kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

বাজারে সরবরাহ বাড়বে কেরু কম্পানির হ্যান্ড স্যানিটাইজারের

মানিক আকবর, চুয়াডাঙ্গা   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চীনের পর পৃথিবীর অন্য বেশ কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চাহিদা বেড়ে যায়। জীবাণুমুক্ত করার জন্য সাবান ও হ্যান্ড ওয়াশের পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজারও আলোচনায় আসে। তখনই সারা দেশে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের তীব্র সংকট দেখা দেয়। ওই সময়ই চুয়াডাঙ্গার কেরু অ্যান্ড কম্পানি কর্তৃপক্ষ হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি ও বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নেয়। কম্পানিটি চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায় অবস্থিত।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কম্পানি হ্যান্ড স্যানিটাইজার আগে কখনো তৈরি করেনি। তবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করতে যে কাঁচামাল দরকার তা কেরু অ্যান্ড কম্পানি আগে থেকেই তৈরি করে থাকে। এ কারণে কেরু কম্পানির জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করা কঠিন বিষয় ছিল না। গত ২৩ মার্চ থেকে প্রথমবারের মতো হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি শুরু করে কেরু অ্যান্ড কম্পানি। এর আগেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। কেরু অ্যান্ড কম্পানি হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করছে—এ খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোড়ন শুরু হয়। সারা দেশ থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চাহিদা আসতে থাকে কেরু অ্যান্ড কম্পানিতে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট বদর উদ্দিন বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর বলা হলো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। ঘন ঘন সাবান পানি কিংবা হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত ধুতে হবে। জীবাণু নাশ করার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। এর পর থেকেই হঠাৎ বাজার থেকে উধাও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। চুয়াডাঙ্গার ছোট-বড় সব ধরনের দোকানে খুঁজেছি হ্যান্ড স্যানিটাইজার, পাইনি। পরে আমার মেয়ে ঢাকা থেকে ছোট এক বোতলের একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাঠায়; কিন্তু একটিতে হবে না। আরো দরকার। চুয়াডাঙ্গার বাজারে খুব খুঁজলাম। কোথাও পাওয়া গেল না। অন্য কম্পানির ৫০ মিলিলিটার একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম ৪০ টাকা। সেটি বাজারে বিক্রি শুরু হলো ১০০-১২০ টাকা করে। তখনো কেরু অ্যান্ড কম্পানির হ্যান্ড স্যানিটাইজার বাজারে আসেনি। এখন পাওয়া যাচ্ছে। ১০০ মিলিলিটারের বোতলের দাম ৬০ টাকা। অন্য কম্পানির চেয়ে দামটা কমই বলা যায়।’

চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক কিশোর কুমার কুণ্ডু বলেন, কেরু যা যা তৈরি করে সব কিছুর গুণগত মান ভালো। কেরুর চিনি, ভিনেগার, স্পিরিট সবই ভালো। দেশের প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেরুর পণ্যের সুনাম রয়েছে। এ কারণেই যখন কেরু অ্যান্ড কম্পানি ঘোষণা দেয় তারা হ্যান্ড স্যানিটাইজার বাজারে আনবে তখনই মানুষ কেরুর স্যানিটাইজার বাজারে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এখন ওষুধের দোকানে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।

কেরু অ্যান্ড কম্পানির মহাব্যবস্থাপক (ডিস্টিলারি বিভাগ) ফিদা হোসেন বাদশা জানান, ১৯৩৮ সাল থেকে চিনির পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত ও উন্নতমানের অ্যালকোহল তৈরি করে আসছে কেরু অ্যান্ড কম্পানি। সেই বহরে এবার যুক্ত হলো হ্যান্ড স্যানিটাইজার। পরীক্ষা করে দেখা গেছে কেরুর হ্যান্ড সানিটাইজার ৯৯.৯৯ শতাংশ জীবাণু নাশ করতে পারে। এ কারণে কেরুর হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিঃসন্দেহে নির্ভরযোগ্য।

চুয়াডাঙ্গার এক ওষুধ ব্যবসায়ী বলেন, দেশের অনেক বেসরকারি কম্পানির হ্যান্ড স্যানিটাইজার বাজারে প্রচলিত আছে। নাম বলতে গেলে অনেক নাম বলতে হবে। দেশে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বড় ধরনের সংকট আগে কখনো দেখা যায়নি। এবার করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের মধ্যে স্যানিটাইজারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বাজারে সংকটও দেখা দেয়। সুযোগ নেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তাঁরা বেশি দামে বিক্রি শুরু করেন। হয়তো আর পাওয়া যাবে না—এই ভেবে অনেকে বেশি দাম দিয়েও স্যানিটাইজার কিনেছেন। কেরু কম্পানির স্যানিটাইজার বাজারে আসার পর এখন সংকট কেটেছে। এখন সহজেই পাওয়া যাচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। যাঁরা এরই মধ্যে ব্যবহার করেছেন তাঁরা স্যানিটাইজারটিকে ভালো বলে মন্তব্য করছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা