জিজিটাল স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ ও কাস্টমারদের উৎসাহের সঙ্গে এ সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে। সব মিলিয়ে করোনায় এই সময়ে আমরাও গ্রাহকদের নতুন নতুন সেবার অফার করছি, যাতে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ে।’

সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি এম কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার সময়ে সাধরণ ছুটির মধ্যেও ব্যাংক সীমিত পরিসরে খোলা ছিল। তার পরও সংক্রমণ এড়াতে আমরা গ্রাহকদের অনলাইন ও ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহী করার চেষ্টা করেছি। গ্রাহকরা তাতে উৎসাহও দেখিয়েছে। ধীরে ধীরে অনলাইন ও ডিজিটাল লেনদেনে বেড়েছে এবং ব্যাংকের কার্যক্রম পুরোদমে চালুর পরও তা অব্যাহত রয়েছে।’

এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সব সময় গ্রাহকদের অনলাইন ব্যাংকিংয়ে উৎসাহিত করে আসছি। আর করোনা দুর্যোগের এই সময় অনলাইন ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। এ সময় গ্রাহকদের আমরা সশরীরে শাখায় না এসে তার পরিবর্তে এটিএম, সিআরএম, সিডিএমে লেনদেনের পরামর্শ দিচ্ছি। সারা দেশে এমটিবির সব এটিএম থেকে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড গ্রাহকদের ফ্রিতে টাকা তোলার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এটিএম থেকে টাকা তোলার সীমাও বাড়ানো হয়েছে। ফলে এ সময়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ছে।

করোনার সময় ডিজিটাল লেনদেনে গ্রাহকদের উৎসাহিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে করোনার কারণে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক লেনদেনে কোনো ধরনের চার্জ না কাটার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া করোনার কারণে ওষুধ ও নিত্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এসব পণ্য কিনতে প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকা খরচ করা যাবে। মাসে করা যাবে এক লাখ টাকা। এর বাইরে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ভ্রমণ কোটায় বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার নিতে পারেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কোটার চেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হলেও তা ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডে ছাড় করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক ছিল ১৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪৮ জন। ওই মাসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এক হাজার ৩৫৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এ ছাড়া বর্তমানে ডেবিট কার্ডের গ্রাহক রয়েছে এক কোটি ৮৬ লাখ ১১ হাজার ৬৮১ জন। জানুয়ারি মাসে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল ১৫ হাজার ২৬৯ কোটি টাকার। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারি শেষে দেশে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকসংখ্যা ছিল ২৬ লাখ পাঁচ হাজার ১৭৬ জন। ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।

এদিকে করোনার সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চে মোট লেনদেনের সংখ্যা ৪ শতাংশ বেড়েছে। এ মাসে মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ২৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৪টি। যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ২২ কোটি ৬১ লাখ ৯ হাজার ৪০৫টি। তবে সংখ্যা বাড়লেও টাকার অঙ্কে এ মাসে লেনদেনের পরিমাণ প্রায় পৌনে ৪ শতাংশ কমে গেছে। এ মাসে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৪১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা