kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা দুর্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছি

মৌসুমী ইসলাম, চেয়ারম্যান, প্রমিস্কো গ্রুপ

রফিকুল ইসলাম   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



করোনা দুর্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছি

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে সারা দেশের মানুষ এখন ঘরে। এই ঝুঁকির মধ্যেই করোনা চিকিৎসার জরুরি সরঞ্জাম তৈরিতে কাজ করছে প্রমিস্কো। করোনা ঠেকাতে যেসব পণ্য জরুরিভাবে প্রয়োজন, সেসব উৎপাদন করা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী সুলভ মূল্যে করোনা চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে। আমরা দেশ ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। যত পণ্য প্রয়োজন সব কিছুই দেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে প্রথম মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট বা সরঞ্জাম তৈরির কম্পানি প্রমিস্কো। দেশের সব খাতে অনেক অনেক কম্পানি থাকলেও মেডিক্যাল সরঞ্জাম তৈরিতে আমরাই প্রথম। কোনো রোগীর হাসপাতালে প্রবেশের পর থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা পর্যন্ত যত ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন তার সবকিছুই উৎপাদন করছি আমরা। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ তৈরিতেও আমরা সামনের সারিতে। ঝুঁকির মধ্যে দাঁড়িয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে কাজ করছি। বিনা মূল্যে উপকরণও দেওয়া হচ্ছে।

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, অর্থনীতির আকার বাড়ছে। কিন্তু দেশে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে মেডিক্যাল সরঞ্জাম তৈরির বিষয়টি কেউ সেভাবে ভাবেনি। এগিয়েও আসেনি। যদিও সম্ভাবনা কম নয়। আমরা প্রথম পূর্ণাঙ্গভাবে মেডিক্যাল সরঞ্জাম তৈরিতে এগিয়ে এসেছি। করোনা ঠেকাতে সরকারের পাশে পূর্ণাঙ্গভাবে দাঁড়িয়েছি। সরকারের কাছ থেকেও অনেক সহায়তা পেয়েছি।

করোনা মোকাবেলায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রমিস্কো প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আমাদের কারখানায় উৎপাদিত স্বাস্থ্য খাতে যেসব পণ্য অতি জরুরি তা সরবরাহে কোনো ত্রুটি রাখিনি। ফেস মাস্ক, পিপিই, হ্যান্ডগ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সু কাভার, হেড কাভার, আইসোলেশন গাউন, ইনফ্রারেড থার্মোমিটার, চশমা, ফেস শিল্ড, বুটস ও আইসিইউ বেড তৈরি করেছি। আর এসব পণ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহের চেষ্টা করেছি। সরবরাহের সময় মানের যাতে ঘাটতি না হয় সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য খাতে নিয়োজিত এনজিওতে চাহিদা মতো পণ্য সরবরাহে সক্ষম হয়েছি। সিংহভাগ কাঁচামাল যেহেতু দেশের বাইরে থেকে আসে, তাই বর্তমান এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে পণ্য সরবরাহে কিছুটা বাধার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আমরা সংকট থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। সুলভ মূল্যে আমরা পণ্য সরবরাহের জন্য প্রস্তুত আছি। কেউ যদি অনলাইনে অর্ডার কিংবা আমাদের হটলাইনে ফোন দেন, আমরা আমাদের সেই মানসম্মত পণ্য তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিই। এ সংকটকালীন মুহূর্তে যারা ঘরে বসে স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চান, তাঁদের নিত্যনতুন উদ্ভাবনগুলোকে মানব কল্যাণে ব্যয় করতে চাই আমরা। আর তাঁদের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে প্রমিস্কো। এ বিষয়ে আগামী দুই দিনের মধ্যেই ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা আসবে।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সময় দেশে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পর সবকিছু ঠিক হয়েছে। করোনা দুর্যোগে সবাই সচেতন হলেও আমরা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারব। যেকোনো দুর্যোগে মানবিক দিকটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এখন অনেকটা ভালো। মানবিক দিক থেকে সবাইকে আরো সোচ্চার হতে হবে। সবাই চেষ্টা করলে এই দুর্যোগ মোকাবেল করা সম্ভব।

করোনা প্রতিরোধে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা। সচেতন থাকা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। করোনা শুরুর দিকে অনেকে গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর সবকিছুই পাল্টে গেছে। মানুষের মধ্যে সক্রিয়তা বেড়েছে। করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী সবকিছু নিজে খোঁজ খবর নিয়ে করছেন। যতটুকু কঠোর হওয়া দরকার তিনি নির্দেশনা দিচ্ছেন। এক কথায় তিনি অভিভাবকের ভূমিকায় দাঁড়িয়েছেন। পুলিশ বাহিনীর সক্রিয়তাও প্রশংসাযোগ্য। পুলিশ জনগণের বন্ধু—এখন সেটা সত্যিকার অর্থেই পরিচয় দিচ্ছে। জনগণকে বুঝিয়ে ঘরে পাঠাচ্ছে।

মাস্ক ও  অন্যান্য পণ্য উৎপাদন চলছে খুব জোরেশোরে। সবার কাছেই মাস্ক পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যেন সবাই সুলভ মূল্যে পায় সেই দিকটায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় কাঁচামাল আনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। চীন এন-৯৫ মাস্ক তৈরি করেছে। কিন্তু আমরা সব ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ করে পিএন-৯৫ মাস্ক তৈরি করেছি। তিন বা পাঁচ স্তরের মাস্ক বানানো হয়েছে। করোনাভাইরাসকালে ফেস মাস্কের ক্ষেত্রে বড় সমাধান এনেছে প্রমিস্কো। পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বা পারসোনাল প্রটেকটিভ স্যুট (পিপিএস) তৈরি হচ্ছে। একজন ডাক্তার করোনা আক্রান্ত রোগীকে আইসিইউতে রাখতে গেলে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্যুট প্রয়োজন হয়। যেন ভাইরাস আসতে না পারে। ডাক্তারদের সুরক্ষায় সেই স্যুটের উৎপাদন চলছে। দেশে এখনো ভ্যান্টিলেশনের প্রয়োজন দেখা দেয়নি। পরবর্তী সময় প্রয়োজন হলেও সেটাও উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি সব প্রতিষ্ঠান গণভবন, বঙ্গভবন, সংসদ ভবনেও করোনা প্রতিরোধী পণ্য জোগান দিয়েছে প্রমিস্কো।

 

মেডিক্যাল সরঞ্জাম তৈরি প্রমিস্কোতে

করোনায় প্রয়োজনীয় সবই হচ্ছে দেশের প্রথম মেডিক্যাল সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রমিস্কো

স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরিতে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রমিস্কো গ্রুপ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চিকিৎসা সেবায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগান দিচ্ছে প্রমিস্কো। যদিও এসব সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি হতো। কিন্তু এখন দেশেই উৎপাদন হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে চলছে হাহাকার। আর দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের চিকিৎসা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরিতে আশার আলো ছড়াচ্ছে প্রমিস্কো গ্রুপ। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দেশে তৈরি করছে করোনা চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা উপকরণ। করোনা সচেতনতায় ফেস মাস্ক থেকে শুরু করে করোনা আক্রান্ত রোগীর সম্পূর্ণ চিকিৎসার সরঞ্জাম। এখন বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ থাকায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কারখানায় রাত-দিন সরঞ্জাম তৈরি করছে মানবসেবার এই প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মৌসুমী ইসলামের মতে, মেডিক্যাল সরঞ্জাম তৈরিতে প্রথম কম্পানি হিসেবে করোনা চিকিৎসায় দেশ ও মানুষের পাশে পূর্ণাঙ্গভাবে দাঁড়িয়েছে। দেশে গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারি অফিস ও বাসভবনে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানের চেয়ে আরো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতিও রয়েছে প্রমিস্কোর।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক বড় দেশ করোনা ঠেকাতে চিকিৎসা সরঞ্জামের জোগান ঠিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে দেশে করোনা চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জোগানে আশা দেখাচ্ছে প্রমিস্কো।

অপারেশন থিয়েটারের অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, অটোক্লাব বা স্ট্রেরিলাইজার, ইলেকট্রোসার্জিক্যাল ইউনিট, অবটেট্রিক টেবিল, ওটি লাইট ও টেবিল এবং সাকশন ইউনিট, কার্ডিওলজি ইক্যুইপমেন্টের মধ্যে ইসিজি-৩ ও ইসিজি ৬/১২ চ্যানেল তৈরি করছে। আইসিইউ ইক্যুইপমেন্টের ক্ষেত্রে ডেফিব্রিল্যাটর, আইসিইউ ভেন্টিলেটর, প্যাটেন্টস মনিটর ও পালস অক্সিমিটার। ল্যাব ইক্যুইপমেন্ট, ডেন্টাল ইক্যুইপমেন্ট, মোবাইল হসপিটাল ও ক্লিনিক, রেডিওলজি ও ইউরোলজি ইক্যুইপমেন্ট এবং হাসপাতাল ফার্নিচারের মধ্যে আইসিইউ বেড, হসপিটাল বেড, ট্রলি, কেবিনেট ও টেবিল-চেয়ার তৈরি করছে প্রমিস্কো।

করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রেও নানামুখী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রমিস্কো গ্রুপ। করোনায় ফেস মাস্ক, পিপিই, হ্যান্ডগ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সু কাভার, হেড কাভার, আইসোলেশন গাউন, ইনফ্রারেড থার্মোমিটার, চশমা, ফেস শিল্ড, বুটস ও আইসিইউ বেড তৈরি করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা