kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

বাজেট ২০২০-২১

সংকট, চ্যালেঞ্জ আর পুনরুদ্ধারের বাজেট

সজীব হোম রায়   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংকট, চ্যালেঞ্জ আর পুনরুদ্ধারের বাজেট

সংকট, চ্যালেঞ্জ আর পুনরুদ্ধারের প্রতিশব্দ হতে যাচ্ছে আগামী অর্থবছরের বাজেট। নতুন বাজেটে করোনাভাইরাস মোকাবেলা সম্পর্কে যেমন বলা থাকবে, তেমনি থাকবে পুনরুদ্ধারের আশাবাদ। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আয়। তাই পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটের রাজস্ব আয় বাস্তবতার ভিত্তিতে ঘোষণা করা উচিত বলে তাঁরা মনে করেন। তবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থনীতিবিদদের এসব কথা আমলে না নিয়ে প্রায় চার লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের টার্গেট নিয়ে মাঠে নামছেন। আগামী ১১ জুন বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল করোনাকালীন এই বাজেট ঘোষণা করবেন।

আসছে বাজেটের ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, নতুন বাজেটের আকার বড় হতেই পারে। সরকার ব্যয় বাড়াতেই পারে। তবে এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত, বাজেট বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা যেন বাস্তবসম্মত রাখা হয়। করোনার প্রভাবে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাই বড় লক্ষ্যমাত্রা দেওয়ার কোনো মানে হয় না।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এটি চলতি বাজেটের তুলনায় ৫১ হাজার ৮১০ কোটি টাকা বেশি। তবে বাজেটের আকার চূড়ান্ত করা হয় বাজেট ঘোষণার কয়েক দিন আগে। তাই এ আকারে পরিবর্তন আসতে পারে।

বাজেট পুরোটাই ব্যয়। তাই আগামী বাজেটে ব্যয়ের বিপরীতে আয় ধরা হচ্ছে তিন লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে সংগৃহীত লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। বাকি রাজস্ব আসবে এনবিআরের বাইরে করবহির্ভূত রাজস্ব খাত থেকে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ১৫ হাজার ১৯০ কোটি টাকা বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী অর্থবছরে এ খাত থেকে চলতি অর্থবছরের তুলনায় চার হাজার ৪০০ কোটি টাকা বেশি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বাজেটে ব্যয় ও আয়ের যে পার্থক্য থাকে তাকে ঘাটতি বিবেচনা করা হয়। প্রতি অর্থবছর এ ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়। ঘাটতি ৫ শতাংশে আটকে রাখার এ নিয়মকে ‘গোল্ডেন ফাইভ রুলস’ বলে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো এ নিয়ম ভাঙা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে সব কিছু তছনছ হয়ে যাওয়ার কারণে এবার ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। সেই হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আগামী অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ চলতি অর্থবছর থেকে ২৯ হাজার ৬২১ কোটি টাকা বেশি। ঘাটতি মেটাতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে এক লাখ সাত হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ব্যাংক থেকে বেশিমাত্রায় ঋণ নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। ব্যাংক থেকে সরকার ৭২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। চলতি বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আগামী বাজেটে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ২৪ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি বাজেটে সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে এ উৎস থেকে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার আগামী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকছে বিদেশি উেসর ওপর। আগামী বাজেটে বিদেশি উৎস থেকে সরকার ৭৫ হাজার কোটি টাকার সহায়তা পাওয়ার আশা করছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৬৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ছয় হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে।

চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু করোনার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয় তা সংশোধন করে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ করার কথা বলেছে। আগামী বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা