kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনায় বেড়েছে গ্লাভস পরার প্রবণতা

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ

জিয়াদুল ইসলাম   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় বেড়েছে গ্লাভস পরার প্রবণতা

প্রািণঘাতী করোনাভাইরাসের আতঙ্কে কাঁপছে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব। এ ভাইরাস থেকে বাঁচতে বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নাকে-মুখে-চোখে হাত না দেওয়া ও ভিড় এড়িয়ে চলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ঘরে থেকে বের হলেই মাস্কের পাশাপাশি হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দেশে মাস্কের পাশাপাশি হ্যান্ড গ্লাভস বা হাতমোজা পরার প্রবণতা বেড়ে গেছে। এতে পণ্যটির চাহিদা যেমন বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে দামও।

বর্তমানে ওষুধের ফার্মেসি ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে রাবারের তৈরি সাধারণ মানের এক জোড়া সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। গত কয়েক দিন রাজধানীর মাদারটেক, বাসাবো, মুগদা ও মালিবাগের বিভিন্ন ওষুধের দোকান ও ফুটপাত ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ—চাহিদা বাড়ায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে প্রতি বক্স (৫০ জোড়া) গ্লাভসের দাম পাইকারি বাজারে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও সেটি এখন গিয়ে ঠেকেছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এতে খুচরা পর্যায়েও দাম বেড়েছে।

বর্তমানে দেশে রাবারের তৈরি যেসব সার্জিক্যাল গ্লাভস পাওয়া যাচ্ছে তার বেশির ভাগই আমদানি করা। চীন, মালয়েশিয়া, ভারতসহ আরো কিছু দেশ থেকে এসব গ্লাভস আমদানি করা হয়ে থাকে। তবে দেশেও পলিথিন ও রাবারের তৈরি হ্যান্ড গ্লাভস তৈরি করছে কিছু কম্পানি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনাভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে হাতও দায়ী। এ জন্য সবাই এখন বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পাশাপাশি হ্যান্ড গ্লাভসও পরছে। করোনার কারণে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ডাক্তার ও নার্সদের মধ্যেও বেড়েছে সার্জিক্যাল গ্লাভসের ব্যবহার। এতে দেশের বাজারে হ্যান্ড গ্লাভসের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার প্রথম দিকে মাস্কের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল। তখন সাধারণ মানের ২০ থেকে ৩০ টাকার মাস্ক ৬০ থেকে ৮০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে। এরপর করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সুরক্ষা উপকরণ হিসেবে হ্যান্ড গ্লাভসের চাহিদাও বেড়ে গেছে। আগে সাধারণত হাসপাতালসংলগ্ন ওষুধের দোকানগুলোতে সার্জিক্যাল গ্লাভস পাওয়া যেত। তবে করোনা বিস্তারের পর থেকে সাধারণ অনেক ওষুধের দোকানেও গ্লাভস বিক্রি হতে দেখা যায়। ফলে রাজধানীর ওষুধ ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে প্রতিদিনই মানুষ হ্যান্ড গ্লাভস কেনার জন্য ভিড় করছে। যদিও বেশির ভাগ এলাকায়ই অধিকাংশ ফার্মেসির দোকানে পণ্যটি মিলছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

দক্ষিণ বাসাবোর পৌষ ফার্মার এক বিক্রয়কর্মী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম দিকে মাস্কের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে ফেললেও এখন তা নাগালের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু হ্যান্ড গ্লাভসের দাম কমছে না। এর কারণ পণ্যটি আমদানিনির্ভর হওয়ায় সরবরাহ কম। আমরা রাবারের তৈরি সাধারণ হ্যান্ড গ্লাভস প্রতি জোড়া ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করছি। কারণ আমাদের রাবারের তৈরি এক বক্স তথা ৫০ জোড়া হ্যান্ড গ্লাভস কিনতে খরচ হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। যা কয়েক দিন আগেও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় কিনতে পারতাম। তবে পলিথিনের তৈরি ৫০ জোড়া হ্যান্ড গ্লাভস পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।’

করোনা বিস্তারের পর থেকে প্রতিদিন মাদারটেক, বাসাবো ও মুগদা এলাকায় ভ্যানগাড়িতে করে মাস্ক ও গ্লাভস বিক্রি করছেন রুবেল। গত শুক্রবার সন্ধায় বাসাবো টেম্পোস্টেশনের বিপরীত পাশের ফুটপাতে তাঁর দোকানে কিছুটা ভিড় লক্ষ করা গেল।

হ্যান্ড গ্লাভসের চাহিদা কেমন জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, কয়েক দিন ধরে হ্যান্ড গ্লাভসের বিক্রি বেশি হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ জোড়া হ্যান্ড গ্লাভস বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের রাবারের হ্যান্ড গ্লাভসের চাহিদা বেশি।

দাম নিয়ে তিনি বলেন, হ্যান্ড গ্লাভসের পাইকারি বাজার মিটফোর্ড। আগে মিটফার্ড থেকে রাবারের তৈরি গ্লাভস প্রতি ৫০ জোড়া ৬০০ টাকায় কিনতে পারতাম। এখন দাম বেড়ে তা ৭০০ টাকায় ঠেকেছে।

রুবেলের দোকান থেকে ২৫ টাকা করে ১০ জোড়া গ্লাভস কেনেন বেসরকারি একটি স্কুলের শিক্ষিকা নাজমা আক্তার। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজার করাসহ বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হতে হয়। তাই সুরক্ষার জন্য এসব হ্যান্ড গ্লাভস কিনলাম। কয়েক দিন আগে ২০ টাকা জোড়া কিনলে এখন কিনলাম ২৫ টাকা। দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা