kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকেই নেওয়া হবে লাখ কোটি টাকা

জিয়াদুল ইসলাম   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকেই নেওয়া হবে লাখ কোটি টাকা

করোনার মধ্যেই নতুন অর্থবছরের জন্য বিশাল ঘাটতির বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেটের আকার হবে পাঁচ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হচ্ছে প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা। আর এই ঘাটতি মেটাতে এবারও ব্যাংকব্যবস্থার ওপরই বেশি নির্ভরশীল হচ্ছে সরকার। এবার ঘাটতি অর্থায়নের প্রায় ৭২ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকাই ব্যাংকব্যবস্থা থেকে নেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। 

সাধারণত ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা তেমন নেই। করোনা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা শিগগিরই বাড়বে বলে মনে হয় না। তবে পুরো প্রণোদনা প্যাকেজ  ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হওয়ায় কিছুটা চাপে আছে এ খাত। তাই আসছে বাজেটে ব্যাংক থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে এই চাপ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার বাজেটে ঘাটতি  অনেক বাড়বে। এই ঘাটতি মাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ হতে পারে। এই ঘাটতি অর্থায়নে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রাপ্তি আরো বাধাগ্রস্ত হবে। এমনিতেই চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে অনেক বেশি ঋণ নিয়ে ফেলেছে। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনার কারণে এবারের বাজেটে ঘাটতি কিছুটা বাড়বে। তবে এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উেসর ওপর যতটা সম্ভব নির্ভরতা কমাতে হবে। কারণ অভ্যন্তরীণ উৎস মানেই ব্যাংক। এমনিতেই সব  প্রণোদনা প্যাকেজ ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো নিজেরাই তো সংকটে আছে।

পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বেশি ঋণ নিলে ব্যাপক ক্ষতি হবে বেসরকারি খাতের। এতে অর্থনীতির চাকা কম ঘুরবে। এর প্রভাব পড়বে জিডিপি ও কর্মসংস্থানের ওপর। এটা অবশ্যই ভালো লক্ষণ নয়।

চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৪.৮০ শতাংশ। এর বিপরীতে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৯.১৩ শতাংশ।

এদিকে আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে পাঁচ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা বিদ্যমান বাজেটের চেয়ে ৬৬ হাজার ৮১০ কোটি টাকা বেশি। নতুন এ বজেটে প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে, যা এ যাবৎ কালের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করা হচ্ছে।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে মূল বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এ ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে। রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার কারণে এপ্রিল পর্যন্ত সরকারের ঋণ গ্রহণ ৫৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই ঋণের বড় অংশ দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা