kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

চোরাপথে আসা মাস্ক খুলনার বাজারে

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রফিকুল ইসলাম থাকেন নগরীর মিস্ত্রিপাড়ায়। তিনি হাঁটতে হাঁটতে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের নগরীর শান্তিধামের মোড়ে একটি ওষুধের দোকানে এসেছেন মাস্ক কিনতে। সেই সঙ্গে কিনতে চান স্যানিটাইজারও। মুদি দোকানেও মাস্ক মিলছে, পাওয়া যাচ্ছে স্যানিটাইজারও। কিন্তু তাঁর আস্থা ওষুধের দোকানের মাস্ক ও স্যানিটাইজারে। তাঁর ধারণা, ওষুধের দোকানে যেগুলো বিক্রি হয় সেগুলোই খাঁটি।

তিনি সেখান থেকে পাঁচটি মাস্ক কিনলেন। দাম নিল ৫০০ টাকা। মাস্কগুলো কোথায় তৈরি, মানসম্পন্ন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করায় দোকানি জানালেন, ‘কম্পানির লোকেরা দিয়ে যায় বলে ভালো। আমরা তাই বিক্রি করি। তারা একটি দাম নেয়। সেই দামের সঙ্গে আমরা দুই-চার টাকা লাভ যোগ করে বিক্রি করি।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাস্ক প্রকৃতপক্ষে দুই ধরনের। সার্জিক্যাল মাস্ক ও কাপড়ের তৈরি সাধারণ মাস্ক। সার্জিক্যাল মাস্কগুলো একবারই ব্যবহার করা হয়, এগুলো চিকিৎসার সঙ্গে যুক্তরা বেশি ব্যবহার করেন। এই মাস্কগুলো চীন থেকে আমাদের দেশে আসত। বিক্রি হতো প্রতি পিস মাত্র পাঁচ টাকায়। করোনার প্রাদুর্ভাবে এই মাস্কের চাহিদা বাড়ে। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে মাস্কগুলোর প্রতিটি ২০০ টাকাও বিক্রি হয়েছে। একপর্যায়ে চীন সেগুলো রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।

সাধারণভাবে ধুলো-ময়লা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু মানুষ আগে থেকেই মাস্ক ব্যবহার করত, সেগুলো কাপড়ের তৈরি। মাস্কের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে এই কাপড়ের তৈরি মাস্ক ছেয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মাস্ক তৈরি করছে। প্রস্তুতকারকদের প্রতিনিধি, বিক্রয় প্রতিনিধি বা এই ব্যবসায়ে যুক্তরা এসব মাস্ক ওষুধের দোকানে সরবরাহ করছেন। আশ্চর্যের কথা, ভারতে তৈরি কাপড়ের মাস্কও দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। ভারত থেকে মাস্ক আমদানি হচ্ছে না। তাহলে কিভাবে আসছে?

একাধিক দোকানদার জানান, কিভাবে আসে তা জানি না; তবে আমাদের দোকানে পৌঁছে দিয়ে যায়, আমরা তাদেরকেই মূল্য পরিশোধ করি। যে দামে কিনি সাধারণত প্রতি পিসে পাঁচ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখন মার্জিক্যাল মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে, তা হাতে তৈরি কাপড়ের মাস্ক। সাধারণভাবে ৫০ টাকার নিচে কোনো মাস্ক নেই। কোনোটি ১০০ বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একই দশা স্যানিটাইজারেরও। চাহিদার কথা বিবেচনা করে নানা প্রতিষ্ঠান স্যানিটাইজার সরবরাহ করছে। বিক্রিও হচ্ছে নানা দামে। বিশেষ করে নামি প্রতিষ্ঠানের স্যানিটাইজারগুলো তার গায়ের দামে মিলছে না। গায়ের দামের চেয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণও নেওয়া হচ্ছে। আপনার প্রয়োজন হলে নেবেন, না হলে নেবেন না। এ ক্ষেত্রে বিক্রেতারা অনেক বেশি কঠিন। একজন না কিনলে অন্যজন নিচ্ছে। এই সুযোগে কোনো কোনো পণ্যে আসল দাম লেখাটি তুলে ফেলে নতুন দাম লেখা হয়েছে বা নতুন দামের স্টিকার বসানো হয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে না হেক্সিসল নামের হ্যান্ডরাব বা দূষণমুক্তকারী স্যানিটাইজারটি। চিকিৎসকরা এটি ব্যবহার করতেন। এটি বিজ্ঞানসম্মত জীবাণুনাশক। তা আর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নগরীর বঙ্গবন্ধু স্কয়ার বা সাবেক ময়লাপোতা মোড়ের ওষুধ ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনো জিনিসের চাহিদা বাড়লে দাম তো বাড়ে এটি স্বাভাবিক। করোনাভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের চাহিদা বেড়েছে; কিন্তু আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা প্রতিনিধিদের সরবরাহ করা পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। তারা যে দামে পণ্য আমাদেরকে সরবরাহ করে তার ওপর দুই-চার টাকা লাভ রেখে আমরা বিক্রি করি।’

তবে তিনি স্বীকার করেন, সব ব্যবসায়ী এক দামে বিক্রি করেন না। সুযোগ পেলেই বেশি দাম নেন। তিনি আরো জানান, আর ভারত থেকে অবৈধ পথে মাস্ক আসছে। যেহেতু বৈধ পথে মাস্ক আসছে না, তাহলে কিভাবে আসছে, সেই পথটি তো অবৈধ ছাড়া আর কিছুই নয়। যারা এর সঙ্গে যুক্ত, তারাই দোকানে দোকানে তা সরবরাহ করছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা