kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

শিগগিরই নতুন সেবা যুক্ত হবে বিকাশে

মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মো. মনিরুল ইসলাম
চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার, বিকাশ

সজীব হোম রায়   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শিগগিরই নতুন সেবা যুক্ত হবে বিকাশে

ছোট ছোট এমন অসংখ্য অর্থনৈতিক লেনদেন আছে যার কারণে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যেমন লাইনে দাঁড়িয়ে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ। এতে গ্রাহকের যেমন ভোগান্তি তেমন যাঁরা বিল সংগ্রহ করেন তাঁদের সময় এবং খরচও অনেক বেশি। এখন সারা দেশের অনেক ধরনের ইউটিলিটি বিলসহ সব বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানির বিল কোনো ঝামেলা ছাড়াই বিকাশে পরিশোধ করতে পারেন গ্রাহক। কভিডের এই সময়ে গ্রাহকের ঘরে থাকার গুরুত্ব বিবেচনায় ব্যাংক থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। এখন ১৪টি ব্যাংক থেকে মুহূর্তেই টাকা বিকাশে আনা যায়। আছে ভিসা এবং মাস্টারকার্ড থেকে টাকা ক্যাশ-ইন করার সুবিধাও। ক্রেডিট কার্ডের বিলও ঘরে বসেই বিকাশে পরিশোধ করা যায়। ভবিষ্যতে বিকাশ মুদির দোকান থেকে শুরু করে ভ্রাম্যমাণ সবজিওয়ালা সবাইকে বিকাশ পেমেন্টের আওতায় আনতে চায়। বিকাশ ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছে যেন ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারেন। শিগগিরই আরো নতুন সেবা যুক্ত হবে বিকাশে। প্রতিষ্ঠানের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মো. মনিরুল ইসলাম এসব কথা জানান।

প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, মার্চ মাসে বিকাশে গড়ে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯৮০ কোটি টাকা, এপ্রিল মাসে যা কমে দাঁড়ায় ৭৮০ কোটি টাকার মতো। মে মাসে এসে সরকারের প্রণোদনা বিতরণ, শ্রমিকদের বেতন বিতরণ, ঈদের কারণে রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখিতা এসবের কারণে গড়ে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১২০০ কোটি টাকার মতো। মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের ব্যবহারে কিছু পরিবর্তন হলেও সার্বিক বিবেচনায় লেনদেন কমেছে। 

করোনা সংকটে লেনদেনে ফিতে কোনো ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, বিকাশের ক্যাশ-আউট এবং পি-টু-পি বাদে অন্য সব সেবা সম্পূর্ণ ফ্রি। উল্লেখ্য, ক্যাশ-আউটের টাকাটার বেশির ভাগ কমিশন হিসেবে চলে যায় এজেন্ট এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে। এ ছাড়া মোবাইল টেলিকম নেটওয়ার্ক অপারেটরের চার্জ এবং সরকারি কোষাগারে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর প্রদান করা হয়। তবে কভিড-১৯ কালীন, বিকাশ গ্রাহকদের সুবিধা বিবেচনায় রেখে প্রথম এক হাজার টাকা ক্যাশ-আউটে এবং ৫০০ টাকা পর্যন্ত সেন্ডমানিতে কোনো চার্জ না নিয়ে বিকাশ প্রায় ২০ কোটি টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করেছে।  এ ছাড়া এই সংকটকালে সরকারের প্রণোদনা বিতরণে প্রতিটি ক্যাশ-আউট ফির ১.৮৫ শতাংশের  ১.২৫ শতাংশই বিকাশ নিজেই বহন করেছে। একইভাবে গার্মেন্টকর্মীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার বেলায়ও  ১.০৫ শতাংশ বিকাশ বহন করেছে। ভবিষ্যতে গ্রাহক ও লেনদেনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ক্যাশ-আউট চার্জ কমানোর বিষয়টি সহজসাধ্য হবে। 

লেনদেনে প্রতারিত হলে গ্রাহকের কী করণীয়—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, বিকাশ একটি ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সেবা। এই সেবা ব্যবহারে গ্রাহকের কিছু ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ ও ‘ডিজিটাল অ্যাওয়ারনেস’ থাকতেই হবে। একজন গ্রাহক যদি তাঁর বিকাশ পিন এবং ওয়ান টাইম পাসওর্য়াড (ওটিপি) গোপন রাখতে পারেন, তাহলে প্রতারক কিছুই করতে পারবে না। প্রতারক গ্রাহককে কৌশলে ফাঁদে ফেলে তাঁর কাছ থেকে পিন এবং ওটিপি নিয়ে প্রতারণার সুযোগ নেয়। আমরা সচেতনতা বাড়াতে বিজ্ঞাপন দিচ্ছি। সবাই সচেতন হলে এই দুটি পদক্ষেপেই গ্রাহক নিরাপদ থাকতে পারেন। আশার কথা, আমাদের অধিকাংশ গ্রাহকই সচেতন যার প্রমাণ বিকাশে তাঁরা দিনে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ লাখ লেনদেন করছেন সফলতা ও আস্থার সঙ্গে।

প্রতারক টাকা তুলে নেওয়ার আগে যদি প্রতারিত গ্রাহক বিকাশকে দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি জানাতে পারেন, সে ক্ষেত্রে টাকাটি আটকানো সম্ভব হয়। আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে গ্রাহকের থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে তাঁদের টাকা ফিরিয়ে দিই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আদালতের আদেশ মাফিক আমরা প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রতারক চক্রকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করি। কেউ প্রতারিত হলে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭-এ ফোন করে জানাবেন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি করবেন। সে ক্ষেত্রে বিকাশ ভোক্তার টাকা উদ্ধারে পদক্ষেপ নিতে পারে।

পথচলায় বিকাশের সাফল্য সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করেন। আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এই অবদান কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, বিশ্বের বুকেও উদাহরণস্বরূপ। গবেষণায় দেখা গেছে, বিকাশ ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনের পরিবর্তনের এই চিত্রে বিকাশের এই অবদানে আমরা গর্বিত। ফিন্যানশিয়াল খাতে আস্থা অর্জন করাই সবচেয়ে জরুরি। বিকাশ এই আস্থার জায়গাটা তৈরি করতে পেরেছে বলেই কভিড-১৯ চলাকালে দেশের জনগণ সহজেই তাঁদের অর্থনৈতিক লেনদেন করতে পেরেছেন। কভিড-১৯ সময়কালে ঈদের জাকাত প্রদান করতে বিকাশের ব্যবহার হয়েছে, দেশের মানুষের ঈদ উদ্‌যাপনের অংশ হতে পারা বিকাশের সাফল্যের একটি বড় অংশ। 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান যুগে সব কিছুতেই প্রযুক্তির দাপট, আর যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং, ব্লকচেইন/ডিএলটি, ইন্টারনেট অফ থিংসের (আইওটি) ব্যবহার করে আধুনিক একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিকাশ যেখানে কম খরচে বিশ্বসেরা সেবা দিতে পারা সম্ভব হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা