kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

সাক্ষাৎকারে কাস্টমস কমিশনার ফখরুল আলম

তিন কারণে রাজস্ব আদায় কম চট্টগ্রাম কাস্টমসে

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন কারণে রাজস্ব আদায় কম চট্টগ্রাম কাস্টমসে

তিন কারণে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম। গত ১ জুন এক সাক্ষাৎকারে তিনি কালের কণ্ঠকে এই কথা বলেন। কারণগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে উচ্চ শুল্কের বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি হার কমে যাওয়া; দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রবৃদ্ধি যে হারে বেড়েছে সে হারে আমদানি বাড়েনি এবং তৃতীয়টি হচ্ছে করোনাভাইরাসের প্রভাব।

এই তিন কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি ছিল রাজস্ব আয়ের বড় খাত। এমনিতে গাড়ি আমদানি কমেছে তার ওপর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে উচ্চ শুল্কের আমদানি পণ্য গাড়ি আমদানি ব্যাপকভাবে কমেছে। এর প্রধান কারণ মোংলা বন্দরে গাড়ি রাখার মাসুল চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে অনেক কম; এ কারণে ব্যবসায়ীরা গাড়ি আমদানি করে সেখানে মাসের পর মাস ফেলে রাখতে পারে। চট্টগ্রাম বন্দরে সেই সুযোগ না থাকায় এখানে গাড়ি আমদানিতে আগ্রহ কম।

তিনি বলছেন, গাড়ি আমদানি ছাড়া বড় রাজস্ব আয়ের খাত হচ্ছে জ্বালানি তেল আমদানি। এখন তেল আমদানি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমেছে। তাহলে প্রশ্ন উঠবে দেশে কী জ্বালানি ব্যবহার কমেছে? উত্তর—না। জ্বালানি তেলের বদলে এলএনজি আমদানি বেড়েছে। কিন্তু এলএনজি আমদানিতে শুল্ক হার জ্বালানি তেলের চেয়ে কম। সেই কারণে রাজস্ব আয়ে বড় প্রভাব পড়েছে।

তিনি বলছেন, আগে রাজস্ব আয়ের আরেকটি বড় খাত ছিল মোবাইল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য আমদানি। এখন দেশে এসব পণ্যের উৎপাদন বা সংযোজন কারখানা গড়ে উঠেছে। ফলে বেশি শুল্ক দিয়ে যে মোবাইল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য আমদানি হতো তার স্থলে আমদানি হচ্ছে এসব পণ্যের কাঁচামাল বা যন্ত্রাংশ। এতে শুল্কহারও অনেক কম। এতেও রাজস্ব আয় কমেছে।

কাস্টমস কমিশনার বলছেন, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দ্বিতীয় প্রধান কারণ হচ্ছে রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা; আর প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের চেয়ে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ শতাংশ বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত হচ্ছে আমদানি; কিন্তু সেই পণ্য আমদানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ। তাহলে কিভাবে বাড়তি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে?

কাস্টমস কমিশনার বলছেন, এবার যে বাড়তি পণ্য আমদানি হয়েছে তার বেশির ভাগই দেশে নির্মাণাধীন মেগা প্রকল্পের অধীন পণ্য আমদানি। এসব পণ্যে কিন্তু শুল্কহার অনেক কম। ফলে সেই খাত থেকে আমরা রাজস্ব আয় বঞ্চিত হয়েছি।

চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম মনে করেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে তৃতীয় বড় কারণ হচ্ছে করোনাভাইরাসের প্রভাব। জানুয়ারিতে চীনে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়লে দেশে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। এর পর থেকে আমদানি যেমন কমেছে তেমনি রাজস্ব আয়ও কমেছে। প্রতি মাসেই আমরা ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার নির্ধারিত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এর প্রভাব পড়েছে অর্থবছর শেষে।

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে থাকলেও ভিন্ন কিছু কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে আমরা বাড়তি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া আদায়ে আমরা পৃথকভাবে চিঠি দিচ্ছি। যাতে জুনের মধ্যে সেই বকেয়া আদায় সহজ হয়। এ ছাড়া গাড়ি অ্যাসেসমেন্টের আগে ১ শতাংশ ল্যান্ডিং মাসুল আদায়ের কথা থাকলেও সিস্টেমের দুর্বলতার কারণে সেটি আদায় হয়নি। এখন সেই রাজস্ব আয়ের চেষ্টা হচ্ছে। এই ধরনের ছোট ছোট খাত থেকে বকেয়া রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসিফ সিদ্দিকী

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা