kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

কেরুর হ্যান্ড স্যানিটাইজার

১৫ দিনেও এলো না খোলাবাজারে

দিনে উৎপাদন ১০ হাজার ইউনিট

রোকন মাহমুদ   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৫ দিনেও এলো না খোলাবাজারে

ঘোষণা দিয়েও খোলাবাজারে দিতে পারছে না শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন কেরু অ্যান্ড কম্পানির হ্যান্ড স্যানিটাইজার। নিয়মিত উৎপাদন হলেও খোলাবাজারে কোথাও মিলছে না অতিপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটি। রাজধানীর অনেক ফার্মেসি সরকারি এ পণ্যটির বিষয়ে জানে না কিছুই। অথচ করোনা মহামারির এ সময় সাবান, মাস্কের মতো হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। খোলাবাজারে সরকারি প্রতিষ্ঠানের এ পণ্যটি না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কেরু বলছে, উৎপাদন সক্ষমতা কম থাকায় বাজারের চাহিদা অনুসারে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। আপাতত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে বিক্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন বাড়লে খোলাবাজারে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে সেটা কবে নাগাদ তা নিশ্চিত করে বলছে না কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা আতঙ্কের মধ্যেই গত ৮ মার্চ দেশে তিনজন আক্রান্ত রোগীর তথ্য প্রকাশ করেছে আইইডিসিআর। করোনা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে বিশেষজ্ঞরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনজন রোগী শনাক্তের ঘোষণার পরদিনই বাজার থেকে উধাও হয় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও রাব। কয়েক দিন পর এগুলো বাজারে এলেও দাম হয় আকাশছোঁয়া।

বাজারে পণ্য সংকট চরম পর্যায়ে এলে এগিয়ে আসে কেরু অ্যান্ড কম্পানি। তারা হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন এবং বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। পূর্ব ঘোষণা অনুসারে ‘কেরুজ হ্যান্ড স্যানিটাইজার’ নামে উৎপাদন শুরু করে। গত ২৪ মার্চ থেকে বিক্রিও শুরু করে। তখন পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত বিপণনকেন্দ্রে বিক্রি করা হলেও, দ্রুত এটি স্বল্পমূল্যে সারা দেশে বাজারজাতের কথা জানান কর্মকর্তারা। কেরুর ১০০ মিলি স্যানিটাইজারের সর্বোচ্চ মূল্য ৬০ টাকা, যা বাজারে থাকা যেকোনো কম্পানির হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চেয়ে অনেক কম বলে কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।

ওই সময় কেরু অ্যান্ড কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ আলী আনছারী বলেছিলেন, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে আমরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনের উদ্যোগ নিই। পরীক্ষায় দেখা গেছে, আমাদের রসায়নবিদদের মাধ্যমে তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ৯৯.৯৯ শতাংশ জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম।’

তিনি আরো বলেন, ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার বাজারজাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগে। যোগাযোগ করা হলে, তারা স্পিরিট বিক্রির লাইসেন্স থাকায় এটি বিক্রিতে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই বলে জানায়। চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন ১৬টি বিপণনকেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্যটি বিক্রি করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের ফার্মেসিতে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।’

কিন্তু উৎপাদন শুরু হওয়ার প্রায় ১৫ দিন কেটে গেলেও খোলাবাজারে আসেনি সেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার। রাজধানীর রামপুরার অধিবাসী বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. মানিক বলেন, ‘দেশের এই ক্রান্তিকালে সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের কথা ভেবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন করছে, এটি খুবই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু ঘোষণার অনেক দিন হয়ে গেছে, আমরা বাজারে পণ্যটি পাচ্ছি না। আরো দ্রুত পণ্যটি বাজারে আনা উচিত। সরকারি পণ্যটি বাজারে এলে হয়তো বেসরকারি উৎপাদনকারী কম্পানিগুলোর দামে নিয়ন্ত্রণ আসবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাহিদ আলী আনছারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ আমাদের সব ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট থেকে এখন চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস, সরকারি অফিস, বিভিন্ন বাহিনী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব চাহিদা পূরণ করতেই আমাদের হিমশিম খেতে হয়। খোলাবাজারে দেওয়ার মতো উৎপাদনে এখনো যেতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা খুবই কম। প্রথম তিন হাজার ইউনিট (১০০ মিলির বোতল) দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন তা ১০ হাজার ইউনিট উৎপাদন করতে পারছি। এসব স্যানিটাইজার ১০০টি করে ১০০টি কার্টনে ভরে সরবরাহ করা হচ্ছে। তার পরও চাহিদা মেটাতে পারছি না। ইথানল, রং ইত্যাদি কাঁচামাল সংকট, পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকা, বোতলসহ প্রয়োজনীয় প্যাকিং উপকরণ না থাকার কারণে আমরা উৎপাদন বাড়াতে পারছি না। তবে উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

এ পণ্যটি কম্পানির স্থায়ী পণ্য হিসেবেই থাকবে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চাহিদা সব সময়ই আছে এবং থাকবে।

বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম নিয়ে যখন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ফায়দা লুটতে ব্যস্ত তখন সরকারের পক্ষ থেকে পণ্যটির দাম নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। এ সময় এসকেএস ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার, এসিআইসহ প্রায় সব কম্পানির ৫০ মিলি হ্যান্ডরাব সলিউশনের দাম ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এখন অনেক কম্পানির হ্যান্ডরাব বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। যে কয়টি পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর দামও বেশি রাখা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা