kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

সাক্ষাৎকারে এলএফএমইএবি সভাপতি

চামড়াশিল্পে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দরকার

এম সায়েম টিপু   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চামড়াশিল্পে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দরকার

কভিড-১৯ এর প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের শিল্প খাতও সংকটে পড়েছে। বড় সংকটের মধ্যে পড়েছে দেশের রপ্তানি খাতগুলো। কারণ করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে দেশের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে বড় রিটেইল চেইন স্টোরগুলো এখনো বন্ধ। এ ছাড়া অনেক বড় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানও সম্প্রতি দেউলিয়া হতে শুরু করছে।

বৈশ্বিক এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করায়, বাংলাদেশের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে সংকটে পড়ছে। এরই মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে তাঁদের রপ্তানীকৃত পণ্যের বকেয়া নিয়ে। রপ্তানি পণ্যের টাকা আদৌ তাঁরা ফিরে পাবেন কি না।

গত সোমবার এক সাক্ষাৎকারে কালের কণ্ঠকে এমন শঙ্কার কথা বলেন, দেশের চামড়া খাতের শীর্ষ রপ্তানিকারকদের সংগঠন লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম।

আসন্ন বাজেটে চামড়াজাত পণ্যে উৎপাদন ও রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে কেমন বাজেট চান জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, কভিড-১৯ এর পর গত এপ্রিল মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে। এ সময় প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আয় কমেছে। এটা মে মাসে এসে ৮৫ শতাংশ অতিক্রম করবে। ফলে সম্ভাবনাময় এই খাতকে টেকসই করতে সরকারের নীতিসহায়তা দরকার।

আসন্ন বাজেটে রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ও পাদুকাশিল্পের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের চামড়াশিল্প একটি টেকসই শিল্প হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছিল। এর মধ্যে করোনা নতুন করে ধাক্কা দিয়েছে।

তিনি বলেন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ছয় লাখ এবং পরোক্ষভাবে আরো তিন লাখ মানুষ আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির মধ্যে এই খাতের অবদান ৪ শতাংশ, যা দেশের মোট জিডিপির ০.৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যকে ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার বা বর্ষপণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ২০২১ সাল নাগাদ এ খাত থেকে মোট রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি ডলার এবং মোট জিডিপির ২.৫ শতাংশ করার জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

ফলে সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে রক্ষায় ২০২০-২১ অর্থবছরের নতুন বাজেটে (জুলাই আগস্ট-সেপ্টেম্বর) প্রথম প্রান্তিকের জন্য চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে রপ্তানি পাঁচ হাজার কোটি টাকা নতুন করে প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাইফুল ইসলাম। এ ছাড়া চামড়াশিল্পের জন্য সরকারের অন্য বিনিয়োগসহ সব ধরনের বিনিয়োগ শ্রমিকদের কর্মহীন হয়ে পড়াসহ নানা সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

তৈরি পোশাক খাতের মতো নতুন চামড়া খাতের বিদেশি বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা আছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম শক্তিশালী এবং স্থানীয় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ থেকে লাভবান হয়েছে। সেখানে চামড়াশিল্প এখনো গুণগত মান ও রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের মতো চামড়াশিল্পকেও অনুরূপ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা