kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

ভেন্টিলেটর তৈরিতে বাংলাদেশের পাশে ওমর ইশরাক

প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মেডট্রনিক ♦ সংযোজনে কাজ শুরু করেছে ওয়ালটন, এমআইএসটি ♦ দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানিও হবে

মাসুদ রুমী   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভেন্টিলেটর তৈরিতে বাংলাদেশের পাশে ওমর ইশরাক

করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) আক্রান্তদের চিকিৎসায় বিশ্বজুড়েই ভেন্টিলেটর নিয়ে হাহাকার চলছে। এই ‘লাইফ সেভিং ডিভাইস’ নিয়ে যখন আমেরিকা-ইউরোপের মতো উন্নত দেশগুলোও চরম সংকটে পড়েছে তখন বাংলাদেশ এই যন্ত্র উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর উচ্চ প্রযুক্তির এই মেডিক্যাল ডিভাইসের পেটেন্ট, সফটওয়্যার, সোর্সকোর্ডসহ যাবতীয় সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ওমর ইশরাক। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেল করপোরেশন এবং ‘মেডট্রনিক’-এর চেয়ারম্যান তিনি। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মেডিক্যাল যন্ত্র নির্মাতা মেডট্রনিক্সের সহায়তা নিয়েই দেশে ভেন্টিলেটর তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিগগিরই বৈশ্বিক স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী দেশেই শীর্ষ ইলেকট্রনিক ম্যানুফ্যাকচারিং কম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ভেন্টিলেটর তৈরি হবে বলে আশা করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি)।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ওমর ইশরাক এগিয়ে এসেছেন তাঁর মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি তৈরির প্রতিষ্ঠান নিয়ে। ওমর ইশরাক চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির বিশ্বখ্যাত উৎপাদন প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও চেয়ারম্যান।

প্রকৌশলী ওমর ইশরাক এক টুইটে ভেন্টিলেটর তৈরির ডিজাইন উন্মুক্ত করার বিষয়ে জানান, বৈশ্বিক মহামারির এ সময়ে মেডট্রনিক ভেন্টিলেটর তৈরির কলাকৌশল উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিগত সোর্স কোডও উন্মুক্ত করা হয়েছে যেন এ দুর্যোগের সময় সক্ষম যেকোনো প্রতিষ্ঠান ভেন্টিলেটর উৎপাদন করতে পারে।

ওমর ইশরাক এ বিষয় নিয়ে একটি ফাইল শেয়ার করেছেন। এতে লেখা আছে, ভেন্টিলেটরের প্রযুক্তিগত নকশা এমনভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে যেন উৎপাদক প্রতিষ্ঠান, স্টার্ট আপ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহজেই যন্ত্রটি উৎপাদন করতে পারে। পিবি ৫৬০ নামের ওই ভেন্টিলেটরের পেটেন্ট উন্মুক্ত করা হয়েছে। ভেন্টিলেটরটির সেবার নির্দেশিকা (ম্যানুয়াল), নকশা বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি, উৎপাদন প্রক্রিয়ার তথ্য, রূপরেখা ও স্পেসিফিকেশন Medtronic.com/openventilator ওয়েবসাইট থেকে যে কেউ নিতে পারবেন।

পেটেন্ট উন্মুক্ত করায় বাংলাদেশ সরকারও স্থানীয় প্রকৌশলীদের সহায়তায় উৎপাদন করতে পারবেন। মেডট্রনিকের গবেষণা ও উন্নয়ন শাখার কর্মকর্তারা যেকোনো কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছেন।

ওমর ইশরাক বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন। বেড়ে উঠেছেন বাংলাদেশে। পরে যুক্তরাজ্যে তড়িৎ প্রকৌশলে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অতি সম্প্রতি তিনি কম্পিউটার চিপ নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ইন্টেল করপোরেশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিস্থিতি যদি খারাপের দিকে যায় তখন আমাদের ভেন্টিলেটর খুবই প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশেরই কৃতী সন্তান ওমর ইশরাক ভাইয়ের আগ্রহ ও সহযোগিতায় মেডট্রনিকের ভেন্টিলেটরের ডিজাইনিং, সোর্স কোর্ডসহ সব কিছু তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগ গ্রহণ করেছি। ওনার পেটেন্ট উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। টেসলা, ফোর্ডের মতো কম্পানি ভেন্টিলেটর উৎপাদনে গিয়েছে। আমরা মেডট্রনিকের সহায়তায় দেশে ওয়ালটনসহ ডিজিটাল ডিভাইস নির্মাতা কম্পানিগুলোর সহায়তায় শিগগিরই এটি তৈরি করতে পারব।’

মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) প্রফেসর মেজর ড. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘এটি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তরের একটি বড় সুযোগ। আমরা ভেন্টিলেটর সংযোজন নিয়ে কাজ শুরু করেছি। খুব শিগগির আমরা অ্যাসেম্বলি এবং ক্লিনিক্যাল টেস্টে যাব। এরপর প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে আমরা দেশীয় কম্পানিগুলোর মাধ্যমে ব্যাপক উৎপাদনে যাবে।’

এদিকে ওয়ালটন সূত্র জানায়, নিজস্ব কারখানায় ওয়ালটন অক্সিজেন ভেন্টিলেশন যন্ত্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এসব জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি শুরু করবে ওয়ালটন।

এ প্রসঙ্গে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বিশ্বখ্যাত মেডিক্যাল যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিকের সহায়তায় ওয়ালটন ভেন্টিলেটর তৈরিতে এগিয়ে এসেছে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দেশে ভেন্টিলেটর উৎপাদন হবে। এ ব্যাপারে আমরা ভীষণভাবে আশাবাদী।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ বলেন, ওয়ালটন সব সময় দেশের মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। সে জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষাকারী ভেন্টিলেটর, পিএপিআর (পাওয়ার এয়ার পিউরিফায়ার রেসপিরেটর), অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, ইউভি ডিসইনফেকট্যান্ট, সেফটি গগলস, প্রটেকটিভ শিল্ড, রেসপিরেটরি মাস্ক ইত্যাদি চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরিতে কাজ করছে ওয়ালটন।

বর্তমানে এসব চিকিৎসা সরঞ্জামের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) এবং ডিজাইন নিয়ে কাজ চলছে। কারখানাসহ অফিস ছুটি থাকলেও এ কাজে নিয়োজিত আছেন ওয়ালটনের অর্ধশতাধিক প্রকৌশলী। তাঁরা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশের জরুরি অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্র তৈরিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

ওয়ালটনের আরেক নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম বলেন, ‘প্রয়োজনের তাগিদে আমরা ভেন্টিলেটর উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে মনে রাখতে হবে, এটি একটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য। এটি উৎপাদন সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সম্ভাব্য স্বল্প সময়ের মধ্যে আমরা ভেন্টিলেটর উৎপাদনে যাব। দেশীয় চাহিদা পূরণ করে আছে রপ্তানির বিশাল সুযোগ।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা