kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

নতুন বাজেট নিয়ে দুই অর্থনীতিবিদ

স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে

করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের মতে, এ মুহূর্তে মানুষের জীবন রক্ষার জন্য যা যা করণীয় তা বাজেটে থাকতে হবে। সেই সঙ্গে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।

 

বাজেটে বিশেষ নজর ও বরাদ্দ বাড়াতে হবে স্বাস্থ্য খাতে

এ বি মির্জ্জা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা 

মানুষের জীবন রক্ষার জন্য যা যা করণীয় তা বাজেটে থাকতে হবে। এ জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে বরাদ্দ এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। বিশেষ নজর ও বরাদ্দ বাড়াতে হবে স্বাস্থ্য খাতে। করোনার আগে থেকেই স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ সেটা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম। জাতীয় উৎপাদন বা বাজেটর অংশ হিসেবে এই বরাদ্দ খুবই কম। এবার বাজেটে ঘাটতি অনেক বাড়বে। এই ঘাটতি মাত্র সাড়ে ৬ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ হতে পারে। এই ঘাটতি অর্থায়নে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রাপ্তি আরো বাধাগ্রস্ত হবে। এমনিতেই চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে অনেক বেশি ঋণ নিয়ে ফেলেছে। কাজেই সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে খুব বেশি ঋণ নিতে পারবে না। আবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে খুব একটা অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। কেননা করোনার কারণে অনেকেই তাদের সঞ্চয় ভেঙে দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় নির্বাহ করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে মানুষের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার মতো সক্ষমতা সংকুচিত হয়ে গেছে। সুতরাং ঘাটতি অর্থায়নে এবার সরকারকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিতে হবে। পাশাপাশি বৈদেশিকনির্ভরতা বাড়াতে হবে। সরকার সে পথেই হাঁটছে বলে আমার মনে হয়। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। আবার বৈদেশিক দাতা সংস্থা থেকেও সাহায্য বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। এরই মধ্যে এডিবি, আইডিবি, বিশ্বব্যাংক থেকে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এবারও রাজস্ব আদায়ে বড় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে। আমি মনে করি এটা অবাস্তব টার্গেট হবে। এ জন্য সরকারের উচিত হবে প্রাধিকারভুক্ত খাতে কত টাকা খরচ হবে সেটা প্রাক্কলন করে রাজস্ব আদায়ের বাস্তবসম্মত টার্গেট নির্ধারণ করা।

 

আমি পরামর্শ দিয়েছিলাম ছয় মাসের বাজেট দেওয়ার জন্য

আহসান এইচ মনসুর

নির্বাহী পরিচালক, পিআরআই ও অর্থনীতিবিদ

অনুমানভিত্তিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবছর বাজেট দেওয়া হচ্ছে। এমনকি নতুন বাজেট দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের বছরে পারফরম্যান্সটাও মূল্যায়ন করা হয় না। আর এবার তো করোনা মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই আমি পরামর্শ দিয়েছিলাম ছয় মাসের বাজেট দেওয়ার জন্য। কারণ ছয় মাস তুলনামূলক কম সময় হওয়ায় দেশের অর্থনীতির হালচাল কী হতে পারে সে সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা করা যায়। আর এটা করতে পারলে বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হতো। এ ছাড়া পুরো বছরের বাজেট করার মতো সক্ষমতা বা তথ্যনির্ভরতা আমাদের নেই। আর তথ্যনির্ভরতা ছাড়া বাজেট করা খুব একটা ফলদায়ক হবে না। তাই আগের ধারাবাহিকতায় এবারের বাজেটও হবে গতানুগতিক। এ গতানুগতিক বাজেটে এখনকার প্রেক্ষাপটে যেসব লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হবে সেটা অর্জিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা থাকবে। তবে আমি মনে করি এবার বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে স্বাস্থ্য খাতে। সেই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে হবে। এ জন্য বাড়াতে হবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা। এ ছাড়া অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে সেটি বাস্তবায়নে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। এবারও বড় ধরনের ঘাটতি থাকবে। আর এ ঘাটতি বাড়ার কারণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া। তবে এবার ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে খুব বেশি ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেই ঋণ নিতে হবে সরকারকে। নতুন টাকা ছাপিয়ে এটা করতে হবে। এ ছাড়া সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বেশি ঋণ নিলে ব্যাপক ক্ষতি হবে বেসরকারি খাতের। এতে অর্থনীতির চাকা কম ঘুরবে। এর প্রভাব পড়বে জিডিপি ও কর্মসংস্থানের ওপর। এটা অবশ্যই ভালো লক্ষণ না। তবে করোনার কারণে এবার বৈদেশিক উৎস থেকে বেশ কিছু ঋণ সহায়তা আনতে সক্ষম হবে সরকার। প্রতিবছর রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে পড়ছে দেশ। আমাদের ট্যাক্স জিডিপি প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় তুলনামূলক কম। ধারাবাহিকতা থাকলে অর্থনীতি অচল হয়ে যাবে। তাই আমি মনে করি, আগামী দিনে রাজস্ব খাতে ব্যাপক সংস্কার আনতে হবে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে এই সংস্কার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। তবে এই মুহূর্তে আওতা বাড়ানোর চেয়ে যেটা দরকার সেটা হলো রাজস্ব খাতে প্রশাসনিক সংস্কার। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে আধুনিকীকরণব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। এ জন্য গুরুত্ব দিতে হবে অটোমেশনে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও মাঠ পর্যায় থেকে বাধা আসবে। এ বিষয়ে সরকারকে সচেতন থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ট্যাক্স জিডিপি কমতেই থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা