kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হেক্সিসলের সংকট বরিশালে

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে করোনা রোগী শনাক্তের পর বরিশাল নগরসহ বিভাগের সব দোকান ও ফার্মেসিতে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সংকট দেখা দিয়েছে। ফার্মেসি ও দোকানগুলোতে যাও মিলছে তার দাম অনেক বেশি। ফার্মেসিগুলো থেকে উধাও হয়ে গেছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হেক্সিসল, স্যাভলন, ডেটল ও হ্যান্ড ওয়াশ জাতীয় পণ্য। পণ্যগুলোর জন্য মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম, তাই এমন সংকট। আর সংকট বলেই দামও একটু বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

এদিকে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কম থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানে কয়েক গুণ চাহিদা বেড়েছে মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হেক্সিসলসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণের। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে প্রতিষ্ঠান মালিক ও পরিচালকরা। তাঁদের দাবি, করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে হাসপাতালে রোগীর সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রয়েল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান কাজী মিরাজ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা মাসিক চাহিদাভিত্তিক মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হেক্সিসল, ফিনাইল, স্যাভলন ও ডেটল কম্পানির কাছ থেকে সংগ্রহ করি। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কম্পানিগুলোর কাছে আমাদের চাহিদা বাড়িয়েছি। অথচ আমাদের চাহিদা অনুযায়ী ওই সব জিনিস সরবরাহ করছে না। যাও সরবরাহ করছে তাও দাম গুনতে হচ্ছে তিন থেকে চারগুণ বেশি। এ অবস্থা চলতে থাকলে নগরে অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। কারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ সরবরাহ কিংবা উৎপাদন যদি কম্পানি থেকে বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। আর এ প্রভাব সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর না পড়লেও প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর ওপর পড়বে।’

নগরের বেসরকারি হাসপাতাল বেলভিউর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এস এম জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সংক্রমণ এড়াতে হাসপাতালে সেবা কাজের সঙ্গে জড়িত সবারই মাস্ক ব্যবহার করার পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার কয়েক গুণ বেড়েছে। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড ওয়াশ ও ফিনাইল যা মজুদ আছে তা দিয়ে কয়েক দিন চালিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি যদি দীর্ঘ হয় তাহলে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সেবা কার্য্যক্রম ব্যাহত হবে।’

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারিভাবে হাসপাতালে মাস্ক, গ্লাভস ও হেক্সিসল যে পরিমাণে সরবরাহ করা হয়েছে তাতে আপাতত সংকট দেখছি না। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার জন্য ওষুধ কিংবা অন্য কোনো কিছুর সমস্যা দেখা দিলে তা অবশ্যই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

মন্তব্য