kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

সাক্ষাৎকারে ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার

করোনা পরবর্তীতে ব্যবসার চালিকাশক্তি হবে ই-কমার্স

১৩ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা পরবর্তীতে ব্যবসার চালিকাশক্তি হবে ই-কমার্স

করোনাভাইরাসে দেশের সংকটকালীন প্রথাগত ব্যবসা-বাণিজ্যে যখন অচলাবস্থা তখন সীমিত পরিসরে হলেও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ই-কমার্স কম্পানিগুলো। ইন্টারনেটভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পণ্য দিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করছে বলে জানালেন ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার। তিনি বলেছেন, মানুষের কেনাকাটার প্রথাগত অভ্যাস অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। করোনা-পরবর্তী বিশ্বে ই-কমার্সেই ব্যবসার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের ই-কমার্স খাতের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি।

শমী কায়সার বলেন, ‘আমাদের যাঁরা অনলাইনে বিজনেস করছেন তাঁদের ১৫ শতাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং ওষুধ বিক্রি করেন। বাকি ৮৫ শতাংশ ফ্যাশন, জুয়েলারি, ইলেকট্রনিকসসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি করেন। তবে ভবিষ্যতে ব্যবসার চালিকাশক্তিই হবে ই-কমার্স। করোনা-পরবর্তী এটাই হবে ব্যবসার ভবিষ্যৎ।’ আমরা দেখতে পাচ্ছি, মানুষের কোনাকাটার অভ্যাস বদলাচ্ছে। অনলাইন পেমেন্ট এখন হাতের নাগালে। অনলাইনে লেনদেনের অভ্যাস বাড়ছে। মানুষ এখন অনলাইনে অভ্যস্ত হচ্ছে। এ খাতে ভবিষ্যতে একটা ভালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তা ছাড়া করোনার মতো মহামারি মোকাবেলায় দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ডিজিটাইজেশন এবং সাপ্লাইচেইন উন্নত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

লকডাউনের পর সরকার ই-কমার্স খাতকে জরুরি সেবা খাত হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রথম দিকে শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং ওষুধ সরবরাহ করত প্রতিষ্ঠানগুলো। সম্প্রতি ই-ক্যাবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পোশাক, বই, ইলেকট্রনিক পণ্য ও রেস্তোরাঁয় তৈরি খাবার অনলাইনে বিক্রির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ৫ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই নির্দেশনায় ঈদ সামনে রেখে পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের অনলাইন বাণিজ্য অনুমোদন দেওয়া হয়। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনলাইনে অর্ডারকৃত এসব পণ্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিক্রি ও সরবরাহ করতে বলা হয়।

শমী কায়সার বলেন, ‘অনলাইনের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সুযোগ কম। আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলেছিলাম, অনলাইনে ফ্যাশনসহ অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করার সুযোগ দেওয়া হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা মানুষের দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছে দেব। আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে সরকার অনলাইন কোনাকাটার পরিধি বাড়িয়েছে। আমরা ই-কমার্স ডেলিভারির ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণ রোধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। সংক্রমণ যাতে না হয় আমরা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তারা বাড়িতে ঢুকবে না। গেটে পণ্য রেখে আসবে। তাদের গ্লাভস, পিপিইসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যা কিছু প্রয়োজন সব সরবরাহ করছে ডেলিভারি কম্পানিগুলো। ডেলিভারি বক্স, ওয়্যারহাউস নিয়মিতভাবে সংক্রমণমুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ ছুটির মধ্যে ঘরবন্দি মানুষের অনলাইনের প্রতি আস্থা বেড়েছে। দিনকে দিন চাহিদা বাড়ছে।

অনলাইন ডেলিভারিতে দেরি হচ্ছে কেন জানতে চাইলে শমী কায়সার বলেন, ‘আমাদের অনেক ডেলিভারিম্যান ছুটিতে বাড়ি চলে গেছে। এ কারণে ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে কিছুটা সরবরাহ সংকটে আছে। সারা বিশ্বেও একই অবস্থা। আগে যেখানে একটা পণ্য ২৪ ঘণ্টায় ডেলিভারি করা যেত এখন সেটা হয়তো ৪৮ ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় লাগছে। এখন অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টিয়ার সরবরাহে এগিয়ে আসছে। যেসব ছেলে-মেয়েরা বসে আছেন তাঁরা ডেলিভারির কাজে এগিয়ে আসছেন। করোনায় প্রতিদিনই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে আমাদের সামনে। আমরা প্রতিদিনই শিখছি।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন—মাসুদ রুমী

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা