kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

রাজস্ব আদায়ে নতুন চ্যালেঞ্জ

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও আসছে বাজেটে বাড়বে লক্ষ্যমাত্রা
বড় করদাতারাও অসহায়

রফিকুল ইসলাম   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্থনীতির আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে। এই লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ না হলেও পরবর্তী বছরের বাজেটে আরো বাড়ানো হয়। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় করজাল বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ে হিমশিম খেতে হয় এনবিআরকে। রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহ করতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে দাতা সংস্থার কাছ থেকে ধারকর্য করে ব্যয় নির্বাহ করে সরকার।

দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার বাড়ানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়বে। করোনার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে সব কিছুই। বড় বড় করদাতা প্রতিষ্ঠানের আয়ে নেমেছে ভাটা। অনেক কারখানা বন্ধও রয়েছে। আয় কমে গেলে সরকারের রাজস্বও কমে যাবে। বিদ্যমান লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও নতুন লক্ষ্যমাত্রায় পর্যাপ্ত কর আদায় হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ করোনা পরিস্থিতিতে সরকার চাইলেও বাড়তি কর আদায় অসম্ভব আবার কাউকে জোর-জবরদস্তি করে কর আদায়ও সম্ভব হবে না।

চীনে করোনা শনাক্তের পর আমদানিতে ভাটা থাকলেও গত মার্চে দেশের অর্থনীতিতে বড় আঘাত হেনেছে করোনা। থমকে গেছে দেশের অর্থনীতির চাকা। তছনছ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে অর্থনীতি। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মন্থর গতি। বিনিয়োগ তো নেই-ই, উল্টো বন্ধ হচ্ছে শিল্প-কারখানা। দেশের পাঁচ কোটি দরিদ্রের সঙ্গে নতুন করে আরো অন্তত আড়াই থেকে তিন কোটি মানুষ দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে। আমদানি সীমিত হলেও নেই রপ্তানি। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক ধারার কারণে টান পড়ার ঝুঁকিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। কিন্তু সরকারের ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব আদায় রেকর্ড নেতিবাচক অবস্থার মধ্যে পড়েছে। একদিকে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না অন্যদিকে বাজেট বাড়ানোর কারণে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ছে।

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার বাড়ছে। যদিও ২০১৯-২০ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর আদায় সম্ভব হয়নি। বৈরী পরিস্থিতিতে বাজেটের আকার বাড়ানো চলতি বাজেটের ধারাবাহিকতায় উচ্চাভিলাষী বাজেট বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে পাঁচ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা বিদ্যমান বাজেটের চেয়ে ৬৬ হাজার ৮১০ কোটি টাকা বেশি। কাঙ্ক্ষিত আয় না থাকায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা ঘাটতি ধরা হয়েছে।

করোনার কারণে আতঙ্কের মুখে পড়েছে দেশের মানুষ। স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি জীবন-জীবিকা নিয়েও রীতিমতো আতঙ্কে মানুষ। এ ক্ষেত্রে সরকারের কর আদায় বাড়ছে না। বরং সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষার আওতা বাড়াতে গিয়ে উল্টো সরকারের ব্যয় বাড়ছে কিন্তু সেই হারে বাড়ছে না আয়। করোনার কারণে শিল্প-কারখানা বন্ধ ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হবে। প্রতিবছর করের জাল বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এবার সেই আওতায় বাড়ছে না। কাজেই মানবিক কারণে করদাতাদের চাপও দিতে পারছে না সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে করদাতাদের উপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। করোনা পরিস্থিতিতে জনগণের যেন কষ্ট না হয় সে বিষয়টিও ভাবছে সরকার। কর দিতে সক্ষম কিন্তু কর দিচ্ছেন না এমন মানুষকে করের আওতায় আনার কথা ভাবছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

সূত্র জানায়, আগের বছরের চেয়ে প্রতিবছর রাজস্ব আহরণ বাড়ে কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় না। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সে লক্ষ্যেই রাজস্ব আদায়ও চলছিল। অর্থবছরের প্রথম আট মাস রাজস্ব আদায় ঠিকমতো হলেও গত মার্চ থেকে রাজস্ব আদায়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস সব কিছু থমকে দিয়েছে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে এনবিআর থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনা হয়।

করোনার কারণে অর্থনৈতিক গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম মনে করেন, অর্থবছর শেষে দুই লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরিত হতে পারে। এ বিষয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন তিনি। সেখানে বাজেট ২০১৯-২০-এর জন্য নতুন করে টার্গেট নির্ধারণ করার কথা জানিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি জানান, এনবিআরের চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য এনবিআরের যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে, তাও অর্জন করা সম্ভব হবে না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয় কিন্তু আদায় হয় না। তবুও আগামী বছরের জন্য বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়। এই পরিস্থিতিতে করোনার কারণে কর আদায়ে চাপ দেওয়া যাবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা